জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২১
জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
মুখবিবর → গলবিল →অন্ননালি →P →Q → বৃহদন্ত্র ।
- ক)(1)
বেরিয়াট্রিকস কী?
- খ)(2)
যকৃতকে জৈব রসায়নাগার বলা হয় কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকের 'P' চিহ্নিত অংশে নিঃসৃত এনজাইমের কার্যাবলি লেখো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের 'Q' অংশ বিভিন্ন খাদ্যসার পরিশোষণের জন্য অপরিহার্য বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
চিকিৎসাবিজ্ঞানের যে শাখায় স্থূলতা বা অতিরিক্ত ওজনের কারণ, প্রতিরোধ ও চিকিৎসা (যেমন- সার্জারি) নিয়ে আলোচনা করা হয়, তাকে বেরিয়াট্রিকস (Bariatrics) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যকৃত মানবদেহের সবচেয়ে বড় গ্রন্থি এবং এতে প্রতিনিয়ত অসংখ্য জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে থাকে। যকৃতে গ্লাইকোজেনেসিস, গ্লাইকোজেনোলাইসিস, গ্লুকোনিওজেনেসিসের মতো শর্করা বিপাক; লিপিড বিপাক; ডিঅ্যামিনেশন প্রক্রিয়ায় ইউরিয়া তৈরি; প্লাজমা প্রোটিন সংশ্লেষ; বিষাক্ত পদার্থের নিষ্ক্রিয়করণ এবং বিভিন্ন ভিটামিন ও খনিজ সঞ্চিত হয়। এসব বহুমুখী ও জটিল জৈব রাসায়নিক রূপান্তর ও সংশ্লেষণের কেন্দ্র হওয়ায় যকৃতকে মানবদেহের 'জৈব রসায়নাগার' (Organic Laboratory) বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত পৌষ্টিকনালির ক্রম অনুসারে 'P' চিহ্নিত অংশটি হলো পাকস্থলী (Stomach)। পাকস্থলীর গ্যাস্ট্রিক গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত গ্যাস্ট্রিক জুসে প্রধানত প্রোটিন ও স্নেহ পরিপাককারী এনজাইম থাকে। এদের কার্যাবলি নিচে দেওয়া হলো:
১. পেপসিনোজেন (Pepsinogen): গ্যাস্ট্রিক জুসের হাইড্রোক্লোরিক এসিডের (HCl) সংস্পর্শে নিষ্ক্রিয় পেপসিনোজেন সক্রিয় পেপসিনে পরিণত হয়। সক্রিয় পেপসিন জটিল প্রোটিনকে ভেঙে প্রোটিওজ ও পেপটনে পরিণত করে।
২. প্রোরেনিন (Prorennin): শিশুদের ক্ষেত্রে নিষ্ক্রিয় প্রোরেনিন HCl-এর প্রভাবে সক্রিয় রেনিনে পরিণত হয়। রেনিন দুধের প্রোটিন কেসিনকে প্যারাকেসিনে রূপান্তর করে, যা পরবর্তীতে পেপসিন দ্বারা পরিপাক হয়।
৩. গ্যাস্ট্রিক লাইপেজ (Gastric Lipase): এটি একটি দুর্বল লিপিড পরিপাককারী এনজাইম, যা অম্লীয় মাধ্যমে মাখনের ফ্যাট বা স্বল্প ঘনত্বের ট্রাইগ্লিসারাইডকে ভেঙে ফ্যাটি এসিড ও গ্লিসারলে পরিণত করে।
পাকস্থলীতে কোনো শর্করা পরিপাককারী এনজাইম থাকে না।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে পৌষ্টিকনালির প্রবাহচিত্রে 'P' (পাকস্থলী) এবং বৃহদন্ত্রের মধ্যবর্তী 'Q' চিহ্নিত অংশটি হলো ক্ষুদ্রান্ত্র (Small intestine)। ক্ষুদ্রান্ত্র খাদ্য পরিপাকের পাশাপাশি খাদ্যসার পরিশোষণের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও অপরিহার্য অঙ্গ। নিচে এর সপক্ষে বিশ্লেষণ উপস্থাপন করা হলো:
১. বিশেষায়িত গঠন ও বিপুল পরিশোষণ তল: ক্ষুদ্রান্ত্রের মিউকোসা স্তরে আঙুলের মতো অসংখ্য প্রবর্ধক বা 'ভিলাই' (Villi) থাকে। ভিলাইয়ের উপরিভাগে আবার অগণিত মাইক্রোভিলাই থাকে, যা ক্ষুদ্রান্ত্রের ভেতরের শোষণ পৃষ্ঠের ক্ষেত্রফল বহুগুণ (প্রায় ২৫০-৩০০ বর্গমিটার) বাড়িয়ে দেয়।
২. সমৃদ্ধ রক্ত ও লসিকাবাহিকা: প্রতিটি ভিলাইয়ের অভ্যন্তরে কৈশিক জালিকা এবং মাঝখানে একটি কেন্দ্রীয় ল্যাকটিয়েল (লসিকানালি) থাকে। ফলে খাদ্যসার দ্রুত সংবহনে প্রবেশ করতে পারে।
৩. কার্বোহাইড্রেট বা সরল শর্করা শোষণ: সরল শর্করা যেমন গ্লুকোজ, গ্যালাকটোজ সক্রিয় পরিবহন ও সহ-পরিবহন প্রক্রিয়ায় এবং ফ্রুক্টোজ ব্যাপন প্রক্রিয়ায় ভিলাইয়ের রক্তজালকে প্রবেশ করে হেপাটিক পোর্টাল শিরার মাধ্যমে যকৃতে পৌঁছায়।
৪. অ্যামিনো এসিড শোষণ: প্রোটিন পরিপাকের চূড়ান্ত উৎপাদ অ্যামিনো এসিড সক্রিয় পরিবহনের মাধ্যমে রক্ত কৈশিক জালিকায় শোষিত হয়।
৫. ফ্যাটি এসিড ও গ্লিসারল শোষণ: লিপিডের পরিপাকলব্ধ ফ্যাটি এসিড ও মোনোগ্লিসারাইড প্রথমে পিত্তলবণের সাথে মিলে মাইসেলি গঠন করে এবং কোষের ভেতর ট্রাইগ্লিসারাইড ও কাইলোমাইক্রনে পরিণত হয়ে ল্যাকটিয়েলে শোষিত হয়।
৬. পানি ও ভিটামিন শোষণ: খাদ্যের প্রায় ৮০-৯০% পানি এবং বিভিন্ন ভিটামিন ও খনিজ লবণ ক্ষুদ্রান্ত্রের মাধ্যমেই দেহে শোষিত হয়।
বৃহদন্ত্রে মূলত অতিরিক্ত পানি এবং কিছু খনিজ বাদে কোনো পুষ্টিসার শোষিত হয় না। তাই সামগ্রিক পুষ্টি নিশ্চিতকরণে ক্ষুদ্রান্ত্র খাদ্যসার পরিশোষণের জন্য অপরিহার্য।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও