‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২১

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

'ক' একটি সদ্যস্বাধীন রাষ্ট্র। স্বাধীনতা অর্জনের পরবর্তীতে দেশটি একটি গণপরিষদ গঠন করে। গণপরিষদ অল্প সময়ের মধ্যে জাতিকে একটি সংবিধান উপহার দেয়। সংবিধানটিতে রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা সহ আরো দুটি মূলনীতির কথা বলা হয়েছে। উক্ত সংবিধানের জনগণের মৌলিক অধিকার প্রধান সহ মৌলিক অধিকারের নিশ্চয়তা বিধান দেওয়া হয়েছে।

  1. ক)

    কখন থেকে বাংলাদেশের সংবিধান কার্যকর হয়?

    (1)
  2. খ)

    খাদ্য ভেজাল বলতে কী বোঝো?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত মূলনীতি ছাড়া বাংলাদেশের সংবিধানে আরও কী কী মূলনীতি রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের 'ক' রাষ্ট্রের সংবিধানের সাথে বাংলাদেশের সংবিধানের তুলনামূলক আলোচনা কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালের ১৬ই ডিসেম্বর (বিজয় দিবস) থেকে কার্যকর হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    খাদ্য ভেজাল বলতে কোনো খাদ্যদ্রব্যে অপ্রয়োজনীয়, ক্ষতিকর, নিম্নমানের বা বিষাক্ত রাসায়নিক ও অননুমোদিত পদার্থ মিশিয়ে খাদ্যের স্বাভাবিক গুণগত মান ও পুষ্টিগুণ বিনষ্ট করাকে বোঝায়। অতিরিক্ত মুনাফা লাভের আশায় অসাধু ব্যবসায়ীরা ফল পাকাতে কার্বাইড, খাদ্যে ক্ষতিকর রং, ফরমালিন বা বিষাক্ত রাসায়নিক উপাদান ব্যবহার করে, যা মানবদেহের জন্য অত্যন্ত মারাত্মক ক্ষতিকর।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা ছাড়া বাংলাদেশের সংবিধানের অবশিষ্ট দুটি মূলনীতি হলো:
    ১. জাতীয়তাবাদ (Nationalism)
    ২. গণতন্ত্র (Democracy)

    ব্যাখ্যা:
    ১. জাতীয়তাবাদ: সংবিধানের ৯ অনুচ্ছেদ অনুসারে, ভাষাগত ও সংস্কৃতিগত একক সত্তাবিশিষ্ট যে বাঙালি জাতি ঐক্যবদ্ধ ও সংকল্পবদ্ধ সংগ্রাম করে জাতীয় মুক্তির মাধ্যমে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অর্জন করেছে, সেই বাঙালি জাতির ঐক্য ও সংহতিই হবে বাঙালি জাতীয়তাবাদের মূল ভিত্তি।

    ২. গণতন্ত্র: সংবিধানের ১১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রজাতন্ত্র হবে একটি গণতন্ত্র, যেখানে মৌলিক মানবাধিকার ও স্বাধীনতার নিশ্চয়তা থাকবে, মানবসত্তার মর্যাদা ও মূল্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ নিশ্চিত হবে এবং প্রশাসনের সকল স্তরে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে জনগণের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে।

    এই দুটি মূলনীতিসহ মোট চারটি মূলনীতি (জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা) বাংলাদেশের সংবিধানের মূল ভিত্তি হিসেবে স্বীকৃত।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের 'ক' রাষ্ট্রের সংবিধানের সাথে স্বাধীন বাংলাদেশের ১৯৭২ সালের সংবিধানের গভীর সাদৃশ্য পরিলক্ষিত হয়। নিচে উভয়ের তুলনামূলক আলোচনা করা হলো:

    ১. রাষ্ট্রীয় প্রেক্ষাপট ও গণপরিষদ: বাংলাদেশের মতো 'ক' রাষ্ট্রটিও সদ্যস্বাধীন। ১৯৭১ সালের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের পর ১৯৭২ সালের ১০ই এপ্রিল বাংলাদেশ গণপরিষদ গঠিত হয় এবং গণপরিষদের খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটির মাধ্যমে অত্যন্ত স্বল্প সময়ের মধ্যে (মাত্র ১০ মাসের ব্যবধানে) একটি পূর্ণাঙ্গ সংবিধান প্রণয়ন করা হয়। 'ক' রাষ্ট্রেও গণপরিষদের মাধ্যমে দ্রুততম সময়ে সংবিধান প্রণয়ন করা হয়েছে।

    ২. রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি: বাংলাদেশের সংবিধানের চারটি রাষ্ট্রীয় মূলনীতি হলো—জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র এবং ধর্মনিরপেক্ষতা। উদ্দীপকের 'ক' রাষ্ট্রের সংবিধানেও সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতাসহ আরও দুটি মূলনীতি (জাতীয়তাবাদ ও গণতন্ত্র) বিধৃত রয়েছে, যা বাংলাদেশের সংবিধানের সাথে হুবহু সামঞ্জস্যপূর্ণ।

    ৩. মৌলিক অধিকারের নিশ্চয়তা: বাংলাদেশের সংবিধানের তৃতীয় ভাগে (অনুচ্ছেদ ২৬ থেকে ৪৪) নাগরিকদের জন্য মৌলিক অধিকার সুস্পষ্টভাবে সন্নিবেশিত করা হয়েছে এবং এই অধিকার ক্ষুণ্ন হলে উচ্চ আদালতে রিট করার মাধ্যমে বিচারিক প্রতিকারের নিশ্চয়তা (অনুচ্ছেদ ৪৪ ও ১০২) দেওয়া হয়েছে। উদ্দীপকের 'ক' রাষ্ট্রের সংবিধানেও একইভাবে মৌলিক অধিকার ও তার নিশ্চয়তা বিধানের ব্যবস্থা রয়েছে।

    সুতরাং, সংবিধান প্রণয়নের পদ্ধতি, দ্রুততা, রাষ্ট্রীয় মূলনীতি এবং মৌলিক অধিকারের নিশ্চয়তার দিক থেকে উদ্দীপকের 'ক' রাষ্ট্রের সংবিধান মূলত বাংলাদেশের ১৯৭২ সালের মূল সংবিধানেরই প্রতিচ্ছবি।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন