বাংলা ২য় পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২৫

বাংলা ২য় পত্র প্রশ্ন

11.

(ক) সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি সম্পর্কে বাবা ও মেয়ের মধ্যে সংলাপ রচনা কর।অথবা,(খ) 'স্বনির্ভরতার জন্য দেশি শিল্পের বিকাশ চাই' শিরোনামে একটি খুদে গল্প রচনা কর।

উত্তর ও ব্যাখ্যা

AI-তৈরি নমুনা উত্তর

(ক) এর উত্তর:

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি সম্পর্কে বাবা ও মেয়ের সংলাপ:

স্থান: বাসার বসার ঘর
পাত্র-পাত্রী: বাবা (আহমেদ সাহেব) ও মেয়ে (অনন্যা)

অনন্যা: বাবা, কাল তো আমাদের এলাকায় শারদীয় দুর্গাপূজা শুরু হচ্ছে, তাই না? আমি কি আমার বন্ধু অর্পিতার বাসায় যেতে পারি?
বাবা: অবশ্যই মা! ধর্ম যার যার, উৎসব তো সবার। প্রতিবেশীর আনন্দের দিনে পাশে থাকা আমাদের সামাজিক দায়িত্ব।
অনন্যা: কিন্তু বাবা, আজকাল খবরের কাগজে দেখি কিছু মানুষ ধর্ম নিয়ে কত হানাহানি করে। এটা কেন হয়?
বাবা: মা রে, এটা ঘটে সংকীর্ণ মানসিকতা আর অজ্ঞতার কারণে। প্রকৃত ধর্ম কখনো অন্য ধর্মের মানুষের প্রতি বিদ্বেষ শেখায় না। সব ধর্মই শান্তি, মানবতা আর পরমতসহিষ্ণুতার কথা বলে।
অনন্যা: তাহলে আমাদের দেশের আসল ঐতিহ্য কী বাবা?
বাবা: আমাদের হাজার বছরের ঐতিহ্য হলো সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি। এই ভূখণ্ডে হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সবাই যুগে যুগে ভাইয়ের মতো কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বাস করে আসছে। আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধেও সব ধর্মের মানুষ এক হয়ে রক্ত দিয়েছিল।
অনন্যা: হ্যাঁ বাবা, কাজী নজরুল ইসলামও তো লিখেছেন—"মোরা এক বৃন্তে দুটি কুসুম হিন্দু-মুসলমান।"
বাবা: একদম ঠিক বলেছ মা। আমাদের পারস্পরিক ভালোবাসা আর সম্প্রীতিই এই দেশের প্রধান শক্তি। নতুন প্রজন্ম হিসেবে তোমাদের দায়িত্ব এই সম্প্রীতির মেলবন্ধনকে আরও মজবুত রাখা।
অনন্যা: আমি বুঝেছি বাবা। অর্পিতার বাসায় গিয়ে ওর আনন্দকে ভাগ করে নেব।
বাবা: খুব ভালো। সবাইকে নিয়ে মিলেমিশে থাকাই তো জীবনের আসল সৌন্দর্য।


অথবা,

(খ) এর উত্তর:

স্বনির্ভরতার জন্য দেশি শিল্পের বিকাশ চাই

বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর শেষ করার পর আবিরের সহপাঠীরা যখন চাকরির পেছনে ছুটছিল, আবির তখন ভিন্ন এক স্বপ্ন দেখছিল। তার বাড়ি টাঙ্গাইলের তাঁতপ্রধান এলাকায়। ছোটবেলা থেকেই সে দেখেছে বিদেশি কাপড়ের তীব্র আগ্রাসনে দেশের ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্প এবং মাটির তৈরি মৃৎশিল্প কীভাবে হারিয়ে যেতে বসেছে। দক্ষ কারিগররা অর্থাভাবে পেশা বদলে দিনমজুরের কাজ বেছে নিচ্ছেন।

আবির ভাবল, কোনো দেশ কেবল বিদেশি পণ্যের ওপর নির্ভর করে স্বাবলম্বী হতে পারে না। নিজের পায়ে দাঁড়াতে হলে দেশীয় সম্পদের সঠিক ব্যবহার এবং দেশি শিল্পের পুনরুজ্জীবন ঘটাতে হবে। সে গ্রামের কয়েকজন অভিজ্ঞ তাঁতি ও মৃৎশিল্পীকে নিয়ে একটি ক্ষুদ্র দল গঠন করল। নিজের সামান্য সঞ্চয় এবং যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ঋণের সাহায্যে সে গড়ে তুলল 'স্বদেশী কারুশালা'।

শুরুতে অনেকেই তাকে নিরুৎসাহিত করেছিল। কিন্তু আবির আধুনিক রুচি ও চাহিদার সাথে ঐতিহ্যবাহী ডিজাইনের সমন্বয় ঘটাল। উন্নত মানের সুতা ব্যবহার করে জামদানি, খাদি ও সুতি কাপড়ের তৈরি পোশাকের পাশাপাশি আধুনিক গৃহসজ্জার জন্য মাটির শোপিস তৈরি শুরু করল। সে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সরাসরি ক্রেতাদের কাছে এসব দেশীয় পণ্য পৌঁছে দিল।

অল্প সময়ের মধ্যেই তাদের তৈরি খাঁটি ও নান্দনিক পণ্যের ব্যাপক চাহিদা তৈরি হলো। এলাকার বহু বেকার যুবক ও নারীদের সেখানে কর্মসংস্থান হলো। এক বছরের ব্যবধানে আবিরের প্রতিষ্ঠান একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপ নিল। আশপাশের গ্রামগুলোতেও দেশীয় হস্তশিল্পের নবজাগরণ ঘটল।

উপজেলা দিবসে সফল উদ্যোক্তা হিসেবে আবিরকে সংবর্ধনা দেওয়া হলো। বক্তব্য দিতে গিয়ে আবির গর্বের সাথে বলল, "বিদেশি পণ্য আমদানির মোহ ত্যাগ করে আমাদের দেশি পণ্যের মর্যাদা দিতে হবে। কারণ স্বনির্ভরতার মূল চাবিকাঠি হলো দেশি শিল্পের সার্বিক বিকাশ।"

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন