পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২৫
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
একটি রাষ্ট্রের উপনিবেশিক শাসকগোষ্ঠী প্রশাসনের সুবিধার জন্য একটি প্রদেশ ভেঙে দু'ভাগ করে। প্রশাসনিক সুবিধার কথা বললেও রাজনৈতিক কারণও এর পেছনে কাজ করেছিল। এ কার্যক্রমকে প্রদেশটির পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায় সমর্থন করেছিল।
- ক)(1)
কোন আইনের মাধ্যমে কেন্দ্রে দ্বৈতশাসন প্রবর্তন করা হয়?
- খ)(2)
প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন কী? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকটি তোমার পঠিত বইয়ের কোন ঘটনাকে নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ তোমার পঠিত ঘটনার ফলাফল মূল্যায়ন করো। ৪
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের মাধ্যমে কেন্দ্রে দ্বৈতশাসন প্রবর্তন করা হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন বলতে বোঝায় রাষ্ট্রের প্রদেশগুলোর অভ্যন্তরীণ শাসন পরিচালনায় কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণমুক্ত হয়ে স্বাধীনভাবে ক্ষমতা প্রয়োগের অধিকার। ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের মাধ্যমে প্রদেশগুলোকে সীমিত আকারে স্বায়ত্তশাসন দেওয়া হয়েছিল, যার ফলে প্রাদেশিক মন্ত্রিসভা আইনসভার কাছে তাদের কাজের জন্য দায়ী থাকত। তবে গভর্নরের বিশেষ ক্ষমতার কারণে তা পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকটি আমার পঠিত বইয়ের ১৯০৫ সালের ঐতিহাসিক 'বঙ্গভঙ্গ' ঘটনাকে নির্দেশ করে।
তৎকালীন অবিভক্ত বাংলা প্রদেশ ছিল আয়তন ও জনসংখ্যার দিক থেকে অত্যন্ত বিশাল, যার শাসনকার্য একজন গভর্নরের পক্ষে পরিচালনা করা দুরূহ ছিল। ফলে ব্রিটিশ শাসক লর্ড কার্জন ১৯০৫ সালে বাংলাকে বিভক্ত করে 'পূর্ববঙ্গ ও আসাম' এবং 'পশ্চিমবঙ্গ' নামে দুটি পৃথক প্রদেশ গঠন করেন। ব্রিটিশরা প্রশাসনিক সুবিধার কথা বললেও মূলত ভারতীয় জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকে দুর্বল করা এবং হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে বিভেদ তৈরি করাই ছিল এর অন্যতম রাজনৈতিক উদ্দেশ্য।
উদ্দীপকে ঔপনিবেশিক শাসকগোষ্ঠীর প্রশাসনিক সুবিধার পাশাপাশি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে প্রদেশ বিভক্তিকরণ এবং পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায়ের (পূর্ব বাংলার মুসলিম জনগণ) সমর্থন প্রদানের বিষয়টি ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গের সাথেই পুরোপুরি সাদৃশ্যপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ ঐতিহাসিক ঘটনাটি হলো ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ। এই ঘটনা তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের রাজনীতিতে সুদূরপ্রসারী ফলাফল ও প্রভাব ফেলেছিল, যা নিচে মূল্যায়ন করা হলো:
১. রাজনৈতিক সচেতনতা ও মুসলিম লীগের জন্ম: বঙ্গভঙ্গের ফলে পূর্ববঙ্গের পিছিয়ে পড়া মুসলিম জনগোষ্ঠী নতুন সুযোগ-সুবিধা পেয়ে উৎসাহিত হয়। এর ফলে মুসলমানদের রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষার তাগিদে ১৯০৬ সালে গঠিত হয় 'নিখিল ভারত মুসলিম লীগ'।
২. স্বদেশী আন্দোলন ও জাতীয়তাবাদের বিস্তার: হিন্দু সম্প্রদায়ের বুদ্ধিজীবী ও জাতীয়তাবাদী নেতারা এই বিভক্তিকে 'মাতৃভূমির অঙ্গচ্ছেদ' হিসেবে গণ্য করেন এবং তীব্র বঙ্গভঙ্গ-বিরোধী আন্দোলন ও স্বদেশী আন্দোলন শুরু করেন।
৩. সাম্প্রদায়িক বিভেদ বৃদ্ধি: বঙ্গভঙ্গকে কেন্দ্র করে দুই সম্প্রদায়ের বিপরীতমুখী অবস্থান হিন্দু-মুসলিম ঐক্যে তীব্র ফাটল সৃষ্টি করে, যা পরবর্তীকালে দ্বিজাতিতত্ত্বের পথ সুগম করে।
৪. বঙ্গভঙ্গ রদ (১৯১১): উগ্র হিন্দু জাতীয়তাবাদী আন্দোলন ও তীব্র রাজনৈতিক অস্থিরতার মুখে ব্রিটিশ সরকার ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদ বা বাতিল করতে বাধ্য হয়, যা মুসলমানদের মধ্যে ব্রিটিশদের প্রতি আস্থার সংকট সৃষ্টি করে।
সুতরাং, বঙ্গভঙ্গ ব্রিটিশদের ক্ষমতাকে দীর্ঘায়িত করার একটি চাল হলেও এটি উপমহাদেশের রাজনৈতিক মেরুকরণ এবং ভবিষ্যৎ বিভাজনের বীজ বপন করে দিয়েছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও