সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা, যশোর, সিলেট বোর্ড ২০২৩
সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন
- ক)(1)
বয়স বৈষম্যবাদ কী?
- খ)(2)
"পরিবার মানবশিশুর প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান" - বুঝিয়ে লেখো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে ‘?’ চিহ্নিত স্থানে সমাজজীবনে প্রভাব বিস্তারকারী কোন উপাদানটি বসবে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
তোমার কি মনে হয়, উপাদানটি সমাজব্যবস্থাকে নানাভাবে প্রভাবিত করে? উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বয়সের ভিত্তিতে কোনো ব্যক্তি বা দলের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ বা দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করাকে বয়স বৈষম্যবাদ (Ageism) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পরিবার হলো মানুষের সামাজিক জীবনের সূচনা কেন্দ্র এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক প্রতিষ্ঠান। জন্মের পর মানবশিশু পরিবারের সান্নিধ্যে প্রথম সামাজিক শিক্ষা লাভ করে। মা-বাবা এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের কাছ থেকে সে কথা বলা, ভাষা, নৈতিকতা, আচার-আচরণ, স্নেহ-ভালোবাসা ও সমাজের রীতিনীতি শিখে থাকে। শিশুর ব্যক্তিত্ব গঠন ও সামাজিকীকরণের ভিত্তি পরিবারেই গড়ে ওঠে বলে পরিবারকে মানবশিশুর প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে ‘?’ চিহ্নিত স্থানে সমাজজীবনে প্রভাব বিস্তারকারী 'ভৌগোলিক উপাদান' বা 'প্রাকৃতিক পরিবেশ' বসবে।
ভৌগোলিক উপাদান বলতে কোনো অঞ্চলের জলবায়ু, ভূপ্রকৃতি, মৃত্তিকা, নদনদী, খনিজ সম্পদ প্রভৃতির সামগ্রিক অবস্থাকে বোঝায়। এই উপাদানগুলো মানুষের জীবনযাত্রা ও সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে গভীর প্রভাব বিস্তার করে।
উদ্দীপকের চিত্রে দেখা যায়, পোশাক-পরিচ্ছদ, ঘরবাড়ির ধরন, পেশা, যানবাহন, কর্মদক্ষতা এবং অর্থনীতির ধরন—এই বিষয়গুলোর কেন্দ্রে রয়েছে একটি মূল উপাদান। এই সবকটি উপাদানই ভৌগোলিক বা প্রাকৃতিক পরিবেশ দ্বারা প্রত্যক্ষভাবে নিয়ন্ত্রিত হয়। যেমন: শীতপ্রধান অঞ্চলের মানুষ গরম পোশাক এবং উষ্ণ অঞ্চলের মানুষ সুতি বা হালকা পোশাক পরে; নদীমাতৃক অঞ্চলে নৌকা ও সমতলে স্থলযান ব্যবহৃত হয়; ভূপ্রকৃতির ওপর নির্ভর করে মানুষের পেশা ও অর্থনীতির রূপ নির্ধারিত হয়। সুতরাং, উদ্দীপকের কেন্দ্রবিন্দুতে সমাজজীবনে প্রভাব বিস্তারকারী ‘ভৌগোলিক উপাদান’ বসবে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হ্যাঁ, আমি মনে করি ভৌগোলিক উপাদান সমাজব্যবস্থাকে নানাভাবে গভীরভাবে প্রভাবিত করে।
সমাজবিজ্ঞানে মানবসমাজের বিকাশ, সংস্কৃতি ও সমাজ কাঠামোর পরিবর্তনে ভৌগোলিক বা প্রাকৃতিক পরিবেশের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিম্নে এর সপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করা হলো:
১. জীবনধারণ ও পেশা: ভৌগোলিক পরিবেশের ওপর নির্ভর করে মানুষের অর্থনৈতিক কাজকর্ম ও পেশা গড়ে ওঠে। নদী তীরবর্তী মানুষ মৎস্যজীবী, উর্বর অঞ্চলের মানুষ কৃষক এবং খনিজসমৃদ্ধ অঞ্চলের মানুষ খনি শ্রমিক বা শিল্প পেশায় নিয়োজিত হয়।
২. বসতি ও ঘরবাড়ির ধরন: যে অঞ্চলের জলবায়ু ও ভূপ্রকৃতি যেমন, সেখানে ঘরবাড়ি নির্মাণে সেই ধরনের সামগ্রী ও নকশা ব্যবহৃত হয়। ভূমিকম্পপ্রবণ বা পাহাড়ি এলাকায় কাঠের ঘর এবং উপকূলীয় অঞ্চলে বাঁশ বা টিনের ঘর বেশি দেখা যায়।
৩. সংস্কৃতি ও পোশাক-পরিচ্ছদ: জলবায়ুর তারতম্যের কারণে মানুষের খাদ্যাভ্যাস ও পোশাক-পরিচ্ছদ পরিবর্তিত হয়। শীতপ্রধান দেশের সংস্কৃতি ও পোশাক উষ্ণমণ্ডলীয় অঞ্চলের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা।
৪. কর্মদক্ষতা ও মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব: নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলের জলবায়ু মানুষের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করে, অন্যদিকে চরমভাবাপন্ন জলবায়ু মানুষকে অলস বা ক্লান্ত করে তুলতে পারে।
৫. সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন: প্রাচীন সভ্যতার ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, নীলনদ, সিন্ধু ও মেসোপটেমিয়ার মতো নদী উপত্যকাতেই সমাজ ও রাষ্ট্রীয় কাঠামোর বিকাশ ঘটেছে।
অতএব, মানুষের অস্তিত্ব, সমাজব্যবস্থার রূপরেখা এবং সভ্যতার অগ্রগতি বহুলাংশে ভৌগোলিক পরিবেশের ওপর নির্ভরশীল। তাই বলা যায়, উপাদানটি সমাজব্যবস্থাকে সামগ্রিক ও বহুমুখীভাবে প্রভাবিত করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও