সহপাঠ • উপন্যাস: লালসালু • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২৩
সহপাঠ প্রশ্ন
আশেকনগর গ্রামের এনায়েতউল্লাহ উত্তরাধিকারসূত্রে একজন পীর। অঢেল তার ধনসম্পদ। কিন্তু ঘরে তার কোনো পুত্র সন্তান না থাকায় মনে তার শূন্যতা। তাই বার্ষিক জলসা শেষ হওয়ার পরপরই এনায়েত দ্বিতীয় বিবাহ সেরে ফেলে। নতুন বউ অল্পবয়সী, দেখতে অতি নিরীহ গোছের-একেবারে এনায়েতের মনের মত। কিন্তু অল্প দিনের মধ্যেই সে বেরিয়ে আসে ঘোমটা থেকে, কথা বলে অনবরত এবং হাসতে থাকে খলখল শব্দে। পীর স্বামী তাকে মাজারের ভয় দেখায়, শরীয়ত-মারফত শেখায় এবং পাক মাজারের সাথে ঠিকভাবে আচরণের জন্য শাসায়। কিন্তু নতুন বউ সারার মনে প্রবল বিদ্রোহ। সে তার বাবার বয়সী স্বামীকে কোনোমতেই সহ্য করতে পারে না। এনায়েত বিচলিত হয়।
- ক)(1)
ইউনিয়ন বোর্ডের প্রেসিডেন্টের নাম কী?
- খ)(2)
“সে বলে পীর সাহেব সূর্যকে ধরে রাখার ক্ষমতা রাখে।” —উক্তিটিতে কী প্রকাশ পেয়েছে?
- গ)(3)
উদ্দীপকের সারার সাথে 'লালসালু' উপন্যাসের জমিলা চরিত্রের সাদৃশ্য তুলে ধর।
- ঘ)(4)
“উদ্দীপকটিতে 'লালসালু' উপন্যাসের একটি খণ্ডাংশের ইঙ্গিত রয়েছে মাত্র।” —মন্তব্যটি বিশ্লষণ কর ।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ইউনিয়ন বোর্ডের প্রেসিডেন্টের নাম মতলুব খাঁ।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উক্তিটিতে ভণ্ড পীর মজিদের প্রতি অন্ধ ধর্মভীরু গ্রামবাসীর গভীর কুসংস্কার ও অবিচল অন্ধবিশ্বাসের প্রতিফলন ঘটেছে।
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর ‘লালসালু’ উপন্যাসে মোদাব্বের মিঞার ছেলে রহিম ভণ্ড পীর মজিদের অলৌকিক ক্ষমতা সম্পর্কে এই অবাস্তব ও অন্ধ মন্তব্যটি করে। মজিদ ধর্মকে ব্যবসায়িক স্বার্থে ব্যবহার করে সাধারণ গ্রামীণ মানুষের অজ্ঞতা ও অন্ধবিশ্বাসকে পুঁজি করে নিজের প্রতাপ প্রতিষ্ঠিত করেছিল। সাধারণ মানুষ এতটাই ধর্মান্ধ ও কুসংস্কারাচ্ছন্ন ছিল যে, তারা বিশ্বাস করত মজিদ ইচ্ছা করলে আকাশ থেকে সূর্যকে নামিয়ে ধরে রাখতে পারে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের সারার সাথে ‘লালসালু’ উপন্যাসের দ্বিতীয় স্ত্রী জমিলা চরিত্রের অবাধ্যতা, ধর্মীয় ভণ্ডামির শাসন না মানা এবং প্রবল ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যের দিক থেকে গভীর সাদৃশ্য রয়েছে।
‘লালসালু’ উপন্যাসে ভণ্ড ধর্মব্যবসায়ী মজিদ তার সংসারে কাজের সুবিধার্থে অল্পবয়সী জমিলাকে দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে বিবাহ করে এনেছিল। কিন্তু জমিলা ছিল প্রাণোচ্ছল, চঞ্চল ও অবাধ স্বভাবের। মজিদের গম্ভীর চালচলন, মাজারকেন্দ্রিক ভয়ভীতি ও কঠোর পর্দা-শাসনের শৃঙ্খল সে মেনে নিতে পারেনি। সে মনের অগোচরেই মজিদের মাজার ব্যবসা ও শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে নীরব ও সোচ্চার বিদ্রোহ ঘোষণা করেছিল।
উদ্দীপকের সারাও অল্প বয়সে বয়োবৃদ্ধ পীর এনায়েতউল্লাহর দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে ঘরে আসে। কিন্তু সে অল্প দিনেই ঘোমটা খুলে ফেলে, অনবরত কথা বলে এবং উচ্চস্বরে হাসে। স্বামীর মাজারের ভয়ভীতি ও শরীয়ত-মারফতের অনুশাসন অগ্রাহ্য করে সে মনে মনে বাবার বয়সী স্বামীর প্রতি তীব্র বিদ্রোহ পোষণ করে। সারার এই বাঁধভাঙা চঞ্চলতা ও শাসন অস্বীকারের মনোভাব ‘লালসালু’ উপন্যাসের জমিলার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের সাথে হুবহু সাদৃশ্যপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
“উদ্দীপকটিতে ‘লালসালু’ উপন্যাসের একটি খণ্ডাংশের ইঙ্গিত রয়েছে মাত্র।”—মন্তব্যটি যথার্থ ও সুপ্রতিষ্ঠিত।
উদ্দীপকে কেবল এনায়েতউল্লাহ নামক পীরের দ্বিতীয় বিবাহ এবং তার অল্পবয়সী স্ত্রী সারার বিদ্রোহের দিকটি উপস্থাপিত হয়েছে। এই ঘটনাটি সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর ‘লালসালু’ উপন্যাসের মজিদের সাথে কিশোরী জমিলার বিবাহ এবং জমিলার অবাধ্য আচরণের খণ্ডাংশটির প্রতিফলন ঘটায়।
কিন্তু ‘লালসালু’ উপন্যাসের ব্যাপ্তি ও বিষয়বস্তু এর চেয়ে অনেক বেশি বিস্তৃত ও বহুমুখী। উপন্যাসে দেখানো হয়েছে কীভাবে মহব্বতনগর গ্রামে একটি অচেনা পরিত্যক্ত কবরকে ‘মোদাচ্ছের পীর’-এর মাজার দাবি করে শূন্যহাতে আসা মজিদ তার অস্তিত্বের ভীত গড়ে তোলে। এরপর ধর্মের নাম ভাঙিয়ে ভীতি ও সংস্কারের আবহ সৃষ্টি করে সমস্ত গ্রামের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নিয়ে নেয়। উপন্যাসে খালেক ব্যাপারী, রহিমা, তাহের-কাদের, আক্কাস এবং সর্বোপরি জমিলার মাধ্যমে মজিদের ক্ষমতার জটিল রাজনীতি, অস্তিত্ব রক্ষা ও সমাজের ধর্মীয় শোষণের সার্বিক চালচিত্র অত্যন্ত নিপুণভাবে উন্মোচিত হয়েছে।
উদ্দীপকে মজিদের শোষণযন্ত্র, সমাজবাস্তবতা, গ্রামবাসীর অজ্ঞতা ও সার্বিক আধিপত্য বিস্তারের ইতিহাস অনুপস্থিত; সেখানে কেবল জমিলার মতো একটি চরিত্রের দাম্পত্য বিরোধ ও অবাধ্যতার সামান্য খণ্ডচিত্র স্থান পেয়েছে। অতএব, সমগ্র উপন্যাসের বিশাল প্রেক্ষাপটের তুলনায় উদ্দীপকটি নিঃসন্দেহে একটি ক্ষুদ্র খণ্ডাংশের ইঙ্গিতবাহী মাত্র।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও