বাংলা ১ম পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০১৯
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
গাছের একটি শসা চুরির অপরাধে দরিদ্র বালক ফজলকে নির্দয়ভাবে প্রহার করেন ধনী গৃহস্থ কোবাদ আলী। বালকটি আর্তনাদ করে বলে আর সে কখনও কিছু চুরি করবে না। ঘটনাটি দেখে মনু মাস্টারের প্রাণ কেঁদে ওঠে। দরিদ্র বালক ক্ষুধার জ্বালায় চুরি করেছে। নগণ্য একটি অপরাধে এমন অমানবিক শাস্তি! অথচ অন্যায়ভাবে কত মানুষের জমি দখল করে ধনী হয়েছেন কোবাদ আলী। মন খারাপ হলেও চুরির পক্ষ নিয়ে কথা বলার অবকাশ পান না মনু মাস্টার।
- ক)(1)
ওয়াটারলু যুদ্ধ কত সালে সংঘটিত হয়?
- খ)(2)
সমাজের ধনবৃদ্ধির অর্থ ধনীর ধনবৃদ্ধি।"- উক্তিটি সপ্রসঙ্গ ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের ফজল চরিত্রের সাথে 'বিড়াল' রচনার বিড়াল চরিত্রের সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য তুলে ধরো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের মনু মাস্টারের অসহায়ত্বই প্রতিফলিত হয়েছে কমলাকান্তের কথা ও আচরণে"- উক্তিটির যথার্থতা মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ওয়াটারলু যুদ্ধ ১৮১৫ সালে সংঘটিত হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"সমাজের ধনবৃদ্ধির অর্থ ধনীর ধনবৃদ্ধি"— উক্তিটি দিয়ে লেখক প্রচলিত সমাজব্যবস্থার একটি নির্মম বৈষম্যমূলক সত্য তুলে ধরেছেন।
প্রবন্ধকারের মতে, সমাজে সামগ্রিক সম্পদ বা ধন বৃদ্ধি পেলে দরিদ্র ও সাধারণ মেহনতি মানুষের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন ঘটে না। সেই বর্ধিত ধন মূলত পুঁজিপতি ও ধনী শ্রেণির হাতেই পুঞ্জীভূত হয়। ফলে ধনী আরও ধনী হয় এবং দরিদ্ররা আগের মতোই বঞ্চিত ও অনাহারক্লিষ্ট থেকে যায়। তাই ধনবৃদ্ধির সুফল সমগ্র সমাজের ওপর না বর্তে কেবল ধনীদের সম্পদ বৃদ্ধিতেই সীমাবদ্ধ থাকে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের ফজল চরিত্রের সাথে 'বিড়াল' রচনার বিড়াল চরিত্রের ক্ষুধার তাড়নায় অন্যের খাবার গ্রহণে সাদৃশ্য রয়েছে, তবে প্রতিবাদী চেতনা ও অধিকারসচেতনতার দিক থেকে তাদের মাঝে স্পষ্ট বৈসাদৃশ্য বিদ্যমান।
'বিড়াল' প্রবন্ধে দেখা যায়, ক্ষুধার্ত বিড়াল কমলাকান্তের জন্য রাখা দুধ খেয়ে ফেলে। মানুষের সমাজে যে বৈষম্য ও কৃপণতা, তার বিপরীতে বিড়ালটি নিজ জীবনধারণের তাগিদে দুধটুকু খেয়েছিল। উদ্দীপকের দরিদ্র বালক ফজলও তীব্র ক্ষুধার জ্বালায় ধনী গৃহস্থ কোবাদ আলীর গাছ থেকে একটি শসা চুরি করে। ক্ষুধার তাড়নায় অন্যের খাদ্যে হস্তক্ষেপ করার দিকটিতে ফজল ও বিড়ালের মধ্যে চমৎকার সাদৃশ্য রয়েছে।
অন্যদিকে, কোবাদ আলীর হাতে ধরা পড়ে ফজল নির্দয় প্রহার সহ্য করে আর্তনাদ করে জানায় যে সে আর কখনো চুরি করবে না। এখানে ফজলের অসহায় আত্মসমর্পণ ও ভীতি ফুটে উঠেছে। কিন্তু 'বিড়াল' রচনার মার্জার বা বিড়ালটি লাঠির তাড়া খেয়ে পালিয়ে গেলেও পরে কমলাকান্তের সাথে যুক্তিতর্কে অবতীর্ণ হয়। সে অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে সাম্যবাদী দর্শন ও অধিকারের পক্ষে জোরালো যুক্তি উপস্থাপন করে চুরির মূল কারণ হিসেবে ধনীদের কৃপণতা ও স্বার্থপরতাকে দায়ী করে। ফজল চরিত্রের মধ্যে এই প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর বা যুক্তিবাদী চরিত্রের কোনো প্রকাশ নেই— এখানেই উভয়ের বৈসাদৃশ্য।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের মনু মাস্টারের অসহায়ত্ব এবং 'বিড়াল' প্রবন্ধের কমলাকান্তের অনুভূতি ও আচরণের বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, উক্তিটি পুরোপুরি যথার্থ নয়; বরং আংশিকভাবে সত্য।
উদ্দীপকে দেখা যায়, শসা চুরির অপরাধে দরিদ্র বালক ফজলকে নির্দয়ভাবে প্রহার করতে দেখে মনু মাস্টারের প্রাণ কেঁদে ওঠে। কোবাদ আলীর মতো মানুষেরা অবৈধভাবে ধনী হলেও সমাজ তাদের কিছু বলে না, অথচ এক ক্ষুধার্থ বালকের লঘু পাপে গুরুদণ্ড দেওয়া হচ্ছে— তা দেখেও মনু মাস্টার সরাসরি চুরির পক্ষ নিতে পারেন না। সামাজিক ও প্রচলিত নিয়মের বাঁধনে তিনি অসহায় ও নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেন।
'বিড়াল' প্রবন্ধে কমলাকান্ত বিড়ালের সমাজতান্ত্রিক ও যুক্তিনিষ্ঠ কথা শুনে হতভম্ব ও বিস্মিত হন। বিড়ালের সওয়াল-জবাব শুনে কমলাকান্ত উপলব্ধি করেন যে বিড়ালের কথাই সত্য— দরিদ্রের চুরির জন্য সমাজ ও ধনীদের কৃপণতাই দায়ী। মনু মাস্টারের মতো কমলাকান্তও বুঝতে পেরেছিলেন যে চোরের কোনো দোষ নেই, দোষ সমাজের। তবে কমলাকান্ত পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় থাকেননি; বিড়ালটির যুক্তির সামনে পরাস্ত হয়ে তিনি প্রচলিত নীতিশাস্ত্রের ফাঁপা বুলি আউড়ে নিজের মর্যাদা রক্ষার চেষ্টা করেন এবং পরবর্তীতে বিড়ালটিকে মিষ্টি খেতে দিয়ে সান্ত্বনা দেন। মনু মাস্টারের মনে শুধুই নৈতিক টানাপোড়েন ও অসহায় নীরবতা লক্ষ করা যায়, কিন্তু কমলাকান্তের মধ্যে অসহায়ত্বের চেয়ে বিড়ালের দর্শনের গভীরতা এবং দার্শনিক ভাবালুতার প্রকাশই বেশি ঘটেছে।
অতএব, মনু মাস্টার ও কমলাকান্ত উভয়েই অন্যায্য ব্যবস্থার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে দাঁড়াতে না পারার সীমাবদ্ধতা বা মানসিক দ্বন্দ্বে একবিন্দুতে মিললেও, কমলাকান্ত কেবল অসহায় ছিলেন না, তিনি বিড়ালের ক্ষুরধার যুক্তির সমঝদার ও সহমর্মীও ছিলেন। তাই সামগ্রিক বিবেচনায় উদ্দীপকের মনু মাস্টারের অসহায়ত্বই কেবল কমলাকান্তের চরিত্রে প্রতিফলিত হয়েছে— এ দাবি আংশিক সত্য হলেও সম্পূর্ণরূপে যথার্থ নয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও