সাহিত্য পাঠ • তাহারেই পড়ে মনে • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২৫

সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন

প্রায় দুই বছর আগে প্রকৌশলী সালামের সাথে ডাক্তার সোনিয়ার বিয়ে হয়। স্বামীর উৎসাহ-উদ্দীপনায় ডাক্তার সোনিয়া পরম মমতায় রোগীদের চিকিৎসা সেবা দেন। তাতে রোগীরা দ্রুত আরোগ্য লাভ করেন। ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি ভাল চিকিৎসক হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেন। একদিন কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে বেড়াতে গিয়ে সোনিয়ার স্বামী সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান। এ কারণে সোনিয়া মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। চিকিৎসা সেবা কিংবা ব্যক্তিগত কোনো কাজেই আর তার মন বসে না। বাস্তবতার চিন্তায় সোনিয়ার বাবা-মা তাকে পুনরায় এক ডাক্তারের সাথে বিয়ে দেন। কিন্তু কিছু দিন পর পরই তার স্বামীর স্মৃতি মনে পড়ে। ফলে প্রায়ই তিনি ভারাক্রান্ত মনে বাসার বারান্দায় বসে থাকেন।

  1. ক)

    সুফিয়া কামাল কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?

    (1)
  2. খ)

    'উপেক্ষায় ঋতুরাজে কেন কবি দাও তুমি ব্যথা'-উক্তিটির তাৎপর্য তুলে ধর।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের সোনিয়া এবং 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার ভাব-চেতনার সাদৃশ্য-বৈসাদৃশ্য পর্যালোচনা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের সোনিয়া এবং 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার মর্মানুভূতিকে একই বৃত্তে বাঁধা যায় কি-না? বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কবি সুফিয়া কামাল বরিশালের শায়েস্তাবাদে তাঁর মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'উপেক্ষায় ঋতুরাজে কেন কবি দাও তুমি ব্যথা'- চরণটি দ্বারা কবি-ভক্ত কবির উদাসীনতা ও বসন্তকে বরণ না করার কারণ জানতে চেয়ে গভীর বেদনাবোধ প্রকাশ করেছেন।

    প্রকৃতিতে রূপ-লাবণ্য নিয়ে ঋতুরাজ বসন্তের আগমন ঘটলেও কবি সুফিয়া কামাল নীরব ও বিষণ্ন হয়ে বসে থাকেন। তিনি বসন্তকে বরণ করে কোনো কবিতা বা গান রচনা করেননি। কবির এই উদাসীনতা ও মুখ ফিরিয়ে নেওয়া ঋতুরাজ বসন্তের প্রতি এক প্রকার অনাদর ও আঘাতস্বরূপ। তাই কবি-ভক্ত ব্যথিত হয়ে কবিকে এই উদাসীনতার কারণ জিজ্ঞেস করেছেন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের সোনিয়া এবং 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার কবির মধ্যে প্রিয়জন হারানোর শোকানুভূতিতে সাদৃশ্য থাকলেও পরবর্তী মানসিক অবস্থা ও বাস্তব জীবনের পদক্ষেপে বৈসাদৃশ্য দেখা যায়।

    'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় কবির স্বামী ও কাব্যসাধনার প্রেরণা সৈয়দ নেহাল হোসেনের আকস্মিক মৃত্যুতে কবির অন্তরে গভীর শূন্যতা বিরাজ করে। প্রকৃতির অপরূপ বসন্তের আগমনও কবির শোকবিহ্বল মনকে স্পর্শ করতে পারে না। তিনি বসন্তের সৌন্দর্য উপেক্ষা করে স্বামীর স্মৃতির বেদনায় নিমগ্ন থাকেন।

    উদ্দীপকের সোনিয়াও অনুরূপভাবে স্বামী প্রকৌশলী সালামের অকাল সড়ক দুর্ঘটনায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং স্বামীর স্মৃতি তাঁকে তাড়া করে ফেরে—এখানে কবিতার ভাবচেতনার সাথে সাদৃশ্য রয়েছে। তবে বৈসাদৃশ্য হলো, সোনিয়া বাস্তবতা মেনে নিয়ে বাবা-মায়ের ইচ্ছায় পুনরায় বিয়ে করেন, যদিও তিনি স্মৃতি ভুলতে পারেন না। পক্ষান্তরে, কবিতার কবি বাস্তবতার সাথে কোনো বাহ্যিক আপস করেননি; তাঁর অন্তরের শোক প্রকৃতির সমস্ত আনন্দকে সম্পূর্ণরূপে ঢেকে দিয়েছে এবং তিনি আজীবন সেই শোকের মধ্যেই একাকী নিমগ্ন থেকেছেন।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের সোনিয়া এবং 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার মর্মানুভূতিকে প্রিয়জন হারানোর গভীর বিষাদ ও স্মৃতিবেদনার দিক থেকে একই বৃত্তে বাঁধা যায়।

    'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় কবি সুফিয়া কামালের সাহিত্যসাধনার প্রধান অনুপ্রেরণা ছিলেন তাঁর প্রয়াত স্বামী। তাঁর মৃত্যুতে কবির জীবনে যে নিঃসঙ্গতা ও রিক্ততা নেমে আসে, তা প্রকৃতির কোনো সৌন্দর্য বা রূপ-রং মুছে দিতে পারে না। কবির সমস্ত অনুভূতি জুড়ে শুধুই বিরাজ করে প্রিয়তমের হারানোর হাহাকার।

    উদ্দীপকে ডাক্তার সোনিয়ার জীবনের সার্বিক সাফল্যের পেছনে তাঁর স্বামীর প্রেরণা ছিল অনন্য। স্বামীর আকস্মিক মৃত্যুতে তিনি তীব্র মানসিক আঘাতে বিপর্যস্ত হন। যদিও সামাজিক ও বাস্তবতার প্রেক্ষিতে তাঁর দ্বিতীয় বিয়ে সম্পন্ন হয়, তবুও অন্তরের গভীর থেকে প্রথম স্বামীর স্মৃতি তিনি মুছে ফেলতে পারেননি। বারান্দায় উদাস ও ভারাক্রান্ত মনে বসে থাকার মাধ্যমে তাঁর সেই অপূরণীয় শূন্যতা এবং স্মৃতির ভারই ফুটে ওঠে।

    উভয় ক্ষেত্রেই দেখা যায়, বাহ্যিক পরিবেশ পরিবর্তিত হলেও মনের গভীরে প্রিয়জনের স্মৃতি অমলিন থাকে এবং এক নিদারুণ একাকীত্ব ও বিষাদময় অনুভূতি অন্তরকে গ্রাস করে রাখে। এই চিরন্তন শোক ও স্মৃতিবেদনার মেলবন্ধনে উভয়ের মর্মানুভূতি মূলত একই মানবিক আবেগের বৃত্তে আবদ্ধ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন