‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০১৭

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

‘ক’ রাষ্ট্রের স্বাধীনতার পর থেকেই শাসকগোষ্ঠী রাষ্ট্রের একটি অঞ্চলের জনগণের প্রতি বিমাতাসুলভ আচরণ শুরু করে। শাসকগোষ্ঠীর নিপীড়ন-নির্যাতনের বিরুদ্ধে জনগণ ঐক্যবদ্ধ হয় এবং এক পর্যায়ে জনগণের প্রিয় নেতা শাসকগোষ্ঠীর কাছে কিছু দাবি উত্থাপন করেন।

  1. ক)

    ছয়-দফা কর্মসূচি কী?

    (1)
  2. খ)

    আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের সাথে তোমার পঠিত ছয়-দফা কর্মসূচির কোনো সাদৃশ্য আছে কি? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ কর্মসূচি ছিল বাঙালির মুক্তির সনদ— বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৯৬৬ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তৎকালীন পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে যে ঐতিহাসিক দাবি পেশ করেন, তাই ছয়-দফা কর্মসূচি।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকে নস্যাৎ এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিশ্চিহ্ন করার উদ্দেশ্যে তৎকালীন আইয়ুব সরকার ১৯৬৮ সালের জানুয়ারিতে 'রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান ও অন্যান্য' শিরোনামে একটি মামলা দায়ের করে, যা আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা নামে পরিচিত। এতে অভিযোগ করা হয় যে শেখ মুজিবুর রহমান ও অন্যান্য অভিযুক্ত ব্যক্তিরা ভারতের সহায়তায় সশস্ত্র বিপ্লবের মাধ্যমে পূর্ব পাকিস্তানকে বিচ্ছিন্ন করার ষড়যন্ত্র করেছিলেন। এ মামলার ফলে তীব্র গণআন্দোলন গড়ে ওঠে এবং তা ১৯৬৯ সালের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের সাথে আমার পঠিত ১৯৬৬ সালের ছয়-দফা কর্মসূচির পূর্ণ সাদৃশ্য রয়েছে। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর থেকেই পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের ওপর বিমাতাসুলভ আচরণ এবং রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক শোষণ চালাতে থাকে। এ শোষণের প্রতিবাদে বাঙালি জাতি ধীরে ধীরে ঐক্যবদ্ধ হয়। একপর্যায়ে ১৯৬৬ সালে বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান লাহোরে বিরোধী দলের সম্মেলনে ঐতিহাসিক ছয়-দফা কর্মসূচি পেশ করেন। উদ্দীপকে বর্ণিত ‘ক’ রাষ্ট্রের শাসকের বিমাতাসুলভ আচরণ এবং শোষণের বিরুদ্ধে জনগণের ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রিয় নেতার মাধ্যমে দাবি উত্থাপনের ঘটনাটি পাকিস্তানের প্রেক্ষাপটে বঙ্গবন্ধুর ছয়-দফা পেশের পটভূমির অনুরূপ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ কর্মসূচিটি হলো বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ছয়-দফা কর্মসূচি। ঐতিহাসিকদের দৃষ্টিতে এটি ছিল বাঙালির 'ম্যাগনা কার্টা' বা মুক্তির সনদ। নিচে এর যথার্থতা বিশ্লেষণ করা হলো:

    ছয়-দফায় বাঙালির রাজনৈতিক স্বায়ত্তশাসন, অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা এবং নিজস্ব সামরিক সুরক্ষার রূপরেখা প্রণীত হয়েছিল। প্রথম দফায় ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে সংসদীয় পদ্ধতির ফেডারেল সরকার এবং প্রাপ্তবয়স্কদের ভোটাধিকারের দাবি জানানো হয়। দ্বিতীয় ও তৃতীয় দফায় প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র ছাড়া সকল ক্ষমতা প্রাদেশিক সরকারের হাতে ন্যস্ত করা এবং পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের জন্য পৃথক অথচ সহজে বিনিময়যোগ্য মুদ্রার ব্যবস্থা রাখার প্রস্তাব করা হয়। চতুর্থ ও পঞ্চম দফায় প্রদেশের কর ধার্যের ক্ষমতা এবং বৈদেশিক বাণিজ্যের হিসাব পৃথক রাখার দাবি জানানো হয়। ষষ্ঠ দফায় পূর্ব পাকিস্তানের নিরাপত্তার জন্য আধা-সামরিক বাহিনী গঠনের কথা বলা হয়।

    এসব দাবির মাধ্যমে বাঙালি উপলব্ধি করে যে ছয়-দফা বাস্তবায়িত হলেই পাকিস্তানি শোষণের অবসান ঘটবে। এই ছয়-দফাকে কেন্দ্র করেই বাঙালির জাতীয়তাবাদী চেতনা চূড়ান্ত রূপ নেয়, যা ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭০-এর সাধারণ নির্বাচন এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে একটি স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ সৃষ্টিতে প্রধান ভূমিকা পালন করে। সুতরাং, নিঃসন্দেহে ছয়-দফা কর্মসূচি ছিল বাঙালির মুক্তির প্রকৃত সনদ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন