অর্থনীতি ১ম পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০১৬
অর্থনীতি ১ম পত্র প্রশ্ন
রোকেয়া একটি গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে কাজ করে। এ কাজে কোনো অভিজ্ঞতা না থাকায় তার মাসিক বেতন মাত্র ২৫০০ টাকা। বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ নেই বিধায় বাধ্য হয়ে সে এ কাজ করছে। তাছাড়া এখানে কাজের অনুকূলে পরিবেশ নেই বলে শ্রমিকদের দক্ষতাও কম। অথচ দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য গার্মেন্টস একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত। তাই এ খাতের উন্নয়নের জন্য মজুরি বৃদ্ধি, চাকরির শর্ত উন্নয়ন, শ্রমিকদের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ দান এবং স্বাস্থ্যসম্মত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা অতীব জরুরি ।
- ক)(1)
শ্রমের যোগান কী?
- খ)(2)
শ্রমের যোগান রেখা কখন পশ্চাৎমুখী হয়? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
গার্মেন্টসের কাজে রোকেয়ার অনাগ্রহের কারণ উদ্দীপকের আলোকে নিরূপণ করো ।
- ঘ)(4)
বাংলাদেশের গার্মেন্টস শ্রমিকদের দক্ষতা কীভাবে বৃদ্ধি করা যায়? উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
নির্দিষ্ট মজুরিতে নির্দিষ্ট সময়ে শ্রমিকরা মোট যে পরিমাণ শ্রম বা কর্মঘণ্টা বিক্রয় বা সরবরাহ করতে প্রস্তুত থাকে, তাকে শ্রমের যোগান বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মজুরি একটি নির্দিষ্ট মাত্রার চেয়ে বেশি বৃদ্ধি পেলে শ্রমিকরা শ্রমের তুলনায় অবসরকে বেশি গুরুত্ব দেয়, ফলে শ্রমের যোগান রেখা পেছনের দিকে বা পশ্চাৎমুখী হয়।
সাধারণত মজুরি বাড়লে শ্রমের যোগান বাড়ে। কিন্তু মজুরি বৃদ্ধি পেয়ে যখন শ্রমিকের আয় একটি সন্তোষজনক পর্যায়ে পৌঁছে যায়, তখন শ্রমিক অতিরিক্ত কাজের পরিবর্তে বিশ্রাম ও অবসর বেশি পছন্দ করে। এই ক্ষেত্রে মজুরি বৃদ্ধির বিকল্প প্রভাবের (Substitution Effect) চেয়ে আয় প্রভাব (Income Effect) অধিক শক্তিশালী হয়। ফলে মজুরি আরও বাড়লেও শ্রমের যোগান না বেড়ে বরং কমে যায় এবং শ্রমের যোগান রেখা বাম দিকে বা পশ্চাৎমুখী মোড় নেয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে গার্মেন্টসের কাজে রোকেয়ার অনাগ্রহের মূল কারণগুলো হলো অত্যন্ত নিম্ন মজুরি, প্রতিকূল কর্মপরিবেশ এবং বিকল্প সুযোগের অভাবজনিত বাধ্যবাধকতা।
উদ্দীপক অনুযায়ী, রোকেয়ার কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকায় তার মাসিক মজুরি মাত্র ২৫০০ টাকা, যা দিয়ে বর্তমান সময়ে জীবনধারণ করা অত্যন্ত কষ্টকর। এছাড়া কারখানাটিতে কাজের কোনো অনুকূল বা স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নেই। নিম্ন পারিশ্রমিক ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে সেখানে রোকেয়ার কাজের প্রতি কোনো স্বাভাবিক আগ্রহ বা প্রেষণা তৈরি হয়নি। কেবল বিকল্প কোনো কর্মসংস্থানের সুযোগ নেই বলেই নিতান্ত বাধ্য হয়ে সে এ কাজ করছে।
সুতরাং, অতি সামান্য মজুরি এবং কাজের অস্বাস্থ্যকর ও প্রতিকূল পরিবেশই রোকেয়ার গার্মেন্টসের কাজে অনাগ্রহের প্রধান কারণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাংলাদেশের গার্মেন্টস শ্রমিকদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য ন্যায্য মজুরি প্রদান, উপযুক্ত প্রশিক্ষণ এবং স্বাস্থ্যসম্মত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।
উদ্দীপকে দেখা যায়, কাজের প্রতিকূল পরিবেশ এবং অনভিজ্ঞতার কারণে শ্রমিকদের উৎপাদনশীলতা বা দক্ষতা কম থাকে। অর্থনীতি অনুযায়ী, শ্রমের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য শারীরিক সামর্থ্য, মানসিক সন্তুষ্টি ও কারিগরি জ্ঞান অপরিহার্য। গার্মেন্টস শ্রমিকদের দক্ষতা বৃদ্ধির কার্যকর উপায়গুলো নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. বাস্তবমুখী ও কারিগরি প্রশিক্ষণ: শ্রমিকদের আধুনিক যন্ত্রপাতি পরিচালনা ও আধুনিক উৎপাদন কৌশলের ওপর প্রশিক্ষণ দিলে তাদের কাজের মান ও গতি উভয়ই বৃদ্ধি পাবে।
২. ন্যায্য মজুরি ও সময়মতো ভাতা প্রদান: শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ মজুরি দিলে তাদের আর্থিক দুশ্চিন্তা দূর হবে এবং কাজের প্রতি প্রেষণা তৈরি হবে।
৩. স্বাস্থ্যসম্মত কর্মপরিবেশ: কারখানায় পর্যাপ্ত আলো-বাতাস, বিশুদ্ধ পানি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করলে শ্রমিকরা অসুস্থ হবে না এবং তাদের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।
৪. চাকরির নিশ্চয়তা ও কাজের শর্ত উন্নয়ন: নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা, অতিরিক্ত কাজের সঠিক পারিশ্রমিক ও চাকরির নিরাপত্তা প্রদান করলে শ্রমিকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে কাজ করবে।পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকের পরামর্শ অনুযায়ী শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি, উন্নত কাজের পরিবেশ ও উপযুক্ত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার মাধ্যমেই বাংলাদেশের গার্মেন্টস শ্রমিকদের দক্ষতা কার্যকরভাবে বাড়ানো সম্ভব।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও