কৃষি শিক্ষা ১ম পত্র • ভূমি সম্পৃক্ত কৃষি প্রযুক্তি • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা বোর্ড ২০২২
কৃষি শিক্ষা ১ম পত্র প্রশ্ন
নিচের ছকটি লক্ষ করো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
- ক)(1)
মৃত্তিকা pH কী?
- খ)(2)
জমিতে মালচিং করা হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের 'C' চিহ্নিত পদ্ধতিটি ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
ফসল উৎপাদানে 'A' চিহ্নিত পদ্ধতিটির উপযোগিতা বিশ্লেষণ। করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মাটি বা মৃত্তিকায় হাইড্রোজেন আয়নের ঘনমাত্রার ঋণাত্মক লগারিদমকে মৃত্তিকা pH বা মাটির অম্লমান বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মাটির আর্দ্রতা সংরক্ষণ এবং বাষ্পীভবনের মাধ্যমে পানি অপচয় রোধ করার জন্য জমিতে মালচিং করা হয়।
খড়, লতাপাতা, শুকনা ঘাস বা পলিথিন দিয়ে মাটির উপরিভাগ ঢেকে রাখলে প্রখর সূর্যালোকের কারণে মাটি থেকে পানি বাষ্পীভূত হতে পারে না। ফলে মাটিতে দীর্ঘদিন পর্যন্ত রস বা আর্দ্রতা বজায় থাকে। এছাড়া মালচিং করার ফলে জমিতে আগাছা জন্মাতে পারে না, মাটির তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং ভূমিক্ষয় হ্রাস পায়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে পানি সেচ পদ্ধতির ছকে 'C' চিহ্নিত পদ্ধতিটি হলো 'ফোয়ারা সেচ পদ্ধতি' (Sprinkler Irrigation)।
বৃষ্টির মতো কৃত্রিমভাবে ফসলের ওপর ফোঁটা ফোঁটা করে পানি ছিটানোকে ফোয়ারা সেচ পদ্ধতি বলে। এ পদ্ধতিতে প্রধান পাইপলাইনের সাথে নোজল বা স্প্রিঙ্কলার যুক্ত করে পাম্পের সাহায্যে উচ্চ চাপে পানি সরবরাহ করা হয়। ফলে পানি বাতাসের মধ্য দিয়ে বৃষ্টির ধারার মতো চারদিকে ছড়িয়ে ফসলের ওপর পড়ে।
অসমতল ও ঢালু জমি যেখানে সাধারণ সেচ পদ্ধতিতে পানি সমানভাবে পৌঁছায় না, সেখানে এ পদ্ধতি অত্যন্ত কার্যকর। এছাড়া বেলে বা হালকা গঠনের মাটিতে যেখানে পানির দ্রুত অনুপ্রবেশ ঘটে, সেখানে ফোয়ারা সেচ দিলে পানির অপচয় রোধ হয়। চা বাগান, কফি বাগান এবং বিভিন্ন শাকসবজির ক্ষেতে এই পদ্ধতি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের 'A' চিহ্নিত পদ্ধতিটি হলো 'ভূ-পৃষ্ঠস্থ সেচ পদ্ধতি' (Surface Irrigation)। ফসল উৎপাদনে এই পদ্ধতির উপযোগিতা অত্যন্ত ব্যাপক ও তাৎপর্যপূর্ণ। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো:
১. সহজপ্রাপ্যতা ও ব্যয়সাশ্রয়ী: ভূ-পৃষ্ঠস্থ সেচ পদ্ধতিতে নালা বা প্লাবনের মাধ্যমে সমতল ভূমিতে স্বাভাবিক অভিকর্ষ বলের সাহায্যে পানি প্রবাহিত হয়। এতে কোনো বিশেষ বা ব্যয়বহুল যন্ত্রপাতির প্রয়োজন হয় না, যা সাধারণ কৃষকদের জন্য সহজ ও সাশ্রয়ী।
২. বিভিন্ন ধরনের ফসলে উপযোগিতা: আমাদের দেশের প্রধান খাদ্যশস্য যেমন ধান, গম, ডাল, তেলবীজ ইত্যাদির ক্ষেত্রে এ পদ্ধতি সবচেয়ে উপযোগী। বিশেষ করে রোপা আমন ও বোরো ধানের জন্য সার্বক্ষণিক বা নির্দিষ্ট সময় পর পর নিয়ন্ত্রিত প্লাবন সেচ অত্যন্ত কার্যকর।
৩. মাটির উপরিভাগের লবণাক্ততা দূরীকরণ: যেসব জমিতে লবণাক্ততার সমস্যা রয়েছে, সেখানে ভূ-পৃষ্ঠস্থ প্লাবন সেচ দিয়ে সহজেই ক্ষতিকর লবণ নিচের স্তরে বা নিষ্কাশন নালার মাধ্যমে বের করে দেওয়া যায়।
৪. মাটির পুষ্টি উপাদানের কার্যকারিতা বৃদ্ধি: মাটির উপরিভাগে সার প্রয়োগ করার পর ভূ-পৃষ্ঠস্থ সেচের মাধ্যমে পানি দিলে সার দ্রবীভূত হয়ে সহজেই উদ্ভিদের শিকড় অঞ্চলে পৌঁছে যায়।
অতএব, বাংলাদেশের কৃষি প্রেক্ষাপট, কৃষকদের আর্থিক সক্ষমতা এবং প্রধান প্রধান ফসলের পানির চাহিদার বিচারে 'A' চিহ্নিত ভূ-পৃষ্ঠস্থ সেচ পদ্ধতিটি সর্বাধিক কার্যকর ও উপযোগী।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও