বাংলা ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০১৬

বাংলা ২য় পত্র প্রশ্ন

10.

(ক) সারাংশ লেখ:আজকের দুনিয়াটা আশ্চর্যভাবে অর্থের বা বিত্তের ওপর নির্ভরশীল। লাভ ও লোভের দুর্নিবার গতি কেবল আগে যাবার নেশায় লক্ষ্যহীন প্রচণ্ডবেগে শুধু আত্মবিনাসের পথে এগিয়ে চলেছে। মানুষ যদি এই মূঢ়তাকে জয় না করতে পারে তবে মনুষ্যত্ব কথাটাই হয়তো লোপ পেয়ে যাবে। মানুষের জীবন আজ এমন এক পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে যেখানে থেকে আর হয়তো নামবার উপায় নেই, এবার উঠবার সিঁড়িটা না খুঁজলেই নয়। উঠবার সিঁড়িটা না খুঁজে পেলে আমাদের আত্মবিনাশ যে অনিবার্য তাতে আর কোনো সন্দেহ থাকে না।অথবা,(খ) ভাব-সম্প্রসারণ কর: কীর্তিমানের মৃত্যু নাই।

উত্তর ও ব্যাখ্যা

AI-তৈরি নমুনা উত্তর

(ক) সারাংশ:
বর্তমান পৃথিবী চরম অর্থকেন্দ্রিক ও ভোগবাদী হয়ে উঠেছে। বৈষয়িক লোভ-লালসা ও অন্ধ প্রতিযোগিতার ফলে মনুষ্যত্ব আজ বিপন্ন ও মানবসভ্যতা ধ্বংসের মুখে এসে দাঁড়িয়েছে। আত্মবিনাশ থেকে বাঁচতে হলে মানুষকে এই বস্তুকেন্দ্রিক মূঢ়তা পরিহার করে আত্মিক ও মানবিক মূল্যবোধে পুনরায় জাগ্রত হতে হবে।

অথবা,

(খ) ভাব-সম্প্রসারণ: কীর্তিমানের মৃত্যু নাই।

মূলভাব: মানুষের নশ্বর দেহের বিনাশ অনিবার্য হলেও সৎকর্ম ও মহৎ কীর্তির মাধ্যমে সে পৃথিবীতে চিরস্মরণীয় হয়ে বেঁচে থাকে।

সম্প্রসারিত ভাব: মানবজীবন ক্ষণস্থায়ী। প্রতিটি মানুষকেই একদিন মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হয়—এটিই প্রকৃতির অমোঘ সত্য। কিন্তু এই ক্ষণস্থায়ী জীবনের মূল্য মানুষের পরমায়ুর ওপর নির্ভর করে না; বরং তা নির্ভর করে তার মহৎ কর্ম এবং মানবকল্যাণমূলক সৃষ্টির ওপর। কেবল বেঁচে থাকার নামই জীবন নয়, সমাজ ও মানবতার কল্যাণে আত্মনিয়োগ করাই হলো প্রকৃত সার্থকতা।

ইতিহাসের পাতায় নজর দিলে দেখা যায়, যুগে যুগে এমন অনেক মহান ব্যক্তি পৃথিবীতে আগমন করেছেন, যাঁদের শারীরিক অস্তিত্ব আজ আর নেই; কিন্তু তাঁদের অমর অবদান, আদর্শ, প্রজ্ঞা এবং কর্মময় জীবনের জন্য তাঁরা মানবহৃদয়ে চিরকাল বেঁচে আছেন। সক্রেটিস, শেক্সপিয়র, রবীন্দ্রনাথ, নজরুল কিংবা বঙ্গবন্ধু—তাঁদের কেউ আজ শারীরিকভাবে বেঁচে নেই, কিন্তু তাঁদের সৃষ্টিকর্ম, ত্যাগ ও অবদান বিশ্ববাসীর হৃদয়ে তাঁদের অমর করে রেখেছে। মহৎ কাজের মাধ্যমে মানুষ স্থান-কালের সীমানা পেরিয়ে অনন্তকালের অংশ হয়ে যায়।

মন্তব্য: শারীরিক মৃত্যু মানুষের জীবনের শেষ পরিণতি হলেও কর্মের মৃত্যু নেই। মহৎ ও কল্যাণকর কাজের মধ্য দিয়েই মানুষ মরণশীল হয়েও অমরত্ব লাভ করে। তাই কীর্তিমান ব্যক্তিরা মানবস্মৃতিতে চিরকাল অম্লান হয়ে বেঁচে থাকেন।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন