সমাজকর্ম ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, যশোর, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৮

সমাজকর্ম ১ম পত্র প্রশ্ন

রিফাত উচ্চ শিক্ষা শেষে এখন গবেষণায় মন দিতে চায়। সে তার গবেষণায় ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর জীবনযাপনের সমস্যাগুলো তুলে ধরতে চায়। তাই তাকে ঐ জাতিগোষ্ঠীর উৎপত্তি, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্রমবিকাশ সম্পর্কে যেমন জ্ঞানার্জন করতে হচ্ছে তেমনি তাদের জন্মহার, মৃত্যুহার, স্থানান্তর, জনসংখ্যা কাঠামো ও বন্ধন সম্পর্কিত তথ্যও সংগ্রহ করতে হচ্ছে।

  1. ক)

    জ্ঞান-বিজ্ঞানের ধারা কয়টি? *

    (1)
  2. খ)

    মনোবিজ্ঞানকে কেন সামাজিক বিজ্ঞান বলা হয়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে রিফাতের গবেষণার সাথে জড়িত বিষয়টি সম্পর্কে ধারণা দাও।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে জন্ম-মৃত্যুহার সম্পর্কিত যে বিষয়টির ইঙ্গিত রয়েছে একজন সমাজকর্মীর জন্য তার আবশ্যকতা মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    জ্ঞান-বিজ্ঞানের ধারা মূলত ২টি (যথা: প্রাকৃতিক বিজ্ঞান ও সামাজিক বিজ্ঞান)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মনোবিজ্ঞান মানুষের মানসিক প্রক্রিয়া ও আচরণের বিজ্ঞানসম্মত অধ্যয়ন করে। মানুষ একটি সামাজিক জীব এবং তার আচরণ সমাজ, পরিবেশ ও সামাজিক আন্তঃক্রিয়া দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত ও নিয়ন্ত্রিত হয়। সামাজিক পরিবেশে ব্যক্তির আচার-আচরণ, মূল্যবোধ, ব্যক্তিত্বের বিকাশ ও মনোভাব পর্যালোচনা করার কারণেই মনোবিজ্ঞানকে একটি সামাজিক বিজ্ঞান হিসেবে গণ্য করা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে রিফাতের গবেষণার প্রথম অংশের সাথে জড়িত বিষয়টি হলো 'নৃবিজ্ঞান' (Anthropology)।

    নৃবিজ্ঞান হলো এমন একটি সামাজিক বিজ্ঞান যা মানবজাতির সামগ্রিক উৎপত্তি, শারীরিক বৈশিষ্ট্য, জৈবিক বিকাশ এবং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্রমবিকাশ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করে।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, রিফাত তার গবেষণায় ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর উৎপত্তি এবং তাদের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্রমবিকাশ তুলে ধরতে চায়। একটি বিশেষ মানবগোষ্ঠী বা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর উৎপত্তি, তাদের সমাজব্যবস্থা, রীতিনীতি, বিশ্বাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য পর্যালোচনার প্রধান ক্ষেত্র হলো সাংস্কৃতিক নৃবিজ্ঞান বা সামাজিক নৃবিজ্ঞান। ফলে রিফাতের এ গবেষণার ভিত্তি নৃবিজ্ঞানের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে জন্মহার, মৃত্যুহার, স্থানান্তর ও জনসংখ্যা কাঠামো সম্পর্কিত যে বিষয়টির ইঙ্গিত রয়েছে তা হলো 'জনবিজ্ঞান' বা 'জনসংখ্যাবিদ্যা' (Demography)। একজন সমাজকর্মীর জন্য জনসংখ্যাবিদ্যার জ্ঞান অত্যন্ত আবশ্যক।

    সমাজকর্মের মূল লক্ষ্য হলো ব্যক্তি, দল ও সমষ্টির সমস্যার বিজ্ঞানসম্মত সমাধান করে তাদের সামাজিক কার্যক্ষমতা পুনরুদ্ধার করা। জনসংখ্যা সম্পর্কিত তথ্যাবলি একজন সমাজকর্মীর কাজের ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত কারণে গুরুত্বপূর্ণ:
    ১. সঠিক সমস্যা ও চাহিদা নিরূপণ: কোনো সমাজের জনসংখ্যার আকার, বয়স ও লিঙ্গভিত্তিক কাঠামো, জন্ম-মৃত্যুহার ইত্যাদি জানা থাকলে সমাজকর্মী সেখানকার প্রকৃত চাহিদা ও সমস্যা (যেমন- নির্ভরশীলতার হার, প্রবীণ সমস্যা বা মাতৃমৃত্যু) সহজেই চিহ্নিত করতে পারেন।
    ২. বাস্তবমুখী পরিকল্পনা প্রণয়ন: জনসংখ্যার বিস্তার ও স্থানান্তর (Migration) সম্পর্কে ধারণা না থাকলে কার্যকর সমাজকল্যাণ কর্মসূচি বা সেবা পরিকল্পনা প্রণয়ন সম্ভব নয়।
    ৩. সম্পদের বণ্টন: প্রাপ্ত স্থানীয় সম্পদ ও মানবসম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহারের জন্য জনসংখ্যা কাঠামোর স্পষ্ট ধারণা অপরিহার্য।
    ৪. টেকসই সমাধান: ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী বা অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদী কর্মসূচি বাস্তবায়নে জনবিজ্ঞানগত তথ্য মৌলিক ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।

    অতএব, সমস্যাগ্রস্ত মানুষের কার্যকর পুনর্বাসন ও সঠিক সামাজিক নীতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সমাজকর্মীর জন্য জনবিজ্ঞান বা জনসংখ্যাতত্ত্বের ধারণা অপরিহার্য।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন