ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৩
ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র প্রশ্ন
কয়েক বছর আগেও ঢাকায় ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা পাঠালে প্রাপকের হাতে টাকা পৌঁছাতে বেশ কয়েকদিন সময় লাগত। বর্তমানে ঢাকায় ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা পাঠালে প্রাপক কয়েক মিনিটের মধ্যে হাতে টাকা পেয়ে যায় । কোনো চেকেরও প্রয়োজন হয় না ।
- ক)(1)
ডেবিট কার্ড কী?
- খ)(2)
মোবাইল ব্যাংকিং বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে কোন ধরনের ব্যাংকিং-এর কথা বলা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
“একালের ব্যাংক ব্যবস্থা, সেকালের ব্যাংক ব্যবস্থার চেয়ে উন্নত।” —উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ডেবিট কার্ড হলো ব্যাংক কর্তৃক আমানতকারীকে প্রদত্ত একটি প্লাস্টিক কার্ড, যার মাধ্যমে গ্রাহক তার হিসাবে জমা থাকা অর্থ সরাসরি উত্তোলন বা কেনাকাটার বিল পরিশোধ করতে পারেন।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মোবাইল ব্যাংকিং বলতে মোবাইল নেটওয়ার্ক ও হ্যান্ডসেট ব্যবহার করে ব্যাংকিং ও আর্থিক সেবা (যেমন: অর্থ স্থানান্তর, ক্যাশ-ইন, ক্যাশ-আউট, বিল পরিশোধ ইত্যাদি) পরিচালনা করাকে বোঝায়।
এটি ইলেকট্রনিক ব্যাংকিংয়ের একটি আধুনিক রূপ, যার মাধ্যমে কোনো গ্রাহক প্রচলিত ব্যাংকের শাখায় না গিয়েও সুবিধাজনক সময়ে যেকোনো স্থান থেকে তাৎক্ষণিকভাবে আর্থিক লেনদেন সম্পন্ন করতে পারেন। বাংলাদেশে বিকাশ, নগদ, রকেট ইত্যাদি মোবাইল ব্যাংকিংয়ের জনপ্রিয় মাধ্যম। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে আধুনিক ইলেকট্রনিক ব্যাংকিং বা অনলাইন ব্যাংকিংয়ের (Electronic Banking / Online Banking) কথা বলা হয়েছে।
ইলেকট্রনিক ব্যাংকিং হলো তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি নির্ভর ব্যাংকিং ব্যবস্থা, যেখানে কম্পিউটার নেটওয়ার্ক, ইন্টারনেট ও টেলিযোগাযোগ মাধ্যমের সাহায্যে সনাতন কাগজের দলিলের পরিবর্তে স্বয়ংক্রিয়ভাবে লেনদেন সম্পন্ন করা হয়। এ ব্যবস্থায় ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (EFT), আরটিজিএস (RTGS), এনপিএসবি (NPSB) ইত্যাদির মাধ্যমে মুহূর্তের মধ্যে এক হিসাব থেকে অন্য হিসাবে অর্থ পাঠানো যায়।
উদ্দীপকে উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমানে ঢাকায় ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা পাঠালে প্রাপক কয়েক মিনিটের মধ্যেই টাকা পেয়ে যায় এবং এর জন্য কোনো চেকেরও প্রয়োজন হয় না। কাগজবিহীন ও তাৎক্ষণিক এই লেনদেন আধুনিক ইলেকট্রনিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার বাস্তব প্রতিফলন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের “একালের ব্যাংক ব্যবস্থা, সেকালের ব্যাংক ব্যবস্থার চেয়ে উন্নত”—বক্তব্যটি সম্পূর্ণরূপে যথার্থ।
সেকালের ব্যাংকিং ব্যবস্থা ছিল সম্পূর্ণ কায়িক শ্রম ও সনাতন কাগজ-কলম নির্ভর। সে সময় দূরবর্তী স্থানে অর্থ পাঠাতে ডিমান্ড ড্রাফট (DD), পে-অর্ডার বা মেইল ট্রান্সফার (MT) ব্যবহার করা হতো, যা ডাকযোগ বা কুরিয়ারে প্রাপকের কাছে পৌঁছাতে এবং ক্লিয়ারিং হয়ে অর্থ উত্তোলনে কয়েকদিন থেকে সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগত। এতে গ্রাহকদের প্রচুর সময় অপচয় হতো এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিত।
পক্ষান্তরে, একালের আধুনিক ব্যাংক ব্যবস্থা তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির অভূতপূর্ব অগ্রগতির ওপর প্রতিষ্ঠিত। উদ্দীপকে যেমনটি বলা হয়েছে, আগে ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা পাঠালে বেশ কয়েকদিন সময় লাগত, কিন্তু বর্তমানে কোনো চেকের ব্যবহার ছাড়াই কয়েক মিনিটের মধ্যে প্রাপক টাকা পেয়ে যায়। আধুনিক ব্যাংকিংয়ে সিবিএস (Core Banking Solution), ইন্টারনেট ব্যাংকিং, এটিএম সেবা, অ্যাপ-ভিত্তিক লেনদেন, মোবাইল ব্যাংকিং এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের অটোমেটেড ক্লিয়ারিং হাউস (BACH/BEFTN/RTGS) ব্যবহারের ফলে লেনদেন হয়েছে অতি দ্রুত, নিরাপদ, নির্ভুল এবং ২৪/৭ ঘণ্টাব্যাপী সহজলভ্য।
সুতরাং গতি, নিরাপত্তা, সময় ও দূরত্বের সীমাবদ্ধতা দূরীকরণ এবং গ্রাহক সুবিধার সামগ্রিক বিচারে নিশ্চিতভাবেই বলা যায় যে, একালের ইলেকট্রনিক ব্যাংক ব্যবস্থা সেকালের সনাতন ব্যাংক ব্যবস্থার চেয়ে বহুগুণে উন্নত ও কার্যকর।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও