রসায়ন ১ম পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২২

রসায়ন ১ম পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    নেসলার বিকারক কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    CuSO4.5H2O \mathrm{CuSO}{4} .5 \mathrm{H}{2} \mathrm{O} যৌগের মধ্যেকার বন্ধনগুলো দেখাও।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের আলোকে কীভাবে মৌল শনাক্ত করা যায়? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের ইলেকট্রনটির 5 → 3 কক্ষপথে স্থানান্তরের ক্ষেত্রে প্রাপ্ত বর্ণালির প্রয়োগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ—আলোচনা করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ক্ষারীয় পটাশিয়াম টেট্রাআয়োডোমারকিউরেট(II) এর দ্রবণকে (K₂[HgI₄] ও KOH বা NaOH-এর মিশ্রণ) নেসলার বিকারক বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    CuSO₄·5H₂O (তুঁতে) যৌগের মধ্যে চার ধরনের রাসায়নিক বন্ধন বিদ্যমান:
    ১. আয়নিক বন্ধন: Cu²⁺ এবং SO₄²⁻ আয়নের মধ্যে আয়নিক বন্ধন বিদ্যমান।
    ২. সমযোজী বন্ধন: SO₄²⁻ মূলকের মধ্যে S ও O পরমাণুর মাঝে এবং H₂O অণুতে H ও O পরমাণুর মধ্যে সমযোজী বন্ধন বিদ্যমান।
    ৩. সন্নিবেশ সমযোজী বন্ধন: Cu²⁺ আয়নের সাথে চারটি H₂O অণু সন্নিবেশ বন্ধনের মাধ্যমে যুক্ত থাকে ([Cu(H₂O)₄]²⁺)।
    ৪. হাইড্রোজেন বন্ধন: পঞ্চম পানির অণুটি সালফেট আয়নের অক্সিজেন ও সন্নিবেশিত পানির অণুর হাইড্রোজেনের সাথে হাইড্রোজেন বন্ধন গঠন করে অবস্থান করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে পারমাণবিক সংখ্যা Z = 1 উল্লেখ থাকায় মৌলটি হলো হাইড্রোজেন (H)। উদ্দীপকে ইলেকট্রনের বিভিন্ন শক্তিস্তর থেকে নিম্ন শক্তিস্তরে স্থানান্তরের ফলে সৃষ্ট পারমাণবিক নির্গমন বর্ণালি প্রদর্শিত হয়েছে।

    মৌল শনাক্তকরণে বর্ণালির ভূমিকা:
    ১. প্রতিটি মৌলের পরমাণুর শক্তিস্তরগুলোর শক্তি সুনির্দিষ্ট ও বৈশিষ্ট্যপূর্ণ।
    ২. যখন কোনো মৌলের পরমাণুর ইলেকট্রন বহিঃস্থ শক্তি থেকে শক্তি শোষণ করে উচ্চ শক্তিস্তরে যায় এবং পরবর্তীতে নিম্ন শক্তিস্তরে ফিরে আসে, তখন নির্দিষ্ট তরঙ্গদৈর্ঘ্যের ফোটন বা আলো বিকিরণ করে।
    ৩. রিডবার্গ সমীকরণ 1/λ = R_H × Z² × (1/n₁² - 1/n₂²) অনুযায়ী প্রতিটি স্থানান্তরের জন্য নির্দিষ্ট তরঙ্গদৈর্ঘ্য (λ) পাওয়া যায়।
    ৪. এই বিকিরিত রশ্মি বর্ণালিবীক্ষণ যন্ত্রে পৃথক পৃথক নির্দিষ্ট রেখা সৃষ্টি করে, যাকে পারমাণবিক রেখা বর্ণালি বলা হয়। মানুষের আঙ্গুলের ছাপের (fingerprint) মতো কোনো দুটি মৌলের বর্ণালি রেখা কখনো এক হয় না।
    অতএব, প্রাপ্ত বর্ণালি রেখার তরঙ্গদৈর্ঘ্য ও অবস্থান বিশ্লেষণ করে উদ্দীপকের হাইড্রোজেন মৌলসহ যেকোনো অজানা মৌলকে নিখুঁতভাবে শনাক্ত করা যায়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে ইলেকট্রনটি 5ম কক্ষপথ (n₂ = 5) থেকে 3য় কক্ষপথে (n₁ = 3) স্থানান্তরিত হয়েছে। এটি পারমাণবিক বর্ণালির প্যাশ্চেন (Paschen) সিরিজভুক্ত।

    রিডবার্গ সমীকরণ হতে পাই:
    1/λ = R_H × Z² × (1/n₁² - 1/n₂²)
    এখানে, n₁ = 3, n₂ = 5, Z = 1 এবং R_H = 109678 cm⁻¹

    বা, 1/λ = 109678 × (1/3² - 1/5²) cm⁻¹
    = 109678 × (1/9 - 1/25) cm⁻¹
    = 109678 × (16/225) cm⁻¹
    = 7799.32 cm⁻¹

    অতএব, λ = 1 / 7799.32 cm = 1.282 × 10⁻⁴ cm = 1282 nm।

    এই তরঙ্গদৈর্ঘ্যটি (1282 nm) তড়িৎচৌম্বকীয় বর্ণালির নিকট-অবলোহিত বা নিয়ার-ইনফ্রারেড (Near-IR) অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত (IR অঞ্চলের সীমা 780 nm থেকে 1 mm)।

    আইআর (IR) রশ্মির প্রয়োগ ও গুরুত্ব:
    ১. চিকিৎসাক্ষেত্রে ফিজিওথেরাপি: পেশির সংকোচন, টান বা তীব্র ব্যথায় টিস্যুকে উত্তপ্ত করে রক্ত সঞ্চালন বাড়াতে অবলোহিত রশ্মি বহুল ব্যবহৃত হয়।
    ২. রোগ নির্ণয় ও পালস অক্সিমেট্রি: রক্তের হিমোগ্লোবিনে অক্সিজেনের মাত্রা নির্ণয়ে নিয়ার-আইআর আলো ব্যবহৃত হয়।
    ৩. জৈব যৌগের গঠন নির্ণয়: IR বর্ণালিমিতির মাধ্যমে বিভিন্ন কার্যকরী মূলক শনাক্ত করে অজানা যৌগের সঠিক গঠন নির্ধারণ করা হয়।
    ৪. অপটিক্যাল যোগাযোগ ও নাইট ভিশন: ফাইবার অপটিক্যাল যোগাযোগে এবং কম আলোর পরিবেশে নজরদারির জন্য নাইট ভিশন প্রযুক্তিতে IR রশ্মি ব্যবহৃত হয়।

    সুতরাং, 5 → 3 স্থানান্তরের ক্ষেত্রে সৃষ্ট অবলোহিত রশ্মির প্রয়োগ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বিভিন্ন ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন