জীববিজ্ঞান ১ম পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০১৯
জীববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন
রহিমের জ্বর হলো। ডাক্তার রক্ত পরীক্ষা করে ব্যাখ্যা করলেন জ্বরের কারণ একটি এককোষী অণুজীব যা স্ত্রী মশকীর মধ্যে তৈরি হয়। সেটি মানুষের যকৃত কোষ এবং লোহিত রক্ত কণিকাকে ধ্বংস করে দেয়।
- ক)(1)
ভাইরাস কী?
- খ)(2)
Pteris প্রজাতিকে টেরিডোফাইট বলা হয় কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত জীবাণুটির অমেরুদন্ডী পোষকে যে জনন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয় তা ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত জীবাণুটির জীবনচক্রে জনুক্রম ব্যাখ্যা কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ভাইরাস হলো নিউক্লিক অ্যাসিড (DNA বা RNA) এবং প্রোটিন সমন্বয়ে গঠিত অকোষীয়, অতি-আণুবীক্ষণিক সত্ত্বা, যা কেবল উপযুক্ত পোষক কোষের অভ্যন্তরে বংশবৃদ্ধি করতে পারে কিন্তু পোষক দেহের বাইরে সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় ও জড় প্রকৃতির মতো আচরণ করে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
Pteris একটি ফার্ন জাতীয় উদ্ভিদ। এই উদ্ভিদের দেহ মূল, কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত এবং এদের দেহে পরিবহন কলাগুচ্ছ বা সংবহনতন্ত্র (জাইলেম ও ফ্লোয়েম) বিদ্যমান। তবে এরা অপুষ্পক ও অবীজী উদ্ভিদ, অর্থাৎ ফুল ও বীজ উৎপন্ন করে না বরং স্পোরের মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি করে। ভাস্কুলার টিস্যুযুক্ত অপুষ্পক উদ্ভিদগোষ্ঠীকে টেরিডোফাইটা (Pteridophyta) বলা হয়। তাই Pteris প্রজাতিকে টেরিডোফাইট বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত জীবাণুটি হলো ম্যালেরিয়ার পরজীবী Plasmodium। এর অমেরুদণ্ডী পোষক হলো স্ত্রী অ্যানোফিলিস মশকী। স্ত্রী মশকীর দেহে মূলত যৌন জনন (গ্যামিটোগনি) এবং অযৌন জনন (স্পোরোগনি) সম্পন্ন হয়:
১. গ্যামিটোগনি (যৌন জনন):
মশকীর ক্রপ বা পৌষ্টিক নালীতে রক্ত শোষণের পর গ্যামিটোসাইটগুলো মুক্ত হয়। মাইক্রোগ্যামিটোসাইট থেকে এক্সফ্ল্যাজেলেশন প্রক্রিয়ায় শুক্রাণু (মাইক্রোগ্যামিট) এবং ম্যাক্রোগ্যামিটোসাইট থেকে রূপান্তরের মাধ্যমে ডিম্বাণু (ম্যাক্রোগ্যামিট) উৎপন্ন হয়। এরপর নিষেক প্রক্রিয়ায় হ্যাপ্লয়েড শুক্রাণু ও ডিম্বাণু মিলিত হয়ে ডিপ্লয়েড জাইগোট গঠিত হয়। জাইগোট সচল হয়ে 'উকিনেট' এবং পরবর্তীতে ক্রপের প্রাচীরে গিয়ে সিস্ট দ্বারা আবৃত হয়ে 'ওওসিস্ট'-এ পরিণত হয়।২. স্পোরোগনি (অযৌন জনন):
ওওসিস্টের অভ্যন্তরে ডিপ্লয়েড নিউক্লিয়াস প্রথমে মায়োসিস এবং পরবর্তীতে মাইটোসিস পদ্ধতিতে বারবার বিভক্ত হয়ে অসংখ্য হ্যাপ্লয়েড স্পোরোজয়েট গঠন করে। ওওসিস্ট বিদীর্ণ হলে স্পোরোজয়েটগুলো মশকীর হিমোসিলে মুক্ত হয়ে শেষ পর্যন্ত লালাগ্রন্থিতে অবস্থান নেয়। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত জীবাণুটি হলো ম্যালেরিয়ার পরজীবী Plasmodium। জীবের জীবনচক্রে হ্যাপ্লয়েড (n) এবং ডিপ্লয়েড (2n) দশার পর্যায়ক্রমিক আবর্তনকে জনুক্রম (Alternation of generations) বলে। Plasmodium-এর জীবনচক্রে সুস্পষ্ট জনুক্রম পরিলক্ষিত হয়:
১. হ্যাপ্লয়েড দশা (হ্যাপ্লোফেজ):
মানুষের দেহে Plasmodium-এর জীবনচক্র সম্পূর্ণ হ্যাপ্লয়েড (n)। মশকীর লালাগ্রন্থি থেকে হ্যাপ্লয়েড স্পোরোজয়েট মানবদেহে প্রবেশ করে সাইজোগনি (হেপাটিক ও এরিথ্রোসাইটিক সাইজোগনি) প্রক্রিয়ায় মেরোজয়েট ও শেষ পর্যন্ত গ্যামিটোসাইট তৈরি করে। মানুষের দেহে সংঘটিত এই পুরো অযৌন জনন দশাটি হ্যাপ্লয়েড প্রকৃতির।২. ডিপ্লয়েড দশা (ডিপ্লোফেজ):
মশকী মানুষের রক্ত থেকে গ্যামিটোসাইট গ্রহণ করলে মশকীর ক্রপে যৌন জনন ঘটে। হ্যাপ্লয়েড মাইক্রোগ্যামিট (n) ও ম্যাক্রোগ্যামিটের (n) নিষেকের মাধ্যমে ডিপ্লয়েড (2n) জাইগোট গঠিত হয়। এই জাইগোট ক্রমান্বয়ে উকিনেট এবং ওওসিস্টে রূপান্তরিত হয়। ওওসিস্ট হলো এর ডিপ্লয়েড দশা।৩. হ্রাসমূলক বিভাজন ও চক্রের পুনরাবৃত্তি:
ওওসিস্টের ভেতরে মায়োসিস বিভাজন ঘটে, যার ফলে ডিপ্লয়েড অবস্থা আবার হ্যাপ্লয়েড অবস্থায় ফিরে আসে। পরবর্তীতে মাইটোসিসের মাধ্যমে অসংখ্য হ্যাপ্লয়েড স্পোরোজয়েট তৈরি হয়, যা পুনরায় মানবদেহে সংক্রমণের উপযোগী হয়।সুতরাং, Plasmodium-এর জীবনচক্রে দীর্ঘ হ্যাপ্লয়েড দশা ও সংক্ষিপ্ত ডিপ্লয়েড দশার এক মনোরম পর্যায়ক্রম বা জনুক্রম বিদ্যমান।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও