ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০১৯
ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র প্রশ্ন
রাকিব প্রীতম সিরামিকের মালিক। শ্রমিক দুর্ঘটনার কারণে সৃষ্ট ঝুঁকি নিরসনকল্পে তিনি একটি বিমা কোম্পানির সাথে চুক্তিবদ্ধ হন। শ্রমিকদের কোনো দুর্ঘটনা সংঘটিত হলে তিনি বিমা কোম্পানির দ্বারস্থ হন এবং ক্ষতিপূরণ আদায় করে নিজেকে দায়মুক্ত রাখেন। এ ধরনের বিমাপত্রে কর্মী ও মালিক উভয় শ্রেণি উপকৃত হয়।
- ক)(1)
গবাদিপশু বিমা কী?
- খ)(2)
মৎস্য বিমার সামাজিক ঝুঁকিটি ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকে জনাব রাকিব কর্মীদের পক্ষে কোন ধরনের বিমাপত্র গ্রহণ করেন তা ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে আলোচিত বিমাপত্রে শ্রমিক-মালিক উভয় শ্রেণি উপকৃত হওয়ার যথার্থতা বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
গবাদিপশুর (যেমন: গরু, মহিষ ইত্যাদি) দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু, স্থায়ী অক্ষমতা বা রোগব্যাধিজনিত কারণে আর্থিক ক্ষতি থেকে রক্ষা পাওয়ার উদ্দেশ্যে যে বিমাপত্র গ্রহণ করা হয়, তাকে গবাদিপশু বিমা বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মৎস্য চাষে সমাজের মানুষের বিভিন্ন ক্ষতিকর কার্যকলাপ ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে সৃষ্ট আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কাকে মৎস্য বিমার সামাজিক ঝুঁকি বলা হয়।
মৎস্য খামারে বা জলাশয়ে বিষ প্রয়োগ করা, চুরি বা ডাকাতি হওয়া, শত্রুভাবাপন্ন প্রতিবেশীর মাধ্যমে মাছ ধ্বংস করা কিংবা সামাজিক দাঙ্গা-হাঙ্গামার কারণে মাছের খামারের ক্ষয়ক্ষতি ইত্যাদি সামাজিক ঝুঁকির অন্তর্গত। এ ধরনের মানবিক বা সামাজিক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ফলে মৎস্যচাষী বা মালিক যে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হন, তা সুরক্ষার জন্য মৎস্য বিমায় এই ঝুঁকি অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে জনাব রাকিব কর্মীদের পক্ষে 'শ্রমিক ক্ষতিপূরণ বিমাপত্র' (Workmen's Compensation Insurance) গ্রহণ করেন।
কর্মক্ষেত্রে দায়িত্ব পালনকালে দুর্ঘটনাজনিত কারণে কোনো শ্রমিক আহত, পঙ্গু বা মৃত্যুবরণ করলে দেশের প্রচলিত শ্রম আইন অনুযায়ী মালিকের ওপর শ্রমিককে ক্ষতিপূরণ প্রদানের আইনগত বাধ্যবাধকতা থাকে। এই দায়ভার মোকাবিলার জন্য মালিক যে বিমাপত্র গ্রহণ করেন, তাকে শ্রমিক ক্ষতিপূরণ বিমা বলে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, জনাব রাকিব প্রীতম সিরামিকের মালিক হিসেবে কারখানাটিতে শ্রমিকদের দুর্ঘটনাজনিত ঝুঁকির কারণে সৃষ্ট দায় থেকে নিজেকে মুক্ত রাখার জন্য বিমা করেছেন। কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে তিনি বিমা কোম্পানির কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায় করেন। ফলে এটি স্পষ্টতই শ্রমিক ক্ষতিপূরণ বিমাপত্র।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে আলোচিত শ্রমিক ক্ষতিপূরণ বিমাপত্রের মাধ্যমে শ্রমিক ও মালিক উভয় শ্রেণিই কার্যকরভাবে উপকৃত হয়—উক্তিটি সম্পূর্ণ যথার্থ।
উৎপাদনমুখী শিল্পকারখানায় কর্মরত শ্রমিকরা সবসময় মারাত্মক দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে থাকে। কর্মক্ষেত্রে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে শ্রম আইনানুযায়ী মালিকের পক্ষ থেকে ক্ষতিপূরণ প্রদান বাধ্যতামূলক। শ্রমিক ক্ষতিপূরণ বিমা এ ধরনের ক্ষতিপূরণের দায় বিমাকারীর ওপর ন্যস্ত করে।
এ বিমাপত্রের ফলে উভয় পক্ষই নির্দিষ্ট সুবিধা পায়:
১. শ্রমিক শ্রেণির সুবিধা: কারখানায় কর্মরত অবস্থায় কোনো শ্রমিক দুর্ঘটনার শিকার হয়ে অঙ্গহানি, পঙ্গুত্ব বা মৃত্যুর মুখে পতিত হলে শ্রমিক নিজে বা তার পরিবার দ্রুত ও নিশ্চিত ক্ষতিপূরণ পায়। এতে চিকিৎসার ব্যয় মেটানো সহজ হয় এবং পরিবারের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়।
২. মালিক শ্রেণির সুবিধা: আকস্মিক বড় ধরনের দুর্ঘটনায় একসাথে অনেক শ্রমিক ক্ষতিগ্রস্ত হলে এককালীন বিপুল অর্থ ক্ষতিপূরণ দেওয়া অনেক সময় প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে। এই বিমার কারণে মালিককে নিজ পকেট থেকে ক্ষতিপূরণ দিতে হয় না; বরং বিমা কোম্পানি ক্ষতিপূরণ পরিশোধ করে মালিককে আইনি ও আর্থিক দায় থেকে সুরক্ষা দেয়। এছাড়া প্রতিষ্ঠানের সুনাম ও শ্রমিকদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় থাকে।সুতরাং, এই বিমা একদিকে যেমন শ্রমিকের জীবনের নিরাপত্তা ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করে, অন্যদিকে মালিককে আকস্মিক বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতি ও আইনি ঝামেলা থেকে মুক্ত রাখে। তাই উভয় শ্রেণিই এর দ্বারা উপকৃত হয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও