অর্থনীতি ২য় পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২১
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
মি. 'B' ইংল্যান্ড প্রবাসী। সে পঞ্চগড় জেলার বাসিন্দা। বেশ কয়েক বছর পর দেশে বেড়াতে আসে। পঞ্চগড়ে এসে সে খুব খুশি হয়। কারণ তার জেলাতেও কয়েকটি পাটকল স্থাপিত হয়েছে। লোকজনের কর্মসংস্থান হয়েছে এবং এলাকায় উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে। কিন্তু সে লক্ষ করে পাটকলগুলো পাট পাচ্ছে না এবং উৎপাদন খরচের তুলনায় পাটজাত পণ্যের দাম কম। দক্ষ শ্রমিকের অভাব ও গ্যাসের সরবরাহ না থাকায় উৎপাদন খরচ বেশি হয়। সে মনে করে এই শিল্পের জন্য সরকারের ভর্তুকি প্রদান, শ্রমিক প্রশিক্ষণ ও গ্যাস সরবরাহের মতো পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত। যাতে করে বাংলার হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য পুনরুদ্ধার হয়।
- ক)(1)
হাইটেক শিল্প কী?
- খ)(2)
বৃহৎ শিল্প কীভাবে আয় বৈষম্য সৃষ্টি করে? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের আলোকে পাট শিল্পের সমস্যাসমূহ আলোচনা করো।
- ঘ)(4)
উল্লিখিত শিল্পের সমস্যা সমাধানের জন্য আরও কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করা দরকার বলে তুমি মনে করো? উদ্দীপকে আলোকে ব্যাখ্যা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে শিল্পে অত্যন্ত উন্নত ও অত্যাধুনিক বিজ্ঞানভিত্তিক প্রযুক্তি, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বা ইলেকট্রনিক্স ব্যবহার করে উচ্চ মানসম্পন্ন ও জ্ঞাননির্ভর পণ্য উৎপাদন করা হয়, তাকে হাইটেক শিল্প বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বৃহৎ শিল্পে সাধারণত বিপুল পরিমাণ মূলধন ও আধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োজন হয়, যা সমাজের মুষ্টিমেয় ধনী পুঁজিপতিদের নিয়ন্ত্রণে থাকে। ফলে এই শিল্পের অর্জিত বিশাল মুনাফা ও সম্পদ সমাজের গুটিকয়েক পুঁজিপতির হাতে পুঞ্জীভূত হয়। অন্যদিকে এতে নিয়োজিত সাধারণ শ্রমিকরা ন্যায্য মজুরি থেকে অনেক সময় বঞ্চিত হয় এবং মূলধনের অনুপাতে শ্রমিকের কর্মসংস্থানের সুযোগ তুলনামূলকভাবে কম থাকে। এর ফলে সমাজের ধনী ও দরিদ্র শ্রেণির মধ্যে অর্থনৈতিক ব্যবধান বেড়ে গিয়ে আয় বৈষম্য সৃষ্টি হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের আলোকে বাংলাদেশের পাট শিল্পের প্রধান সমস্যাসমূহ নিচে আলোচনা করা হলো:
১. কাঁচামাল বা কাঁচা পাটের সংকট: উদ্দীপকে দেখা যায় পঞ্চগড়ের পাটকলগুলো পর্যাপ্ত কাঁচা পাট পাচ্ছে না। সঠিক সময়ে ও ন্যায্যমূল্যে কাঁচামাল না পাওয়া উৎপাদন বিঘ্নিত হওয়ার প্রধান কারণ।
২. দক্ষ শ্রমিকের অভাব: আধুনিক যন্ত্রপাতি পরিচালনায় দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনবলের অভাবে উৎপাদনশীলতা হ্রাস পায় এবং অপচয় বাড়ে।
৩. জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট: গ্যাস ও নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহের অভাবে উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে যায়।
৪. অসম মূল্য পরিস্থিতি: উৎপাদিত পাটজাত পণ্যের দাম উৎপাদন খরচের তুলনায় কম হওয়ায় পাটকলগুলো ক্রমাগত লোকসানের সম্মুখীন হচ্ছে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে পাট শিল্পের উন্নয়নে সরকারি ভর্তুকি, শ্রমিক প্রশিক্ষণ ও গ্যাস সরবরাহের যে সুপারিশ করা হয়েছে, তা ছাড়াও পাট শিল্পের টেকসই পুনরুজ্জীবনের জন্য আরও কিছু কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি:
১. পণ্যের বহুমুখীকরণ: শুধু চট বা বস্তার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে পাটের ব্যাগ, পোশাক, জুতা, গৃহসজ্জা ও পরিবেশবান্ধব নিত্যব্যবহার্য বহুমুখী পণ্য উৎপাদনে জোর দিতে হবে।
২. অভ্যন্তরীণ বাজার সৃষ্টি ও আইনের কঠোর প্রয়োগ: পলিথিনের পরিবর্তে পাটজাত পণ্যের মোড়ক ব্যবহারের বাধ্যতামূলক আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।
৩. পাটকলগুলোর আধুনিকায়ন ও পুনঃসংস্কার: পুরাতন ও অদক্ষ যন্ত্রপাতি পরিবর্তন করে আধুনিক শক্তি-সাশ্রয়ী যন্ত্রপাতি স্থাপন করতে হবে।
৪. আন্তর্জাতিক বাজার অনুসন্ধান ও কূটনীতি: বৈশ্বিক পরিবেশ সচেতনতাকে কাজে লাগিয়ে পাটজাত পণ্যের নতুন নতুন আন্তর্জাতিক বাজার খুঁজে বের করা এবং রপ্তানি প্রণোদনা বৃদ্ধি করা দরকার।
৫. গবেষণা ও উন্নয়ন: উচ্চফলনশীল পাটের জাত উদ্ভাবন এবং স্বল্প খরচে উন্নত মানের পণ্য উৎপাদনের জন্য গবেষণা বাড়ানো আবশ্যক।অতএব, উল্লেখিত পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়ন করা গেলে পাট শিল্প লাভজনক হবে এবং বাংলার ঐতিহ্যবাহী 'সোনালী আঁশ'-এর গৌরব পুনরুদ্ধার সম্ভব হবে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও