যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২১
যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র প্রশ্ন
রবিন ও মুবিন দুই ভাই। বিরোধের কারণে আলাদা বসবাস করেন। চেয়ারম্যান বিষয়টি অনুধাবন করে তাদের মধ্যে বিদ্যমান বিরোধ নিরসনের উদ্যোগ নেন। তিনি প্রথমে রবিন এবং পরে মুবিনের সাথে আলোচনা করেন এবং দুই ভাইয়ের মধ্যে বিরোধের অবসান ঘটান।
- ক)(1)
আবর্তনের আশ্রয়বাক্যকে কী বলা হয়?
- খ)(2)
চতুষ্পদী অনুপপত্তি কেন ঘটে?
- গ)(3)
উদ্দীপকে চেয়ারম্যান সহানুমানের কোন পদের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে নির্দেশিত বিষয়টির প্রকৃতি বিশ্লেষণ করো
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আবর্তনের আশ্রয়বাক্যকে 'আবর্তনীয়' (Convertend) বলা হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সহানুমানের একটি মৌলিক নিয়ম হলো এতে কেবল তিনটি পদ থাকবে। যদি কোনো যুক্তিতে তিনটির পরিবর্তে চারটি পদ ব্যবহার করা হয়, তবে যুক্তিটি ত্রুটিপূর্ণ হয় এবং সেখানে 'চতুষ্পদী অনুপপত্তি' (Fallacy of four terms) ঘটে। সাধারণত কোনো একটি পদকে দুটি ভিন্ন অর্থে ব্যবহার করলে পদটি কার্যত দুটি পৃথক পদে রূপ নেয়, যার ফলে মোট পদের সংখ্যা চারটিতে উন্নীত হয়ে এ অনুপপত্তির সৃষ্টি হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে চেয়ারম্যান সহানুমানের 'মধ্যপদ' বা হেতুপদ (Middle Term)-এর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন।\n\nযুক্তিবিদ্যায় যে পদ উভয় আশ্রয়বাক্যে উপস্থিত থাকে কিন্তু সিদ্ধান্তে অনুপস্থিত থেকে প্রধান পদ ও অপ্রধান পদের মধ্যে সংযোগ বা সম্পর্ক স্থাপন করে দেয়, তাকে মধ্যপদ বলা হয়।\n\nউদ্দীপকে দেখা যায়, রবিন ও মুবিন দুই ভাইয়ের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হওয়ায় তারা আলাদা বসবাস করছিলেন। চেয়ারম্যান বিষয়টি অনুধাবন করে প্রথমে রবিন এবং পরে মুবিনের সাথে পৃথকভাবে আলোচনা করেন এবং শেষ পর্যন্ত তাদের বিরোধের অবসান ঘটিয়ে দেন। এখানে রবিন ও মুবিন যথাক্রমে প্রধান পদ ও অপ্রধান পদের প্রতীক এবং চেয়ারম্যান মধ্যপদের মতো উভয়ের সাথে স্বতন্ত্রভাবে সংযুক্ত হয়ে তাদের মাঝে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করেছেন। বিরোধ মীমাংসা হয়ে ভাইয়ে ভাইয়ে সম্পর্ক স্থাপিত হওয়ার পর চেয়ারম্যানের মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা আর বিদ্যমান থাকে না, ঠিক যেমন মধ্যপদ সিদ্ধান্তে থাকে না। তাই চেয়ারম্যানের ভূমিকাটি সহানুমানের মধ্যপদের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে নির্দেশিত বিষয়টি হলো সহানুমানের 'মধ্যপদ' (Middle Term) এবং এর কার্যপ্রকৃতি। নিচে মধ্যপদের স্বরূপ ও প্রকৃতি বিশ্লেষণ করা হলো:\n\n১. সংযোগকারী ভূমিকা: সহানুমানের মধ্যপদের মূল কাজ হলো প্রধান আশ্রয়বাক্যে প্রধান পদের সাথে এবং অপ্রধান আশ্রয়বাক্যে অপ্রধান পদের সাথে সম্পর্কিত হয়ে সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তাদের উভয়ের মধ্যে একটি অনিবার্য সম্পর্ক স্থাপন করা। উদ্দীপকেও চেয়ারম্যান অনুরূপভাবে দুই ভাইয়ের সাথে পৃথকভাবে সংযোগ ঘটিয়ে তাদের মধ্যে পুনরায় মেলবন্ধন তৈরি করেন।\n\n২. সিদ্ধান্তে অনুপস্থিতি: মধ্যপদের প্রকৃতিগত নিয়ম হলো এটি কেবল আশ্রয়বাক্যদ্বয়ে অবস্থান করে কিন্তু সিদ্ধান্তে সম্পূর্ণ অনুপস্থিত থাকে। উদ্দীপকে মীমাংসা সম্পন্ন হওয়ার পর দুই ভাইয়ের মিলনেই মূল গুরুত্ব পায়, যেখানে চেয়ারম্যান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নিজেকে গুটিয়ে নেন।\n\n৩. ব্যাপকতা সংক্রান্ত নিয়ম: সহানুমানের বৈধতার জন্য মধ্যপদকে অন্তত একবার অবশ্যই সমগ্র অর্থে বা ব্যাপ্য (distributed) হতে হয়। মধ্যপদ ব্যাপ্য না হলে অনুপপত্তি ঘটে। উদ্দীপকে চেয়ারম্যানের উভয় ভাইয়ের সাথে পূর্ণাঙ্গ ও সুষ্ঠু আলোচনার প্রক্রিয়াটি মধ্যপদের যথোপযুক্ত ভূমিকার ইঙ্গিত দেয়।\n\nসুতরাং, উদ্দীপকটির মধ্য দিয়ে সহানুমানের মধ্যপদের অপরিহার্যতা এবং দুই পদের মধ্যকার সম্পর্ক নির্ণয়ে এর সক্রিয় প্রকৃতির প্রতিফলন ঘটেছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও