ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২২

ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র প্রশ্ন

মি. আনিস ব্যবসায়ের কাজে একটি গাড়ি ব্যবহার করেন। গাড়িটি তার বাবার নামে। গাড়িটি দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হলে ক্ষতিপূরণের আশায় বিমা করতে চাইলে বিমা কোম্পানি তাতে অস্বীকৃতি জানায়। পরবর্তীতে তার বাবা গাড়িটির বিমা করেন। দুর্ঘটনায় গাড়িটি সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হলে বিমাকারী বিমগ্রহীতাকে সম্পূর্ণ ক্ষতিপূরণ প্রদান করে। ক্ষতিগ্রস্ত গাড়িটি বিমা কোম্পানি বিক্রয় করলে বিমাগ্রহীতা বিক্রয়লব্ধ অর্থ দাবি করলে বিমা কোম্পানি উক্ত টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানায়।

  1. ক)

    বাংলাদেশের বিমা ব্যবসায় নিয়ন্ত্রক সংস্থার নাম কী?

    (1)
  2. খ)

    ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বিমা গুরুত্বপূর্ণ কেন? ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে মি. আনিস বিমার কোন নীতির কারণে বিমা করতে পারেনি? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    বিমাগ্রহীতার সর্বশেষ দাবি প্রত্যাখ্যানের যৌক্তিকতা বিমার নীতির আলোকে মূল্যায়ন কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বাংলাদেশের বিমা ব্যবসায়ের নিয়ন্ত্রক সংস্থার নাম হলো 'বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ' (Insurance Development and Regulatory Authority - IDRA)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ব্যবসা-বাণিজ্যে বিদ্যমান নানা রকম অনিশ্চয়তা ও ঝুঁকির বিরুদ্ধে আর্থিক নিরাপত্তা প্রদান করে বলে ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বিমা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    ব্যবসায়ে পণ্য উৎপাদন, পরিবহন বা সংরক্ষণের সময় আগুন, চুরি, দুর্ঘটনা ইত্যাদি কারণে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি হতে পারে। বিমা এ ধরনের সম্ভাব্য ঝুঁকি নিজের কাঁধে তুলে নেয় এবং ক্ষতির ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ প্রদান করে ব্যবসায়ীদের স্বস্তি ও স্থিতিশীলতা দেয়। ফলে ব্যবসায়ীরা নিশ্চিন্তে ও সাহসের সাথে বিনিয়োগ ও ব্যবসা পরিচালনা করতে পারেন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে মি. আনিস 'বিমাযোগ্য স্বার্থের নীতি' (Principle of Insurable Interest) লঙ্ঘিত হওয়ার কারণে বিমা করতে পারেননি।

    বিমাযোগ্য স্বার্থ বলতে বিমার বিষয়বস্তুর ওপর বিমাগ্রহীতার এমন এক আইনগত বা আর্থিক স্বার্থকে বোঝায়, যার অস্তিত্বে বিমাগ্রহীতা আর্থিকভাবে লাভবান হন এবং এর ক্ষতি বা ধ্বংসে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। বিমা চুক্তি সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে বিমাগ্রহীতার উক্ত বিষয়বস্তুতে প্রত্যক্ষ বিমাযোগ্য স্বার্থ থাকা বাধ্যতামূলক।

    উদ্দীপকে গাড়িটি মি. আনিসের নিজের নয়, বরং তাঁর বাবার নামে নিবন্ধিত ছিল। ফলে গাড়িটির ওপর মি. আনিসের প্রত্যক্ষ আইনগত মালিকানা বা বিমাযোগ্য স্বার্থ ছিল না। বিমাযোগ্য স্বার্থের অনুপস্থিতির কারণেই বিমা কোম্পানি মি. আনিসের সাথে বিমা চুক্তি করতে অস্বীকৃতি জানায়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বিমাগ্রহীতার সর্বশেষ দাবি বিমা কোম্পানি কর্তৃক প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্তটি 'স্থলাভিষিক্তকরণ নীতি' (Principle of Subrogation) অনুসারে সম্পূর্ণ যৌক্তিক।

    স্থলাভিষিক্তকরণের নীতি অনুযায়ী, কোনো ক্ষতিগ্রস্ত সম্পত্তির জন্য বিমা কোম্পানি যদি বিমাগ্রহীতাকে সম্পূর্ণ ক্ষতিপূরণ প্রদান করে, তবে সেই ক্ষতিগ্রস্ত সম্পত্তির অবশিষ্টাংশ বা তার ওপর যাবতীয় আইনগত অধিকার সম্পূর্ণভাবে বিমাকারীর অনুকূলে ন্যস্ত হয়। ক্ষতিপূরণ গ্রহণের পর উক্ত পরিত্যক্ত সম্পত্তির অবশিষ্টাংশ বা তা বিক্রির অর্থের ওপর বিমাগ্রহীতার আর কোনো দাবি থাকে না; কারণ অতিরিক্ত অর্থ পেলে তা ক্ষতিপূরণ নীতির পরিপন্থী হয়।

    উদ্দীপকে দুর্ঘটনায় গাড়িটি সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হলে বিমা কোম্পানি মি. আনিসের বাবাকে (বিমাগ্রহীতাকে) সম্পূর্ণ ক্ষতিপূরণ পরিশোধ করেছে। পরবর্তীতে বিমা কোম্পানি ক্ষতিগ্রস্ত গাড়িটি বিক্রি করে। বিমাগ্রহীতা সেই বিক্রয়লব্ধ টাকা দাবি করলে বিমা কোম্পানি তা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। যেহেতু বিমাগ্রহীতা আগেই পূর্ণ ক্ষতিপূরণ পেয়ে গেছেন, তাই স্থলাভিষিক্তকরণ নীতি অনুযায়ী গাড়ির ধ্বংসাবশেষ ও তা বিক্রির অর্থের মালিক একমাত্র বিমা কোম্পানি।

    অতএব, বিমাগ্রহীতার দাবি প্রত্যাখ্যান করে বিমা কোম্পানির টাকা ফেরত না দেওয়ার সিদ্ধান্তটি বিমার নীতির আলোকে পুরোপুরি আইনসম্মত ও যৌক্তিক।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন