বাংলা ১ম পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৪

বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন

"রূপনারাণের কূলে জেগে উঠিলাম। জানিলাম এ জগৎ স্বপ্ন নয়।……………………………………………সত্য যে কঠিন,কঠিণেরে ভালোবাসিলাম,সে কখনো করে না বঞ্চনা।"

  1. ক)

    সবচেয়ে বড় ধর্ম কী?

    (1)
  2. খ)

    "আত্মাকে চিনলেই আত্মনির্ভরতা আসে" কথাটি ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের সাথে 'আমার পথ' প্রবন্ধের যে বিষয়টির মিল আছে, তা আলোচনা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের কবিতাংশে 'আমার পথ' প্রবন্ধের সম্পূর্ণভাব ফুটে উঠেছে কি? তোমার মতের পক্ষে যুক্তি দেখাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কাজী নজরুল ইসলামের মতে সবচেয়ে বড় ধর্ম হলো মানুষ ধর্ম বা মানবধর্ম।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    "আত্মাকে চিনলেই আত্মনির্ভরতা আসে"—কথাটি দ্বারা বোঝানো হয়েছে যে, নিজের ভেতরের সত্য ও সম্ভাবনাকে উপলব্ধি করতে পারলে মানুষের মধ্যে স্বাবলম্বিতা ও দৃঢ় মনোবল গড়ে ওঠে।

    মানুষ যখন নিজের অন্তরের সত্যকে চেনে এবং নিজের শক্তির ওপর আস্থা স্থাপন করে, তখন সে আর কারও মুখাপেক্ষী বা পরাবলম্বী হয়ে থাকে না। পরনির্ভরশীলতা মানুষকে দাসত্ব ও ভণ্ডামির দিকে ঠেলে দেয়। কিন্তু আত্মপরিচয় বা আত্মোপলব্ধি ঘটলে মানুষ স্বাধীনচেতা হয় এবং নির্ভীকভাবে সত্যের পথে চলার আত্মবিশ্বাস অর্জন করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের সাথে কাজী নজরুল ইসলামের 'আমার পথ' প্রবন্ধের 'সত্যকে আঁকড়ে ধরা এবং কঠোর সত্যকে সানন্দে গ্রহণ করা'র দিকটির মিল রয়েছে।

    'আমার পথ' প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক নজরুল সত্যের পথ প্রদর্শক হিসেবে নিজেকে তুলে ধরেছেন। তিনি স্পষ্ট বলেছেন, সত্যের পথ হয়তো অনেক সময় অপ্রিয়, অমসৃণ ও কঠিন হয়; তবুও মিথ্যার মেকি নিরাপত্তার চেয়ে সত্যের কঠোরতাকে বরণ করে নেওয়াই শ্রেয়। নজরুল আপসকামিতা পরিহার করে অকপটে সত্য প্রকাশের পক্ষপাতী ছিলেন।

    উদ্দীপকের কবিতাংশে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'রূপনারাণের কূলে' কবিতার চরণেও জীবনের কঠিন বাস্তবতাকে প্রত্যক্ষ করে সত্যকে ভালোবাসার কথা বলা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, "সত্য যে কঠিন, / কঠিনেরে ভালোবাসিলাম, / সে কখনো করে না বঞ্চনা।" অর্থাৎ সত্য যতই রূঢ় বা কঠিন হোক না কেন, তা প্রতারণা করে না। 'আমার পথ' প্রবন্ধেও নজরুল সত্যকে জীবনের পরম আদর্শ মেনে ভণ্ডামি ও মিথ্যাকে অগ্রাহ্য করে সেই কঠিন সত্যের পথেই নিজেকে উৎসর্গ করেছেন। অতএব, সত্যের প্রতি নিষ্ঠা ও কঠিন সত্যকে দ্বিধাহীনভাবে বরণ করার দিক থেকে উদ্দীপকের সাথে প্রবন্ধটির গভীর মিল রয়েছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের কবিতাংশে 'আমার পথ' প্রবন্ধের একটি মৌলিক দিক ফুটে উঠলেও প্রবন্ধটির সম্পূর্ণ ভাব সেখানে প্রতিফলিত হয়নি—এ কথাটি যুক্তিসঙ্গত।

    উদ্দীপকের চরণে কেবল সত্যের স্বরূপ উপলব্ধি এবং কঠিন সত্যের প্রতি ভালোবাসার গভীর দার্শনিক অনুভূতির প্রকাশ ঘটেছে। সেখানে জীবনসায়াহ্নে দাঁড়িয়ে কঠিন বাস্তব ও সত্যকে মেনে নেওয়ার ভাবটি মুখ্য।

    পক্ষান্তরে, কাজী নজরুল ইসলামের 'আমার পথ' প্রবন্ধটি কেবল সত্যকে ভালোবাসার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এর পরিসর আরও ব্যাপক ও বহুমাত্রিক। প্রবন্ধে নজরুল তুলে ধরেছেন:
    ১. আত্মবিশ্বাস ও আত্মমর্যাদাবোধ: আত্মাকে চেনার মাধ্যমে স্বাবলম্বী হওয়া এবং পরনির্ভরশীলতার মোহ থেকে মুক্ত হওয়া।
    ২. ভণ্ডামি ও দাসত্বের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ: কোনো ব্যক্তি বা নেতার অন্ধ অনুকরণ না করে নিজের সত্যকে নেতা বা কর্ণধার মানা।
    ৩. অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও মানবধর্ম: হিন্দু-মুসলমান ভেদাভেদ ভুলে সাম্যবাদী সমাজ বিনির্মাণ এবং সব ধর্মের ঊর্ধ্বে মানুষকে স্থান দেওয়া।
    ৪. তারুণ্যের উদ্দীপনা ও প্রলয়ঙ্কর বিদ্রোহ: অন্যায়ের বিনাশ ঘটিয়ে নতুন সমাজ গড়ার আত্মপ্রত্যয়।

    উদ্দীপকে সত্যের অবঞ্চক রূপটির প্রতি যে আস্থা প্রকাশ পেয়েছে, তা 'আমার পথ' প্রবন্ধের মূল চেতনার একটি অংশ মাত্র। কিন্তু নজরুলের প্রবন্ধের প্রতিবাদী মনোভাব, ভণ্ডামির বিরুদ্ধে কুঠারাঘাত এবং অসাম্প্রদায়িক মানবতাবাদের সামগ্রিক চিত্র উদ্দীপকে অনুপস্থিত।

    অতএব, উপযুক্ত যুক্তির ভিত্তিতে নিশ্চিতভাবেই বলা যায় যে, উদ্দীপকে 'আমার পথ' প্রবন্ধের সত্যনিষ্ঠার দিকটি প্রকাশ পেলেও প্রবন্ধের সামগ্রিক বা সম্পূর্ণ ভাব ফুটে ওঠেনি।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন