পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০১৯
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
ভারতবর্ষ শাসনের এক পর্যায়ে ব্রিটিশরা একটি আইন প্রণয়ন করে। উক্ত আইনে সর্বপ্রথম ভারতের প্রদেশগুলোতে স্বায়ত্তশাসনের কথা বলা হয়। এই আইনে সর্বভারতীয় যুক্তরাষ্ট্র ও দুটি নতুন প্রদেশ গঠন করা হয়।
- ক)(1)
পলাশীর যুদ্ধ কত সালে সংঘটিত হয়?
- খ)(2)
১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ কেন হয়েছিল?
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত আইনের সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন আইনের সাদৃশ্য আছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত আইনে প্রবর্তিত প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের কার্যকারিতা মূল্যায়ন কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পলাশীর যুদ্ধ ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন সংঘটিত হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মূলত বিশাল বাংলা প্রেসিডেন্সির প্রশাসনিক সুবিধার কথা উল্লেখ করে ব্রিটিশ সরকার ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ করেছিল, তবে এর পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যও বিদ্যমান ছিল।
তৎকালীন সময়ে বাংলা প্রেসিডেন্সি ছিল অত্যন্ত সুবিশাল এলাকা, যা একজন ছোটলাটের পক্ষে দক্ষতার সাথে শাসন করা কঠিন ছিল। প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের পাশাপাশি ব্রিটিশদের অন্যতম সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য ছিল হিন্দু-মুসলিম ঐক্যে ফাটল ধরিয়ে উদীয়মান ভারতীয় জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকে নস্যাৎ করা এবং 'ভাগ কর ও শাসন কর' (Divide and Rule) নীতি কার্যকর করা।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত আইনের সাথে আমার পাঠ্যবইয়ের '১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইন'-এর সাদৃশ্য রয়েছে।
১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইন ছিল ব্রিটিশ ভারতের সাংবিধানিক ইতিহাসের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দলিল। এই আইনের প্রধান দুটি বৈশিষ্ট্য ছিল একটি সর্বভারতীয় যুক্তরাষ্ট্র গঠন এবং প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন প্রবর্তন। এছাড়াও এই আইনের মাধ্যমে ওড়িশা ও সিন্ধু নামে দুটি নতুন প্রদেশ গঠন করা হয়েছিল।
উদ্দীপকে দেখা যায়, ব্রিটিশদের প্রণীত আইনের মাধ্যমে প্রদেশে স্বায়ত্তশাসনের কথা বলা হয়, সর্বভারতীয় যুক্তরাষ্ট্র গঠিত হয় এবং দুটি নতুন প্রদেশ তৈরি হয়। এই বৈশিষ্ট্যগুলো সরাসরি ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনকেই নির্দেশ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনে প্রবর্তিত প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন কাগজে-কলমে ব্যাপক হলেও বাস্তবে তা ছিল সীমিত ও ত্রুটিপূর্ণ।
এই আইনের মাধ্যমে প্রাদেশিক দ্বৈত শাসনব্যবস্থার অবসান ঘটিয়ে প্রদেশগুলোতে স্বায়ত্তশাসন প্রদান করা হয় এবং নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত মন্ত্রিসভার হাতে শাসনভার অর্পণের বিধান রাখা হয়। বাহ্যিকভাবে এটি স্বায়ত্তশাসনের পূর্ণ রূপ দেখালেও এর পেছনে ব্রিটিশদের কঠোর নিয়ন্ত্রণ বজায় ছিল।
আইনটিতে প্রাদেশিক গভর্নরকে ব্যাপক স্বেচ্ছাধীন ও ব্যক্তিগত বিচারমূলক ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছিল। গভর্নর মন্ত্রীদের যেকোনো পরামর্শ অগ্রাহ্য করতে পারতেন এবং প্রয়োজনে বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করে মন্ত্রিসভা ভেঙে দিয়ে জরুরি অবস্থা জারি করতে পারতেন। ফলে নির্বাচিত সরকারের ক্ষমতা ছিল গভর্নরের মর্জির ওপর নির্ভরশীল।
পরিশেষে বলা যায়, ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন ভারতীয়দের প্রকৃত স্বাধিকার দিতে ব্যর্থ হয়েছিল এবং এটি মূলত "একটি শক্তিশালী ব্রেকযুক্ত কিন্তু ইঞ্জিনবিহীন গাড়ি"র মতো কার্যকরতাহীন ছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও