সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা, যশোর, সিলেট বোর্ড ২০২৩
সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন
বাঁধন, রিপন ও শিমুল স্কুল জীবনের তিন বন্ধু। বর্তমানে সবাই উচ্চশিক্ষিত হয়ে ভিন্ন ভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছে। বাঁধন বিবাহ করে স্ত্রীকে নিয়ে পিতার বাড়িতে উঠেছে। আর রিপন বিবাহ করে স্ত্রীকে নিয়ে স্ত্রীর পিতার বাড়িতে উঠেছে। অন্যদিকে শিমুল বিবাহ করে স্ত্রীকে নিয়ে নিজের তৈরি করা বাড়িতে উঠেছে। সচরাচর তাদের সাক্ষাৎ না হলেও মোবাইলে তারা যোগাযোগ রেখেছে।
- ক)(1)
প্রথা কী?
- খ)(2)
"বিবাহ একটি সামাজিক চুক্তি”- ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লেখিত বাঁধন ও রিপনের বিবাহভিত্তিক পরিবারগুলো কোন ধরনের? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের শিমুলের পরিবারটি বর্তমানে বিভিন্ন কারণে বৃদ্ধি পাচ্ছে- তোমার মতামতসহ বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রথা হলো সমাজে দীর্ঘকাল ধরে প্রচলিত এমন কিছু সামাজিক আচরণ, রীতিনীতি বা অভ্যাস, যা সমাজের অধিকাংশ মানুষ অলিখিত নিয়ম হিসেবে মেনে চলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বিবাহ হলো সমাজ ও আইন স্বীকৃত এমন এক প্রাতিষ্ঠানিক বন্ধন বা চুক্তি, যার মাধ্যমে একজন পুরুষ ও একজন নারী বৈধভাবে দাম্পত্য জীবন শুরু করে এবং পারস্পরিক অধিকার ও দায়িত্ব পালনের প্রতিশ্রুতি দেয়। সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, বিবাহ কেবল একটি ধর্মীয় বা জৈবিক সম্পর্ক নয়; এটি স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার সামাজিক, অর্থনৈতিক ও আইনি দায়দায়িত্ব নির্ধারণকারী একটি আনুষ্ঠানিক সামাজিক চুক্তি।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লেখিত বাঁধনের পরিবারটি ‘পিতৃবাস পরিবার’ এবং রিপনের পরিবারটি ‘মাতৃবাস পরিবার’।
বিবাহ-উত্তর বসবাসের স্থানের ভিত্তিতে পরিবারকে প্রধানত তিন ভাগে ভাগ করা যায়: পিতৃবাস, মাতৃবাস এবং নয়াবাস পরিবার। বিবাহের পর নবদম্পতি যখন স্বামীর পিতার গৃহে বা পরিবারে বসবাস করে, তখন তাকে পিতৃবাস পরিবার বলে। আর বিবাহের পর নবদম্পতি যখন স্ত্রীর পিতার গৃহে বা পরিবারে বসবাস করে, তখন তাকে মাতৃবাস পরিবার বলে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, বাঁধন বিবাহ করে স্ত্রীকে নিয়ে তার পিতার বাড়িতে উঠেছে, যা পিতৃবাস পরিবারের প্রতিরূপ। অন্যদিকে, রিপন বিবাহ করার পর স্ত্রীকে নিয়ে তার স্ত্রীর পিতার বাড়িতে (শ্বশুরবাড়ি) বসবাস শুরু করেছে, যা মাতৃবাস পরিবারের নির্দেশক।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের শিমুলের পরিবারটি হলো ‘নয়াবাস পরিবার’। বর্তমান আধুনিক সমাজে বিভিন্ন বাস্তবতার কারণে এ ধরনের পরিবার প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে—এ বক্তব্যটির সাথে আমি সম্পূর্ণ একমত।
বিবাহের পর নবদম্পতি স্বামী বা স্ত্রী কারও পিতামাতার সঙ্গে বসবাস না করে সম্পূর্ণ আলাদা কোনো স্থানে নতুন বাসস্থান গড়ে তুললে তাকে নয়াবাস পরিবার বলে। উদ্দীপকে শিমুল বিবাহ করে স্ত্রীকে নিয়ে নিজের তৈরি আলাদা বাড়িতে উঠেছে, যা একটি নয়াবাস পরিবারের উদাহরণ।
বর্তমানে নয়াবাস পরিবার বৃদ্ধি পাওয়ার পেছনে বেশ কিছু সামাজিক ও অর্থনৈতিক কারণ কাজ করছে:
১. নগরায়ণ ও শিল্পায়ন: আধুনিক শিল্পভিত্তিক সমাজে জীবিকার তাগিদে মানুষ গ্রাম থেকে শহরে পাড়ি দিচ্ছে এবং কর্মস্থলের কাছেই আলাদাভাবে বসবাস শুরু করছে।
২. পেশাগত ভিন্নতা ও গতিশীলতা: আধুনিক পেশাগত জীবনে বদলি বা কর্মক্ষেত্রের ভৌগোলিক পরিবর্তনের কারণে যৌথ বা পিতৃবাস পরিবারে থাকা সম্ভব হয় না।
৩. ব্যক্তি স্বাতন্ত্র্যবোধ: আধুনিক ব্যক্তিকেন্দ্রিক মনোভাব ও স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা থেকে নবদম্পতিরা আলাদা হয়ে একক পরিবার গড়ে তুলছে।
৪. অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা ও শিক্ষার প্রসার: উচ্চশিক্ষা ও স্বাবলম্বী হওয়ার ফলে স্বামী-স্ত্রী উভয়ই নিজেদের সুবিধামতো স্বাধীন আবাস গড়ে তুলতে পছন্দ করে।অতএব, আর্থ-সামাজিক পরিবর্তন, নগরায়ণ এবং আধুনিক জীবনধারার প্রভাবে উদ্দীপকের শিমুলের মতো নয়াবাস পরিবারের সংখ্যা প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও