‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২১

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

জনাব 'X' ছিলেন একজন সম্মুহনি নেতা। শোষণ ও দুঃশাসনের বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন সোচ্চার। এজন্য তাকে প্রায় সময়ই কারাবন্দি থাকতে হতো। ১৯৬৮ সালের স্বৈরশাসক তাকে সহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করে তাদের কারাবন্দী করেন। কিন্তু প্রবল গণঅভ্যুত্থানের মুখে স্বৈরশাসক তাদের নিঃশর্ত মুক্তি নিয়ে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করেন।

  1. ক)

    CFC- এর পূর্ণরূপ কী?

    (1)
  2. খ)

    হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীকে গণতন্ত্রের মানসপুত্র বলা হয় কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে কোন সম্মোহনী নেতার কথা বলা হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে উদ্দীপকে বর্ণিত নেতার অবদান বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    CFC-এর পূর্ণরূপ হলো Chlorofluorocarbon (ক্লোরোফ্লুরোকার্বন)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী আজীবন নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতি এবং সংসদীয় গণতন্ত্রের বিকাশ ও সুরক্ষার জন্য সংগ্রাম করে গেছেন। তিনি বিশ্বাস করতেন জনগণের মৌলিক অধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার একমাত্র পথ গণতন্ত্র। পাকিস্তানের সামরিক স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ে তাঁর অটল অবস্থান ও নেতৃত্বের কারণেই তাঁকে 'গণতন্ত্রের মানসপুত্র' বলা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কথা বলা হয়েছে।

    উদ্দীপকে উল্লেখিত জনাব 'X' ছিলেন এক সম্মোহনী (charismatic) নেতা, যিনি শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে আপসহীন ছিলেন এবং বহুবার কারাবন্দি হন। ১৯৬৮ সালে পাকিস্তানি স্বৈরশাসক আইয়ুব খান তাঁর বিরুদ্ধে ৩৫ জনকে আসামি করে একটি মিথ্যা রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা দায়ের করেন, যা ইতিহাসে 'আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা' নামে পরিচিত। পরবর্তীতে ১৯৬৯ সালের প্রবল গণঅভ্যুত্থানের মুখে সরকার বাধ্য হয়ে এই মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে এবং তাঁকে নিঃশর্ত মুক্তি দেয়।

    এই ঐতিহাসিক তথ্যাবলি স্পষ্ট করে যে, উদ্দীপকের জনাব 'X' হলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবদান ছিল অবিসংবাদিত ও মূখ্য।

    ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকেই বঙ্গবন্ধু বাঙালির স্বাধিকারের দাবিতে সোচ্চার ছিলেন। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন এবং ১৯৬৬ সালে বাঙালির মুক্তির সনদখ্যাত ঐতিহাসিক 'ছয় দফা' ঘোষণা করে তিনি স্বাধীনতা সংগ্রামের পথ উন্মোচন করেন। ছয় দফার জন্যই তাঁকে বারবার কারারুদ্ধ হতে হয় এবং আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় জড়ানো হয়। কিন্তু জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত গণঅভ্যুত্থানের ফলে তিনি মুক্ত হন এবং বাঙালি জাতির একক নেতায় পরিণত হন।

    ১৯৭০ সালের নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগকে ঐতিহাসিক বিজয়ে নেতৃত্ব দেন। পরবর্তীতে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতা হস্তান্তরে অস্বীকৃতি জানালে তিনি ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ ঐতিহাসিক ভাষণে কার্যত স্বাধীনতার ডাক দেন। ২৫শে মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি বাহিনী গণহত্যা শুরু করলে ২৬শে মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। তাঁর সুযোগ্য নেতৃত্ব ও প্রেরণা ধারণ করেই দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত হয় স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ। অতএব, বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য ও চিরস্মরণীয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন