জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০১৭

জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

জীবমণ্ডল থেকে বহু জীবাণু আমাদের দেহে প্রবেশ ক্ষরে। কিন্তু অধিকাংশ জীবাণু ত্বক বা পরিপাক নালির মাধ্যমে নিষ্ক্রিয়' হয়ে যায়। এছাড়া দেহে বিশেষ কিছু কোষ দ্বারা প্রোটিন জাতীয় পদার্থ উৎপাদনের মাধ্যমে জীবাণু নিষ্ক্রিয় হয়।

  1. ক)

    অ্যান্টিজেন কী?

    (1)
  2. খ)

    প্রকরণ বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত নিষ্ক্রিয় পদ্ধতিসমূহের মধ্যে যে কোনো একটি পদ্ধতি বর্ণনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত 'প্রোটিন জাতীয় পদার্থ' জীবাণু ধ্বংসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে কীভাবে? ব্যাখ্যা করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    অ্যান্টিজেন হলো এমন কোনো বহিরাগত প্রোটিন বা পলিস্যাকারাইড জাতীয় পদার্থ যা পোষকদেহে প্রবেশ করলে ইমিউন সিস্টেমকে উদ্দীপ্ত করে নির্দিষ্ট অ্যান্টিবডি তৈরিতে সাহায্য করে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    জিনগত বা পরিবেশগত কারণে একই প্রজাতিভুক্ত বিভিন্ন জীবের মধ্যে বৈশিষ্ট্যের যে দৃশ্যমান বা সূক্ষ্ম পার্থক্য দেখা যায়, তাকে প্রকরণ (Variation) বলে। প্রকরণ জীবের টিকে থাকার ক্ষমতা বাড়ায় এবং বিবর্তন ও নতুন প্রজাতি সৃষ্টিতে মুখ্য ভূমিকা পালন করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে নিষ্ক্রিয়করণের মাধ্যম হিসেবে ত্বক ও পরিপাক নালির কথা বলা হয়েছে। নিচে ত্বক দ্বারা জীবাণু নিষ্ক্রিয়করণ পদ্ধতি বর্ণনা করা হলো:
    ত্বক মানবদেহের প্রথম প্রতিরক্ষা স্তরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভৌত ও রাসায়নিক প্রতিরোধক। ত্বকের বহিঃস্তর স্ট্র্যাটাম কর্নিয়াম মৃত কেরাটিনযুক্ত কোষে গঠিত, যা জীবাণুর অনুপ্রবেশে দুর্ভেদ্য প্রাচীর হিসেবে কাজ করে। এছাড়া ত্বকের সেবেসিয়াস গ্রন্থি থেকে ক্ষরিত সিবাম এবং ঘামগ্রন্থি থেকে নিঃসৃত ঘামে ল্যাকটিক অ্যাসিড ও ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে, যা ত্বকের পিএইচ (pH) ৩ থেকে ৫-এর মধ্যে রাখে। এই অ্যাসিডিক পরিবেশ অধিকাংশ ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধিতে বাধা দেয় বা ধ্বংস করে। আবার ঘামে থাকা লাইসোজাইম এনজাইম ব্যাকটেরিয়ার কোষপ্রাচীর ভেঙে ফেলে জীবাণু নিষ্ক্রিয় করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত 'প্রোটিন জাতীয় পদার্থ' হলো অ্যান্টিবডি (ইমিউনোগ্লোবিউলিন), যা বি-লিম্ফোসাইট থেকে উৎপন্ন প্লাজমা কোষ দ্বারা তৈরি হয়। অ্যান্টিবডি বিভিন্ন উপায়ে জীবাণু ধ্বংসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে:
    ১. অ্যাগ্লুটিনেশন (Agglutination): অ্যান্টিবডি নির্দিষ্ট অ্যান্টিজেনধারী জীবাণুগুলোর সাথে যুক্ত হয়ে তাদের পুঞ্জীভূত বা দলবদ্ধ করে ফেলে, ফলে ফ্যাগোসাইট কোষ সহজে এদের গ্রাস করতে পারে।
    ২. অপসোনাইজেশন (Opsonization): অ্যান্টিবডি জীবাণুর পৃষ্ঠকে আবৃত করে ফ্যাগোসাইটোসিসের জন্য সুস্বাদু বা সহজলভ্য করে তোলে।
    ৩. প্রশমন বা নিউট্রিলাইজেশন (Neutralization): জীবাণু বা ব্যাকটেরিয়ার নিঃসৃত ক্ষতিকর বিষাক্ত পদার্থ বা টক্সিনকে অ্যান্টিবডি আবদ্ধ করে নিষ্ক্রিয় করে তোলে।
    ৪. লাইসিস (Lysis): কিছু অ্যান্টিবডি কমপ্লিমেন্ট সিস্টেমকে সক্রিয় করে জীবাণুর কোষঝিল্লি ছিদ্র করে ফেলে, যার ফলে বহিঃস্থ তরল প্রবেশ করে কোষটি বিদীর্ণ ও ধ্বংস হয়।
    ৫. অধঃক্ষেপণ (Precipitation): দ্রবণীয় অ্যান্টিজেনকে অ্যান্টিবডি অদ্রবণীয় জটিল যৌগে পরিণত করে তলানি আকারে ফেলে দেয়, যা পরবর্তীতে ফ্যাগোসাইট দ্বারা বিনষ্ট হয়।
    অতএব, উদ্দীপকের প্রোটিন জাতীয় পদার্থ বা অ্যান্টিবডি সুনির্দিষ্ট কৌশলে জীবাণু ও টক্সিন নিষ্ক্রিয় ও ধ্বংস করে দেহকে রক্ষা করে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন