অর্থনীতি ২য় পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০১৬
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
কবির সাহেব আবেদনপূর্বক "X" কোম্পানির ১০০ টাকার অভিহিত মূল্যের ৫০০টি শেয়ার ক্রয় করলেন। পরবর্তীতে তিনি অর্ধেক শেয়ার প্রতিটি ২০০ টাকা দামে বিক্রয় করলেন। এক বছর পর কবির সাহেবের শেয়ার হিসাবে বিনামূল্যে উক্ত কোম্পানির কিছু শেয়ার যুক্ত হলে তিনি খুশি হলেন।
- ক)(1)
শেয়ার বাজার কী?
- খ)(2)
অর্থায়নের ক্ষেত্রে মূলধন বাজার কেন গুরুত্বপূর্ণ?
- গ)(3)
উদ্দীপকে বর্ণিত শেয়ারের নাম লেখ।
- ঘ)(4)
কবির সাহেবের বিনামূল্যে অর্জিত শেয়ারের সাথে রাইট শেয়ারের তুলনা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে সংগঠিত বাজারে বিভিন্ন যৌথ মূলধনী কোম্পানির শেয়ার, স্টক, ডিবেঞ্চার ইত্যাদি কেনাবেচা বা লেনদেন করা হয়, তাকে শেয়ার বাজার বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মূলধন বাজার মূলত দীর্ঘমেয়াদি অর্থসংস্থানের ক্ষেত্র হিসেবে কাজ করে। বৃহৎ শিল্প প্রতিষ্ঠা, অবকাঠামো নির্মাণ ও ব্যবসার দীর্ঘমেয়াদি সম্প্রসারণের জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন হয়, যা বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর স্বল্পমেয়াদি ঋণ দিয়ে মেটানো ঝুঁকিপূর্ণ। মূলধন বাজারে শেয়ার, বন্ড ও ডিবেঞ্চার বিক্রির মাধ্যমে জনগণ ও প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয়কে উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগে রূপান্তর করা হয়, যা অর্থনৈতিক উন্নয়নের চাকা সচল রাখে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত তথ্যের আলোকে দুই ধরনের শেয়ারের উল্লেখ রয়েছে:
১. সাধারণ শেয়ার (Ordinary Share): কবির সাহেব প্রথমে অভিহিত মূল্যে 'X' কোম্পানির যে ৫০০টি শেয়ার ক্রয় করেন এবং পরবর্তীতে যার অর্ধেক বিক্রি করেন, তা হলো 'সাধারণ শেয়ার'।
২. বোনাস শেয়ার (Bonus Share): বছরান্তে কোম্পানি কর্তৃক বিনামূল্যে কবির সাহেবের শেয়ার হিসাবে যে শেয়ারগুলো যুক্ত করা হয়েছে, তা হলো 'বোনাস শেয়ার'। কোম্পানি তার অর্জিত মুনাফা নগদ লভ্যাংশ হিসেবে বণ্টন না করে তা মূলধনায়নের মাধ্যমে বিদ্যমান শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে বিনামূল্যে বণ্টন করলে তাকে বোনাস শেয়ার বলা হয়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কবির সাহেবের বিনামূল্যে অর্জিত শেয়ারটি হলো 'বোনাস শেয়ার'। নিচে বোনাস শেয়ারের সাথে 'রাইট শেয়ার'-এর তুলনা করা হলো:
১. মূল্য পরিশোধ: বোনাস শেয়ার শেয়ারহোল্ডাররা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পেয়ে থাকেন, এর জন্য কোনো অর্থ পরিশোধ করতে হয় না। পক্ষান্তরে, রাইট শেয়ার ক্রয়ের জন্য বিদ্যমান শেয়ারহোল্ডারদের নির্ধারিত মূল্য (সাধারণত বাজারমূল্য থেকে কিছুটা কম মূল্যে) পরিশোধ করতে হয়।
২. তহবিলের উদ্দেশ্য: বোনাস শেয়ার ইস্যু করা হয় মূলত কোম্পানির সঞ্চিত তহবিল বা মুনাফাকে পরিশোধিত মূলধনে রূপান্তর (মূলধনায়ন) করার জন্য; এর মাধ্যমে নতুন নগদ তহবিল সংগৃহীত হয় না। অন্যদিকে, রাইট শেয়ার ইস্যু করার প্রধান উদ্দেশ্য হলো কোম্পানির সম্প্রসারণের জন্য বিদ্যমান শেয়ারহোল্ডারদের মাধ্যমে নতুন মূলধন বা নগদ অর্থ সংগ্রহ করা।
৩. অধিকার ও বাধ্যবাধকতা: বোনাস শেয়ার শেয়ারহোল্ডারদের হিসাবে সরাসরি যুক্ত হয়, এটি প্রত্যাখানের কোনো সুযোগ থাকে না। কিন্তু রাইট শেয়ার হলো বিদ্যমান শেয়ারহোল্ডারদের একটি অধিকার বা অগ্রাধিকার—শেয়ারহোল্ডার ইচ্ছা করলে এই শেয়ার ক্রয় করতে পারেন অথবা তা অন্যের কাছে হস্তান্তর/পরিত্যাগ করতে পারেন।
সুতরাং, দুটি শেয়ারই বিদ্যমান শেয়ারহোল্ডারদের আনুপাতিক হারে বরাদ্দ দেওয়া হলেও তাদের মূল্য পরিশোধ ও উদ্দেশ্যগত দিক থেকে স্পষ্ট পার্থক্য বিদ্যমান।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও