‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২১

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

বৈশিষ্ট্য / দিক | কলাম 'M' | কলাম 'N'
মূল পরিচিতি | ব্রিটিশ ভারতের স্বরাজ পার্টির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও প্রখ্যাত আইনজীবী। | অবিভক্ত বাংলার শেষ প্রধানমন্ত্রী এবং প্রখ্যাত রাজনৈতিক নেতা।
রাজনৈতিক অবদান | হিন্দু-মুসলমান সম্প্রীতি রক্ষার্থে 'বেঙ্গল প্যাক্ট' প্রণয়ন এবং শিক্ষাদীক্ষায় অনগ্রসর মুসলমানদের সুযোগ বৃদ্ধি। | ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট গঠনে অগ্রণী ভূমিকা এবং বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর অধিকার প্রতিষ্ঠা।
গণতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি | সম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও যৌথ ঐক্যের মাধ্যমে স্বায়ত্তশাসন অর্জনে বিশ্বাসী। | পাকিস্তানের সংবিধানে ন্যায়সংগত অধিকার ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সোচ্চার ভূমিকা।

  1. ক)

    শেখ মুজিবুর রহমান কত তারিখে স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করেন?

    (1)
  2. খ)

    ঋণ-সালেসি বোর্ডের ভূমিকা ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের  'M' কলাম তোমার পঠিত কোন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের  'N' কলাম তোমার পঠিত যে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব কে নির্দেশ করে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় তার অবদান মূল্যায়ন কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালের ১০ই জানুয়ারি পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে স্বাধীন বাংলাদেশে স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করেন।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বাংলার দরিদ্র কৃষকদের মহাজনি ঋণের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক 'ঋণ-সালিশি বোর্ড' প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৩৬ সালে বঙ্গীয় কৃষি খাতক আইন (Bengal Agricultural Debtors Act) প্রণয়নের মাধ্যমে প্রতিটি ইউনিয়নে এই বোর্ড গঠিত হয়। ঋণগ্রস্ত কৃষক ও ঋণদাতা মহাজনদের মধ্যকার বিরোধ সালিশির মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা, সুদের হার কমানো এবং কৃষকের ঋণ মওকুফ বা দীর্ঘমেয়াদে পরিশোধের সুযোগ সৃষ্টি করাই ছিল এ বোর্ডের মূল ভূমিকা। ফলে বহু দরিদ্র কৃষক ভিটেমাটি হারানোর হাত থেকে রক্ষা পায়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের 'M' কলামটি ভারতীয় উপমহাদেশের প্রখ্যাত আইনজীবী ও মহান জাতীয়তাবাদী নেতা দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ (সি. আর. দাশ)-কে নির্দেশ করে।

    চিত্তরঞ্জন দাশ ছিলেন স্বরাজ দলের (Swaraj Party) প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং একজন খ্যাতনামা আইনজীবী। তিনি হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের মাধ্যমে স্বায়ত্তশাসন অর্জনের পক্ষে আজীবন কাজ করে গেছেন। অনগ্রসর মুসলিম জনগোষ্ঠীর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি গড়ে তুলতে তিনি ১৯২৩ সালে 'বেঙ্গল প্যাক্ট' (Bengal Pact) বা বাংলা চুক্তি সম্পাদন করেন, যাতে কলকাতা কর্পোরেশন ও সরকারি চাকরিতে মুসলমানদের ন্যায্য হিস্যা প্রদানের বিধান ছিল।

    উদ্দীপকের 'M' কলামে উল্লিখিত স্বরাজ পার্টির প্রতিষ্ঠাতা, বেঙ্গল প্যাক্ট প্রণয়ন এবং হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতির মাধ্যমে স্বায়ত্তশাসন অর্জনের বিশ্বাসী ব্যক্তিত্ব হিসেবে চিত্তরঞ্জন দাশকেই নির্দেশ করা হয়েছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের 'N' কলামটি হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীকে নির্দেশ করে, যিনি গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় অসামান্য ভূমিকা রেখে 'গণতন্ত্রের মানসপুত্র' হিসেবে খ্যাত হয়েছেন।

    হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী অবিভক্ত বাংলার শেষ প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। পাকিস্তান সৃষ্টির পর মুসলিম লীগের অগণতান্ত্রিক ও কর্তৃত্বপরায়ণ রাজনীতির বিপরীতে তিনি বিরোধী দল গঠনে আত্মনিয়োগ করেন এবং আওয়ামী মুসলিম লীগ (পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ) প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা রাখেন। ১৯৫৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে তিনি শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক ও মওলানা ভাসানীর সাথে যৌথভাবে 'যুক্তফ্রন্ট' গঠনে ঐতিহাসিক নেতৃত্ব দেন, যা পাকিস্তানের বুকে গণতন্ত্রের এক অভূতপূর্ব বিজয় এনে দেয়।

    এছাড়া ১৯৫৬ সালের পাকিস্তানের সংবিধানে জনগণের মৌলিক অধিকার, ন্যায়সংগত দাবি ও পার্লামেন্টারি গণতন্ত্র অন্তর্ভুক্তকরণে তিনি আইনমন্ত্রী ও পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কাজ করেন। পাকিস্তানের সামরিক স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে তিনি ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (NDF) গঠন করে বিরোধী দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন। তাঁর সমগ্র রাজনৈতিক জীবনই ছিল গণতন্ত্র, নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতি এবং জনগণের অধিকার আদায়ের জন্য নিবেদিত।

    সুতরাং, উদ্দীপকের 'N' কলামে বর্ণিত নেতা হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ভারতীয় উপমহাদেশ ও পাকিস্তানে সংসদীয় গণতন্ত্রের ভিত্তি নির্মাণে এক অবিস্মরণীয় অবদান রেখে গেছেন।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন