বাংলা ১ম পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০১৭

বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন

ইতিহাসের এক বীর চরিত্র মহীশূরের টিপু সুলতান। ইংরেজদের বিরুদ্ধে টিপু যুদ্ধ করে প্রাণ দিয়েছেন। চতুর ইংরেজ টিপুর দরবারের এক উচ্চাভিলাষী সেনাপতিকে হাত করেছিল। এই সেনাপতি গোপনে টিপুর সব খবর ইংরেজদের কাছে পৌঁছে দিত। যুদ্ধের এক পর্যায়ে সে দূর্গের দরজা খুলে দিলে ইংরেজরা দুর্গে প্রবেশ করে। নিজলোকের বিশ্বাসঘাতকতায় টিপু প্রাণ হারান।

  1. ক)

    সিরাজউদ্দৌলার স্ত্রীর নাম কী?

    (1)
  2. খ)

    "শুভ কাজে অযথা বিলম্ব করা বুদ্ধিমানের কাজ নয়"- ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের সেনাপতির সঙ্গে তোমার পঠিত নাটকের কোন চরিত্রের মিল রয়েছে? আলোচনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    'টিপু সুলতান এবং নবাব সিরাজউদ্দৌলার জীবনের নির্মম পরিণতি একই সূত্রে গাঁথা'- মন্তব্যটির যথার্থতা বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সিরাজউদ্দৌলার স্ত্রীর নাম লুৎফুন্নিসা (লুৎফা)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    "শুভ কাজে অযথা বিলম্ব করা বুদ্ধিমানের কাজ নয়"—উক্তিটি ঘসেটি বেগম উমিচাঁদের প্রতি করেছিল।

    নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য ঘসেটি বেগম, মীরজাফর, রাজবল্লভ, উমিচাঁদ প্রমুখ গোপন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। তারা নবাবকে উৎখাত করার উদ্দেশ্যে যত দ্রুত সম্ভব চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপ নিতে চেয়েছিল। দেশদ্রোহী এই ষড়যন্ত্রকারীরা নবাবের পতন ঘটিয়ে ইংরেজদের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের অপচেষ্টাকেই তাদের জন্য 'শুভ কাজ' বলে বিবেচনা করেছিল এবং তাই এই কাজে বিলম্ব না করার তাগিদ দেওয়া হয়েছিল।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের উচ্চাভিলাষী ও বিশ্বাসঘাতক সেনাপতির সঙ্গে 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের প্রধান সেনাপতি মীরজাফরের চরিত্রের পূর্ণ মিল রয়েছে।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, টিপু সুলতানের দরবারের এক উচ্চাভিলাষী সেনাপতি বিদেশি ইংরেজদের সাথে হাত মিলিয়ে নবাবের গোপন তথ্য পাচার করত এবং যুদ্ধের এক পর্যায়ে দুর্গের দরজা খুলে দিয়ে টিপু সুলতানের পরাজয় ও মৃত্যুর কারণ হয়েছিল।

    'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকেও নবাবের প্রধান সেনাপতি মীরজাফর আলী খান ছিলেন চরম ক্ষমতালোভী ও বিশ্বাসঘাতক। সে নবাব সিরাজউদ্দৌলার সাথে গোপনে বিশ্বাসঘাতকতা করে ইংরেজ রবার্ট ক্লাইভের সাথে চুক্তি করে এবং বাংলার নবাব হওয়ার স্বপ্ন দেখে। পলাশীর প্রান্তরে নবাবের বিপুল সৈন্যদল থাকা সত্ত্বেও প্রধান সেনাপতি মীরজাফর যুদ্ধক্ষেত্রে পুতুলের মতো দাঁড়িয়ে থেকে সৈন্যদের যুদ্ধ থেকে বিরত রাখে এবং ইংরেজদের বিজয়ের পথ সুগম করে। ফলে নবাব সিরাজউদ্দৌলা পরাজিত ও নিহত হন। অতএব, উদ্দীপকের বিশ্বাসঘাতক সেনাপতির সঙ্গে মীরজাফরের চরিত্রটি পুরোপুরি সাদৃশ্যপূর্ণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'টিপু সুলতান এবং নবাব সিরাজউদ্দৌলার জীবনের নির্মম পরিণতি একই সূত্রে গাঁথা'—মন্তব্যটি যথার্থ ও প্রাসঙ্গিক।

    উদ্দীপকে মহীশূরের বীর যোদ্ধা টিপু সুলতান বিদেশি ইংরেজ বেনিয়াদের আগ্রাসন প্রতিহত করতে লড়াই করেছিলেন। কিন্তু তাঁর নিজ দরবারের উচ্চাভিলাষী সেনাপতির বিশ্বাসঘাতকতার কারণে ইংরেজদের হাতে তিনি প্রাণ হারান। অর্থাৎ অভ্যন্তরীণ বিশ্বাসঘাতকতা এবং ইংরেজদের সাম্রাজ্যবাদী বিস্তারই টিপুর পতনের মূল কারণ।

    অন্যদিকে, 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকেও দেখা যায়, নবাব সিরাজউদ্দৌলা বাংলার স্বাধীনতা রক্ষার জন্য দেশি-বিদেশি চক্রান্তকারীদের বিরুদ্ধে আমৃত্যু সংগ্রাম করে গেছেন। তিনি ইংরেজদের বাণিজ্যিক ও সামরিক আগ্রাসন রুখতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর প্রধান সেনাপতি মীরজাফর, রাজবল্লভ, উমিচাঁদ প্রমুখ ক্ষমতালোভী বিশ্বাসঘাতকদের গোপন ষড়যন্ত্রের কারণে পলাশীর যুদ্ধে নবাবের পরাজয় ঘটে। পরবর্তীতে তাঁকে বন্দি করে মোহাম্মদি বেগের মাধ্যমে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।

    সুতরাং টিপু সুলতান এবং নবাব সিরাজউদ্দৌলা উভয়েই বিদেশি ইংরেজদের সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করে নিজ দেশের বেইমান সেনাপতি ও ঘনিষ্ঠদের বিশ্বাসঘাতকতার বলি হয়ে মর্মান্তিক মৃত্যুবরণ করেন। এই ঐতিহাসিক সত্য ও সাদৃশ্যের কারণেই বলা যায়, উভয়ের জীবনের নির্মম পরিণতি একই সূত্রে গাঁথা।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন