বাংলা ২য় পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০১৬
বাংলা ২য় পত্র প্রশ্ন
1.
(গ) “আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস” বিষয়ে একটি রচনা লেখ
উত্তর ও ব্যাখ্যা
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস
ভূমিকা:
মাতৃভাষা মানুষের সত্তার সাথে মিশে থাকা পরম পাওয়া। মাতৃভাষার প্রতি ভালোবাসা মানুষের এক সহজাত প্রবৃত্তি। কিন্তু এই ভাষার মর্যাদা রক্ষা করতে গিয়ে রক্ত ঢেলে দেওয়ার ইতিহাস বিশ্বে বিরল। বাঙালি জাতি ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদার দাবিতে রাজপথে বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়ে এক অনন্য নজির স্থাপন করেছিল। সেই আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ আজ একুশে ফেব্রুয়ারি বিশ্বজুড়ে উদযাপিত হয় 'আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস' হিসেবে।
ভাষা আন্দোলনের পটভূমি:
১৯৪৭ সালে দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে ভারত ও পাকিস্তান রাষ্ট্রের সৃষ্টি হয়। পাকিস্তানের মোট জনসংখ্যার ৫৬ শতাংশের মাতৃভাষা বাংলা হওয়া সত্ত্বেও পাকিস্তানের কায়েমী শাসকগোষ্ঠী উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে চাপিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। ১৯৪৮ সালে পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ ঘোষণা করেন, "Urdu, and Urdu only shall be the state language of Pakistan." এই ঘোষণার তীব্র প্রতিবাদ জানায় বাঙালি ছাত্রসমাজ ও আপামর জনতা। গড়ে ওঠে 'সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ'।
১৯৫২-র রক্তঝরা একুশে ফেব্রুয়ারি:
১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি (৮ই ফাল্গুন, ১৩৫৮) মাতৃভাষার স্বীকৃতির দাবিতে ছাত্রসমাজ ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা থেকে মিছিল বের করে। মিছিলে পুলিশ নির্বিচারে গুলি বর্ষণ করে। শহীদ হন বরকত, সালাম, রফিক, জব্বার, শফিউরসহ আরও অনেকে। এই আত্মত্যাগের মধ্য দিয়েই বাঙালির স্বাধিকার চেতনার উন্মেষ ঘটে এবং অবশেষে পাকিস্তান সরকার ১৯৫৬ সালে সংবিধানে বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দিতে বাধ্য হয়।
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি:
২১শে ফেব্রুয়ারির আত্মত্যাগ কেবল বাংলার সীমানায় সীমাবদ্ধ থাকেনি। ১৯৯৮ সালে কানাডাপ্রবাসী কিছু উদ্যোগী বাঙালি (রফিকুল ইসলাম ও আবদুস সালামসহ অন্যান্য) 'Mother Language Lovers of the World' সংগঠনের মাধ্যমে জাতিসংঘে ২১শে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতির প্রস্তাব পাঠান। বাংলাদেশ সরকারের আনুষ্ঠানিক আবেদনের প্রেক্ষিতে ১৯৯৯ সালের ১৭ই নভেম্বর প্যারিসে অনুষ্ঠিত ইউনেস্কোর (UNESCO) ৩০তম সাধারণ অধিবেশনে ২১শে ফেব্রুয়ারিকে 'আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস' হিসেবে সর্বসম্মতিক্রমে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। ২০০০ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি থেকে বিশ্বের ১৮৮টিরও বেশি দেশে দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়ে আসছে।
দিবসটির তাৎপর্য ও গুরুত্ব:
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের মূল উদ্দেশ্য হলো পৃথিবীর প্রতিটি ভাষা ও সংস্কৃতিকে সংরক্ষণ ও পৃষ্ঠপোষকতা করা। পৃথিবীতে প্রচলিত প্রায় সাত হাজারের মতো ভাষার মধ্যে বহু ভাষা বিলুপ্তির পথে। এই দিবস বিশ্বের সকল ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও মাতৃভাষার অস্তিত্ব রক্ষার প্রয়োজনীয়তা বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরে। একই সাথে এটি পারস্পরিক সম্প্রীতি ও বহুভাষিকতার সেতু তৈরি করে।
উপসংহার:
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বাঙালির এক মহিমান্বিত অর্জন। যে ভাষা অর্জনে আমাদের পূর্বসূরিরা রক্ত দিয়ে গেছেন, তার মর্যাদা রক্ষা ও সর্বস্তরে সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। সব ভাষার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে নিজ মাতৃভাষাকে সমুন্নত রাখাই হোক আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের মূল অঙ্গীকার।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও