‍অর্থনীতি ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, যশোর, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৮

‍অর্থনীতি ১ম পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    দুষ্প্রাপ্যতা কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    মিশ্র অর্থব্যবস্থায় মূল্য কীভাবে নির্ধারিত হয়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে যে মৌলিক অর্থনৈতিক সমস্যার কথা উপস্থাপিত হয়েছে তা ব্যাখ্যা করো ।

    (3)
  4. ঘ)

    E ও F বিন্দুতে উৎপাদন করার ক্ষেত্রে সম্ভাবনা ও যৌক্তিকতা বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মানুষের অসীম অভাবের তুলনায় সম্পদের অপ্রতুলতা বা সীমাবদ্ধতাকে অর্থনীতির ভাষায় দুষ্প্রাপ্যতা বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মিশ্র অর্থব্যবস্থায় মূল্য স্বয়ংক্রিয় বাজার ব্যবস্থা এবং সরকারি নিয়ন্ত্রণ—উভয়ের সমন্বয়ে নির্ধারিত হয়।

    মিশ্র অর্থব্যবস্থায় ব্যক্তিগত ও সরকারি খাতের সহাবস্থান থাকে। এখানে সাধারণ দ্রব্যসামগ্রীর ক্ষেত্রে ব্যক্তিমালিকানাধীন খাতে চাহিদা ও জোগানের পারস্পরিক ঘাত-প্রতিঘাতের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাজার মূল্য নির্ধারিত হয়। অন্যদিকে, জনকল্যাণমূলক ও জরুরি অত্যাবশ্যকীয় দ্রব্যের ক্ষেত্রে সাধারণ জনগণের স্বার্থ রক্ষার্থে সরকার সর্বোচ্চ বা সর্বনিম্ন মূল্য নির্ধারণ বা ভর্তুকির মাধ্যমে মূল্য নিয়ন্ত্রণ করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে মৌলিক অর্থনৈতিক সমস্যাসমূহের মধ্যে প্রথম সমস্যা অর্থাৎ 'কী উৎপাদন করা হবে?' (What to produce) সমস্যাটি উপস্থাপিত হয়েছে।

    অর্থনীতিবিদ পি. এ. স্যামুয়েলসনের মতে, প্রতিটি সমাজকেই মূলত তিনটি প্রধান অর্থনৈতিক সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। তার প্রথমটি হলো—সম্পদের সীমাবদ্ধতার কারণে সমাজ কোন কোন দ্রব্য কী পরিমাণে উৎপাদন করবে তা নির্ধারণ করা। উদ্দীপকের চিত্রে একটি উৎপাদন সম্ভাবনা রেখা (AD) দেখানো হয়েছে, যেখানে সমাজে বিদ্যমান সীমিত সম্পদ ও চলতি প্রযুক্তির সাহায্যে X ও Y দ্রব্যের বিভিন্ন সংমিশ্রণ উৎপাদন করা সম্ভব।

    চিত্রে দেখা যায়, সমাজ যদি X দ্রব্য ও Y দ্রব্যের সংমিশ্রণ পছন্দ করে, তবে সে B বিন্দু বেছে নিলে OX₁ পরিমাণ X দ্রব্য এবং OY₁ পরিমাণ Y দ্রব্য উৎপাদিত হবে। আবার C বিন্দুতে উৎপাদন করলে OX₂ পরিমাণ X দ্রব্য এবং OY₂ পরিমাণ Y দ্রব্য উৎপাদিত হবে। অর্থাৎ একটি দ্রব্যের উৎপাদন বাড়াতে গেলে অপর দ্রব্যের উৎপাদন ছেড়ে দিতে হয়। সমাজ ঠিক কোন দ্রব্যটি কী পরিমাণে উৎপাদন করবে—এ সিদ্ধান্ত গ্রহণই উদ্দীপকের উৎপাদন সম্ভাবনা রেখার মূল বিবেচ্য বিষয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের চিত্রে AD হলো উৎপাদন সম্ভাবনা রেখা (PPC)। নিচে E ও F বিন্দুতে উৎপাদন করার সম্ভাবনা ও যৌক্তিকতা বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. E বিন্দুতে উৎপাদন করার ক্ষেত্রে:

    • সম্ভাবনা: E বিন্দুটি উৎপাদন সম্ভাবনা রেখার ভেতরের একটি বিন্দু। যেহেতু এটি রেখার অভ্যন্তরে অবস্থিত, তাই বর্তমান সম্পদ ও প্রযুক্তি দ্বারা এ বিন্দুতে উৎপাদন করা সম্ভব বা অর্জনযোগ্য।
    • যৌক্তিকতা: E বিন্দুতে উৎপাদন করা অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে যৌক্তিক বা কাম্য নয়। কারণ এ বিন্দুতে সমাজের প্রাপ্তিসাধ্য সম্পদের পূর্ণ ব্যবহার হয় না, অর্থাৎ সম্পদের অপূর্ণ ব্যবহার বা বেকারত্ব বজায় থাকে। E বিন্দু থেকে উৎপাদন বাড়িয়ে B বা C বিন্দুতে যাওয়া সম্ভব, যেখানে কোনো দ্রব্যের উৎপাদন না কমিয়ে অন্যটির উৎপাদন বৃদ্ধি করা যায়। ফলে E বিন্দু অদক্ষ উৎপাদন নির্দেশ করায় এখানে উৎপাদন যৌক্তিক নয়।

    ২. F বিন্দুতে উৎপাদন করার ক্ষেত্রে:

    • সম্ভাবনা: F বিন্দুটি উৎপাদন সম্ভাবনা রেখার বাইরে অবস্থিত একটি বিন্দু। বিদ্যমান সম্পদ ও চলতি প্রযুক্তির সাহায্যে এ বিন্দুতে উৎপাদন করা অসম্ভব বা অঅর্জনযোগ্য (Unattainable)।
    • যৌক্তিকতা: F বিন্দুতে পৌঁছানো সমাজের জন্য অত্যন্ত কাঙ্ক্ষিত হলেও বর্তমান অবস্থায় তা অর্জন করা অবাস্তব। ভবিষ্যতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, মূলধন বৃদ্ধি কিংবা উন্নত প্রযুক্তির আবিষ্কারের ফলে যদি উৎপাদন সম্ভাবনা রেখা ডানদিকে স্থানান্তরিত হয়, তবেই কেবল F বিন্দুতে উৎপাদন সম্ভব ও যৌক্তিক হতে পারে।

    পরিশেষে বলা যায়, বাস্তব দৃষ্টিকোণ থেকে E বিন্দুতে উৎপাদন সম্ভব হলেও তা অদক্ষতার কারণে অযৌক্তিক, এবং F বিন্দুটি অধিক কাম্য হলেও বর্তমান সম্পদের সীমাবদ্ধতার কারণে সেখানে উৎপাদন করা অসম্ভব। তাই AD রেখার ওপর অবস্থিত যেকোনো বিন্দুতে (যেমন B বা C) উৎপাদন করাই যুক্তিযুক্ত।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন