বাংলা ১ম পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০১৭
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
বকুল যখন স্বামীহারা হয় তখন তার মেয়ে পারুলের বয়স দুই বছর। একদিকে অর্থকষ্ট, অপরদিকে বদলোকের কুদৃষ্টি। লোকের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করে, খেয়ে না খেয়ে মেয়েটাকে বড় করে বকুল। একসময় মেয়ের বিয়েও দেয়। কিন্তু বছর না ঘুরতেই অত্যাচারী স্বামীর সাথে সম্পর্ক ছেধ করে মায়ের কাছে ফিরে আসে পারুল। সম্মানের সাথে বেঁচে থাকার জন্য মেয়ে পারুল হয় বকুলের অবলম্বন। মায়ের জীবন-সংগ্রাম দেখে বড় হওয়া পারুল মায়ের চেয়ে সাহসী এবং আত্মমর্যাদাশীল। বাড়ির পাশে শাক-সবজি চাষ করে, ঘরে হাঁস-মুরগি পালন করে, ধান ভেনে, কাঁথা সেলাই করে স্বাবলম্বী হওয়ার চেষ্টা করে মা ও মেয়ে। যে কোনো অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে জীবন বলি রাখার দৃঢ় প্রত্যয় বকুল ও পারুলের চাল চলনে
- ক)(1)
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পিতৃপ্রদত্ত নাম কী?
- খ)(2)
‘’নিজেকে তার ছ্যাঁচড়া, নোংরা, নর্দমার মতো লাগে"- কার, কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকের পারুলের সাথে 'মাসি-পিসি' গল্পের আহ্লাদির চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের বৈপরীত্য দেখাও
- ঘ)(4)
"উদ্দীপকটি অধিকাংশ ক্ষেত্রে 'মাসি-পিসি' গল্পের বক্তব্য ধারণ করে- তোমার মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পিতৃপ্রদত্ত নাম প্রবোধকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উক্তিটি 'মাসি-পিসি' গল্পের চরিত্র জগতকে নিয়ে বলা হয়েছে, যেখানে নিজের অসহায় ও পরনির্ভরশীল অবস্থার কারণে আহ্লাদির এমন অনুভূতি হয়।
স্বামীর চরম নির্যাতন সহ্য করে আহ্লাদি নিজের পিতৃভিটায় মাসি-পিসির আশ্রয়ে থাকে। মাসি-পিসি অক্লান্ত পরিশ্রম করে তাকে আগলে রাখেন এবং সমাজে শকুনের মতো ওঁৎ পেতে থাকা বদমাশ মানুষদের হাত থেকে তাকে রক্ষা করার জন্য লড়াই করেন। নিজের কারণে মাসি-পিসির এই দুঃসহ কষ্ট ও দুর্ভোগ দেখে আহ্লাদির মনে গভীর অপরাধবোধ ও হীনম্মন্যতা তৈরি হয়। নিজেকে তার পরিবার ও সমাজের কাছে বোঝা মনে হওয়ায় সে নিজেকে ছ্যাঁচড়া, নোংরা ও নর্দমার মতো অপাঙ্ক্তেয় বলে মনে করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের পারুলের সাথে 'মাসি-পিসি' গল্পের আহ্লাদির চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের প্রধান বৈপরীত্য সাহসিকতা, সক্রিয় প্রতিরোধ ও আত্মমর্যাদাবোধে।
'মাসি-পিসি' গল্পের আহ্লাদি চরিত্রটি মূলত ভীরু, দুর্বল ও আত্মরক্ষায় পরনির্ভরশীল। স্বামীর নিষ্ঠুর নির্যাতন সয়ে সে চুপচাপ মাসি-পিসির ওপর নির্ভর করে বেঁচে থাকে। অশুভ শক্তি বা সমাজের কুদৃষ্টির বিরুদ্ধে নিজে কোনো প্রতিরোধ গড়ে তোলার সাহস তার নেই; বরং সবসময় সে মাসি-পিসির আঁচলের নিচে নিজেকে লুকিয়ে রাখে।
অন্যদিকে, উদ্দীপকের পারুল অত্যাচারী স্বামীর সাথে নিজেই সম্পর্ক ছেদ করে মায়ের কাছে ফিরে আসে। সে মায়ের চেয়েও বেশি সাহসী ও আত্মমর্যাদাশীল। জীবন-সংগ্রামে কেবল টিকে থাকাই নয়, মা বকুলের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কৃষিকাজ, হাঁস-মুরগি পালন ও কাঁথা সেলাইয়ের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হওয়ার চেষ্টা করে এবং যে কোনো অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে বুক চিতিয়ে দাঁড়ানোর দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে। পারুলের এই দৃঢ়তা ও প্রতিবাদী চেতনার বিপরীতে আহ্লাদির চরিত্রে রয়েছে দুর্বলতা ও পরমুখাপেক্ষিতা।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"উদ্দীপকটি অধিকাংশ ক্ষেত্রে 'মাসি-পিসি' গল্পের বক্তব্য ধারণ করে"—উক্তিটির সাথে আমি আংশিক একমত, কারণ প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে নারীশক্তির সংগ্রাম ও টিকে থাকার দিকটি ধারণ করলেও চরিত্রের আত্মবিশ্বাসে ভিন্নতা রয়েছে।
'মাসি-পিসি' গল্পে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় পুরুষতান্ত্রিক সমাজে চরম দারিদ্র্য ও লম্পটদের কুদৃষ্টিকে উপেক্ষা করে দুই বিধবা নারীর বেঁচে থাকার অসম লড়াই তুলে ধরেছেন। মাসি ও পিসি শাক-সবজি বিক্রি করে এবং কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজেদের স্বাবলম্বী রাখার পাশাপাশি নির্যাতন সয়ে আসা আহ্লাদিকে সর্বাত্মক নিরাপত্তা দেন। তারা বঁটি ও রামদা উঁচিয়ে অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।
উদ্দীপকেও দেখা যায়, বকুল একা হাতে কন্যা পারুলকে বড় করে। স্বামীর অত্যাচার সহ্য না করে পারুল ফিরে এলে মা ও মেয়ে মিলে সবজি চাষ, হাঁস-মুরগি পালন, ধান ভানা ইত্যাদির মাধ্যমে স্বাবলম্বী হওয়ার চেষ্টা করে এবং অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সংকল্প করে। এই জীবন-সংগ্রাম, স্বাবলম্বন ও অশুভ শক্তির মোকাবিলার বিষয়টি গল্পের মূল সুরের সাথে হুবহু মিলে যায়। তবে গল্পের আহ্লাদি ছিল ভীরু ও সম্পূর্ণ পরনির্ভরশীল, কিন্তু উদ্দীপকের পারুল নিজেই প্রতিবাদী ও সাহসী।
অতএব, নারীর একক শ্রম, দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই এবং সমাজের অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ প্রতিরোধের যে মূল বক্তব্য 'মাসি-পিসি' গল্পে ফুটে উঠেছে, উদ্দীপকটি অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সেই চেতনা ও বক্তব্যকে সার্থকভাবে ধারণ করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও