ইসলাম শিক্ষা ২য় পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২১

ইসলাম শিক্ষা ২য় পত্র প্রশ্ন

ভর দুপুর। রাশেদ সাহেব অফিসে বসে পরিবারের কথা ভাবছিলেন দশ সদদ্যের সংসার। আয় যা করেন কোনোমতে মাস চলে। দুশ্চিন্তা মেয়ের বিবাহ নিয়ে। এমন সময় স্থানীয় বহু জমিজমার এক মালিক জমির খাজনা দিতে আসলেন। কাগজপত্রে বেশকিছু অসুবিধা থাকায় লোকটি পঞ্চাশ হাজার টাকার খাজনা দেওয়ার জন্য বিশ হাজার টাকা অতিরিক্ত দিতে চাইলেন। রাশেদ সাহেব বিনয়ের সাথে তা নিতে অস্বীকার করলেন। বললেন, এ কাজ আমার দায়িত্ব। আপনি বৈধ কাগজে নিয়ে আসুন, আমি দাখিলা কেটে দিব। আমার কাজের বিনিময়ে সরকার যে বেতন দিচ্ছে তাতেই আমি খুশি। সাথি তার বান্ধবী লিজার সাথে দেখা হলে খুব লজ্জাজনক ভাষায় কথা বলল। । অন্য আরেক বান্ধবীর সাথেও অনুরূপ আচরণ প্রকাশ করে। একারণে বান্ধবীরা সাথীকে এড়িয়ে চলতে শুরু করেছে। ফলে ধীরে ধীরে সাথি একা হয়ে পড়েছে । এতে সে মোটেও বিচলিত নয় ।

  1. ক)

    কোন হাত উত্তম?

    (1)
  2. খ)

    বন্ধুই বন্ধুর পরিচয়- ব্যাখ্যা কর ।

    (2)
  3. গ)

    রাশেদ সাহেবের উপার্জন কীরূপ? হাদিসের আলোকে ব্যাখ্যা কর ।

    (3)
  4. ঘ)

    সাথির আচরণের পরিণতি বিশ্লেষণ কর ।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    হাদিস অনুসারে ওপরের হাত (দাতা) নিচের হাত (গ্রহীতা) অপেক্ষা উত্তম।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মানুষ যার সাথে মেলামেশা করে তার আচার-আচরণ ও চরিত্রের প্রভাব নিজের ওপর পড়ে, তাই বলা হয় 'বন্ধুই বন্ধুর পরিচয়'। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, 'মানুষ তার বন্ধুর রীতিনীতি গ্রহণ করে থাকে; অতএব প্রত্যেকেরই লক্ষ রাখা উচিত সে কার সাথে বন্ধুত্ব করছে' (তিরমিজি)। সৎ বন্ধুর সংসর্গ মানুষকে ভালো পথে পরিচালিত করে এবং অসৎ সঙ্গ মানুষকে অন্যায়ের দিকে নিয়ে যায়। ফলে কোনো ব্যক্তির সঙ্গী-সাথীদের দেখেই তার চরিত্র ও মানসিকতা অনুধাবন করা যায়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    রাশেদ সাহেবের উপার্জন সম্পূর্ণ হালাল ও পবিত্র। হাদিসের আলোকে এটি সর্বোত্তম উপার্জনের অন্তর্ভুক্ত।

    ইসলামে স্বহস্তে অর্জিত ও সততার সাথে অর্জিত জীবিকাকে সর্বোচ্চ মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে সর্বোত্তম উপার্জন সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, 'ব্যক্তির স্বহস্তে কৃত কাজ এবং সততাপূর্ণ সৎ ব্যবসা' (মুসনাদে আহমাদ)। পাশাপাশি ইসলামে ঘুষ লেনদেন সম্পূর্ণ হারাম ঘোষণা করে রাসুল (সা.) বলেছেন, 'ঘুষদাতা ও ঘুষগ্রহীতা উভয়ই জাহান্নামি' (তিরমিজি)।

    উদ্দীপকে রাশেদ সাহেব অর্থনৈতিক টানাপোড়েনে থাকা সত্ত্বেও অবৈধ সুবিধা বা বিশ হাজার টাকার অনৈতিক উৎকোচ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি সরকারি দায়িত্ব পালনের বিনিময়ে প্রাপ্ত বৈধ বেতনেই সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। নিজের কর্মের প্রতি তার সততা এবং ঘুষের মতো হারাম অর্থ বর্জন করার মাধ্যমে নিশ্চিত হয় যে তার উপার্জিত জীবিকা সম্পূর্ণ হালাল ও পুণ্যময়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সাথির কটূভাষী ও লজ্জাহীন আচরণের পরিণতি অত্যন্ত মারাত্মক, যা তাকে পার্থিব জীবনে সমাজচ্যুত এবং পরকালে আল্লাহর অসন্তুষ্টি ও শাস্তির মুখোমুখি করবে।

    ইসলামে মুখের ভাষা শালীন রাখা ও লজ্জাশীলতা বজায় রাখার ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, 'লজ্জাশীলতা পুরোটাই কল্যাণময়' (সহিহ বুখারি)। বিপরীতে অশ্লীল ও কর্কশ ভাষা ব্যবহার করা মোনাফেকের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। হাদিস শরিফে এসেছে, যে ব্যক্তি অশ্লীল কথা বলে আল্লাহ তাকে ঘৃণা করেন এবং তা মানুষকে জাহান্নামের দিকে ঠেলে দেয়।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, সাথি তার বান্ধবীদের সাথে লজ্জাহীন ও কটূ ভাষায় কথা বলে। ফলে বান্ধবীরা তাকে পরিহার করে চলছে এবং সে ক্রমান্বয়ে একা হয়ে পড়েছে। এতে পার্থিব জীবনে সে বন্ধুহীন ও নিন্দিত হয়েছে। সামাজিক এই নিঃসঙ্গতা তার ভুল আচরণের তাৎক্ষণিক কুফল। পরকালীন দিক থেকেও এমন আচরণ কবিরা গুনাহের শামিল, যা আল্লাহর রহমত থেকে বঞ্চিত করে এবং শাস্তির উপযোগী করে তোলে।

    অতএব, সংশোধন না হলে সাথির এই লজ্জাহীন আচরণ পার্থিব জীবনে তাকে চরম একাকীত্ব ও লাঞ্ছনার দিকে এবং আখেরাতে কঠিন শাস্তির দিকে ধাবিত করবে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন