বাংলা ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৫
বাংলা ২য় পত্র প্রশ্ন
10.
(ক) সারাংশ লেখ:অনেকের ধারণা এই যে, মহৎব্যক্তি শুধু উচ্চবংশেই জন্মগ্রহণ করিয়া থাকেন, নিচুকূলে মহতের জন্ম হয় না। কিন্তু প্রকৃতির দিকে দৃষ্টিপাত করিলেই দেখা যায় মানুষের ধারণা অতিশয় ভ্রমাত্মক। পদ্মফুল ফুলের রাজা। রূপে গল্পে সে অতুলনীয়। কিন্তু ইহার জন্য হয় পানের অযোগ্য পানিভরা এঁদো পুকুরে। পক্ষান্তরে বটবৃক্ষ বৃক্ষের মধ্যে বিশেষ মর্যাদাসম্পন্ন বটে, অথচ বহু বৃক্ষের ফল আমরা আস্বাদন করি, এত খ্যাতনামা যে বটগাছ তার ফল আমাদের অখাদ্য।অথবা,(খ) ভাব-সম্প্রসারণ কর।মানুষ বাঁচে তার কর্মের মধ্যে, বয়সের মধ্যে নহে।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
(ক) সারাংশ:
মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব তার বংশমর্যাদা বা আভিজাত্যে নয়, বরং তার গুণ ও কর্মে নিহিত। আবর্জনাময় জলাশয়ে ফুটেও পদ্মফুল যেমন তার অপার সৌন্দর্যে পুষ্পরাজ হিসেবে সমাদৃত হয়, তেমনি উচ্চ বংশে জন্ম নিয়েও কর্মহীন ব্যক্তি সমাজে মূল্যহীন। সুতরাং, জন্মের পরিবেশ নয়, কাজের কল্যাণকারিতাই মানুষের আসল পরিচয় নির্ধারণ করে।
অথবা,
(খ) ভাব-সম্প্রসারণ:
মানুষ বাঁচে তার কর্মের মধ্যে, বয়সের মধ্যে নহে।
মূলভাব: মানুষের জীবনের সার্থকতা ও স্থায়িত্ব নির্ধারিত হয় তার কল্যাণমুখী কর্মের মাধ্যমে, পার্থিব আয়ু বা বয়সের পরিমাপে নয়। মহৎ কর্মের মধ্য দিয়েই মানুষ মরণশীল পৃথিবীতে অমরত্ব লাভ করে।
সম্প্রসারিত ভাব: মানবজীবন সীমাবদ্ধ সময়ের এক ক্ষুদ্র প্রবাহ। প্রকৃতির অমোঘ নিয়মে প্রতিটি মানুষকেই মৃত্যুর মুখোমুখি হতে হয়। কেবল বছরের পর বছর নিঃশ্বাস নিয়ে দীর্ঘ জীবন লাভ করাই মানবজন্মের প্রকৃত সার্থকতা নয়। একজন মানুষ কত বছর বেঁচে রইল তা মানবসমাজে কোনো গুরুত্ব বহন করে না, বরং বেঁচে থাকার সেই সময়টুকুতে সে সমাজের ও মানবতার কল্যাণে কী অবদান রেখে গেল, সেটাই আসল বিবেচ্য।
স্বার্থপর ও নিষ্ক্রিয়ভাবে শত বছর বেঁচে থাকার চেয়ে মানবকল্যাণে উৎসর্গীকৃত স্বল্পায়ু জীবন অনেক বেশি গৌরবোজ্জ্বল। পৃথিবীর ইতিহাসে যাঁরা চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন, তাঁদের অনেকেই দীর্ঘায়ু পাননি। হজরত মুহাম্মদ (সা.), যিশুখ্রিস্ট, স্বামী বিবেকানন্দ, সুকান্ত ভট্টাচার্য, জন কিটস প্রমুখ মনীষী স্বল্পায়ু পেয়েও তাঁদের সৃষ্টি ও মহৎ কর্মের মাধ্যমে অনন্তকাল ধরে মানুষের হৃদয়ে বেঁচে আছেন। পক্ষান্তরে, স্বার্থপর ও কর্মহীন মানুষ দীর্ঘদিন বেঁচে থাকলেও মৃত্যুর সাথে সাথে বিস্মৃতির অতলে হারিয়ে যায়।
মন্তব্য: কর্মহীন দীর্ঘ জীবন অর্থহীন। তাই ক্ষণস্থায়ী জীবনকে মহিমান্বিত করতে হলে পরোপকার ও সৃষ্টিশীল কর্মে আত্মনিয়োগ করতে হবে। সৎ ও মহৎ কর্মই মানুষকে মৃত্যুর পরেও অমর করে রাখে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও