সমাজকর্ম ১ম পত্র • সমাজকর্ম পদ্ধতি • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা, যশোর, সিলেট বোর্ড ২০২৩
সমাজকর্ম ১ম পত্র প্রশ্ন
করোনা মহামারি ও বৈশ্বিক সংকটের কারণে সমগ্র বিশ্বে : দারিদ্র্যের হার উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। এ অবস্থায় প্রফেসর ফখরুল ইসলাম দারিদ্র্যের কারণ উদঘাটনের জন্য ছাত্র-ছাত্রীদের করণীয় সম্পর্কে। দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। ছাত্র-ছাত্রীরা তথ্য সংগ্রহ, উপাত্ত বিশ্লেষণ, প্রতিবেদন তৈরিসহ প্রভৃতি কার্য সম্পাদন করেন।
- ক)(1)
ব্যক্তি সমাজকর্মের অগ্রদূত বলা হয় কাকে?
- খ)(2)
সমষ্টি সংগঠন বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে ছাত্র-ছাত্রীরা দারিদ্র্যের কারণ উদঘাটনের জন্য সমাজকর্মের কোন সহায়ক পদ্ধতির আশ্রয় গ্রহণ করেছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উক্ত পদ্ধতির সুনির্দিষ্ট ধাপসমূহ বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মেরি রিচমন্ডকে (Mary Richmond) ব্যক্তি সমাজকর্মের অগ্রদূত বলা হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সমষ্টি সংগঠন বলতে ভৌগোলিক বা কার্যভিত্তিক সমষ্টির চাহিদা ও সমস্যা চিহ্নিত করে স্থানীয় সম্পদের সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহারের মাধ্যমে সমষ্টির সার্বিক কল্যাণ ও উন্নয়ন সাধনের সুশৃঙ্খল প্রক্রিয়াকে বোঝায়। এটি প্রধানত অনুন্নত বা উন্নয়নশীল এলাকায় সমষ্টির জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে কাজ করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে ছাত্র-ছাত্রীরা দারিদ্র্যের কারণ উদঘাটনের জন্য সমাজকর্মের সহায়ক পদ্ধতি 'সমাজকর্ম গবেষণা'র (Social Work Research) আশ্রয় গ্রহণ করেছে।
সমাজকর্ম গবেষণা হলো সমাজকর্ম অনুশীলনের এমন একটি বিজ্ঞানভিত্তিক ও সহায়ক পদ্ধতি, যার মাধ্যমে সামাজিক সমস্যাবলির অন্তর্নিহিত কারণ, প্রভাব এবং সমাধানের উপায় অনুসন্ধানের জন্য নিয়মতান্ত্রিক তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা হয়।
উদ্দীপকে প্রফেসর ফখরুল ইসলামের নির্দেশনায় ছাত্র-ছাত্রীরা দারিদ্র্যের কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ, উপাত্ত বিশ্লেষণ এবং প্রতিবেদন তৈরির কাজ সম্পন্ন করেছে। এই কার্যক্রমগুলো সরাসরি সমাজকর্ম গবেষণার মৌলিক উপাদান ও প্রক্রিয়ার সাথে সম্পর্কযুক্ত। অতএব, তারা সমাজকর্ম গবেষণা পদ্ধতিরই আশ্রয় গ্রহণ করেছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে নির্দেশিত পদ্ধতিটি হলো 'সমাজকর্ম গবেষণা'। একটি সফল সমাজকর্ম গবেষণা সম্পন্ন করতে কতগুলো নির্দিষ্ট ও সুশৃঙ্খল ধাপ অনুসরণ করতে হয়। ধাপসমূহ নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. সমস্যা নির্বাচন ও সংজ্ঞায়ন (Identification and Formulation of the Problem): গবেষণার শুরুতে দারিদ্র্যের মতো একটি সুনির্দিষ্ট বিষয় নির্বাচন করতে হয় এবং তার পরিধি স্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করতে হয়।
২. সাহিত্য পর্যালোচনা (Literature Review): নির্বাচিত বিষয়ের উপর পূর্বে প্রকাশিত বই, জার্নাল ও গবেষণা রিপোর্ট পর্যালোচনা করে বিদ্যমান জ্ঞান সম্পর্কে ধারণা লাভ করা হয়।
৩. উদ্দেশ্য নির্ধারণ ও প্রকল্প প্রণয়ন (Formulation of Objectives and Hypotheses): গবেষণার মাধ্যমে কী জানা যাবে তা ঠিক করা এবং গবেষণাধীন চলকগুলোর মধ্যে সম্ভাব্য সম্পর্কের অনুমান বা অনুকল্প তৈরি করা।
৪. গবেষণা নকশা প্রণয়ন (Research Design): গবেষণাটি কোন পদ্ধতিতে পরিচালিত হবে (বর্ণনামূলক, ব্যাখ্যামূলক ইত্যাদি) এবং নমুনার আকার কেমন হবে তা নির্ধারণ করা।
৫. তথ্য সংগ্রহ (Data Collection): প্রশ্নপত্র, সাক্ষাৎকার, পর্যবেক্ষণ বা দলগত আলোচনার মাধ্যমে মাঠপর্যায় থেকে প্রাসঙ্গিক তথ্য সংগ্রহ করা হয় (যেমন উদ্দীপকে ছাত্র-ছাত্রীরা করেছে)।
৬. উপাত্ত প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিশ্লেষণ (Data Processing and Analysis): সংগৃহীত কাঁচা তথ্য যাচাই, শ্রেণিবিন্যাস ও কোডিং শেষে পরিসংখ্যানিক পদ্ধতির মাধ্যমে বিশ্লেষণ করা হয়।
৭. ফলাফল ও সাধারণীকরণ (Findings and Generalization): বিশ্লেষণের ওপর ভিত্তি করে বাস্তব সত্য বা গবেষণার ফলাফল তুলে ধরা হয়।
৮. প্রতিবেদন লিখন (Report Writing): সম্পূর্ণ গবেষণার প্রক্রিয়া, ফলাফল, দারিদ্র্য নিরসনের সুপারিশ ও সিদ্ধান্তসমূহ সন্নিবেশিত করে একটি বিজ্ঞানসম্মত প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়।এই ধারাবাহিক ধাপগুলো অনুসরণের মাধ্যমেই সমাজকর্ম গবেষণা তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যের বাস্তবায়ন নিশ্চিত করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও