জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২১
জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
শান্তনু সীমিত পরিমাণে ভাত, মাছ ও মাংস খেয়ে থাকে, তবুও তার BMI – এর মান ৩২ কি. গ্রা./মি.।
- ক)(1)
সিকাম কী?
- খ)(2)
যকৃতে কীভাবে RBC ধ্বংস হয়?
- গ)(3)
উদ্দীপকের স্বাস্থ্য জটিলতার কারণ ও প্রতিকার উল্লেখ করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের খাদ্যগুলি পরিপাকে প্রধান শোষণকারী অঙ্গ কী ভূমিকা পালন করে? বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মানব বৃহদন্ত্রের অন্ধথলির মতো প্রথম এবং সবচেয়ে প্রশস্ত অংশকে সিকাম (Caecum) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রায় ১২০ দিন আয়ুষ্কাল শেষে পুরনো ও দুর্বল লোহিত রক্তকণিকা (RBC) যকৃতের সাইনুসয়েডে উপস্থিত বিশেষায়িত ম্যাক্রোফেজ বা কুফার কোষে (Kupffer cells) প্রবেশ করে। সেখানে ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় RBC ভেঙে হিমোগ্লোবিনে বিভক্ত হয়। পরবর্তীতে হিমোগ্লোবিন ভেঙে গ্লোবিন প্রোটিন ও হিম (Heme) উৎপন্ন হয়; হিম থেকে আয়রন অপসারিত হয়ে বিলিভার্ডিন ও বিলিরুবিন নামক পিত্তরঞ্জক তৈরি হয়, যা পিত্তরসের মাধ্যমে নির্গত হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে শান্তনুর BMI মান ৩২ কেজি/মি², যা স্বাস্থ্য নির্দেশক অনুযায়ী স্থূলতা বা ওবেসিটি (Obesity - প্রথম শ্রেণি)।
কারণসমূহ:
১. বংশগত বা জেনেটিক প্রভাব: জিনগত ত্রুটির কারণে পরিমিত খেলেও মেটাবলিজমের গতি ধীর হতে পারে।
২. শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা: সীমিত পরিমাণে খাবার গ্রহণ করলেও যদি কোনো শারীরিক পরিশ্রম বা ব্যায়াম না থাকে, তবে সঞ্চিত ক্যালরি ক্ষয় না হয়ে চর্বি হিসেবে জমা হয়।
৩. হরমোনজনিত ভারসাম্যহীনতা: থাইরয়েড গ্রন্থির কার্যহীনতা (হাইপোথাইরয়েডিজম) বা কর্টিসোল হরমোনের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি মেটাবলিজম কমিয়ে ওজন বাড়িয়ে দেয়।
৪. মানসিক চাপ ও অপর্যাপ্ত ঘুম: দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ ও ঘুমের অভাবে মেটাবলিক ডিসঅর্ডার ঘটে।প্রতিকার:
১. চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে থাইরয়েড বা হরমোনজনিত কোনো সমস্যা আছে কি না তা নির্ণয় ও চিকিৎসা গ্রহণ করা।
২. দৈনিক নিয়মিত কমপক্ষে ৩০-৪৫ মিনিট মাঝারি থেকে ভারী ব্যায়াম ও শারীরিক পরিশ্রম করা।
৩. খাদ্যাভ্যাসে জটিল শর্করা ও শাকসবজির অনুপাত বৃদ্ধি করা এবং মিষ্টি বা প্রক্রিয়াজাত খাবার বর্জন করা।
৪. পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান এবং নিয়মিত ৭-৮ ঘণ্টা সুনিশ্চিত ঘুম বজায় রাখা। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত ভাত (শর্করা), মাছ ও মাংস (আমিষ) খাদ্য পরিপাকে মানবদেহের প্রধান শোষণকারী অঙ্গ অর্থাৎ ক্ষুদ্রান্ত্র (Small Intestine) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো:
১. অগ্ন্যাশয় রস ও আন্ত্রিক রসের মাধ্যমে পরিপাক:
ক্ষুদ্রান্ত্রের ডিওডেনামে অগ্ন্যাশয় রস এবং ইলিয়ামে আন্ত্রিক রস মিশ্রিত হয়।- ভাতের পরিপাক (শর্করা): অগ্ন্যাশয় রসে থাকা অ্যামাইলেজ এবং ক্ষুদ্রান্ত্রের আন্ত্রিক মলটেজ, সুক্রেজ ও ল্যাকটেজ এনজাইমের ক্রিয়ায় জটিল শর্করা ভেঙে সরল শর্করা অর্থাৎ গ্লুকোজে রূপান্তরিত হয়।
- মাছ ও মাংসের পরিপাক (আমিষ): অগ্ন্যাশয়ের ট্রিপসিন, কাইমোট্রিপসিন, কার্বক্সিপেপটাইডেজ এবং আন্ত্রিক অ্যামাইনোপেপটাইডেজ ও ডাইপেপটাইডেজ এনজাইমের ক্রিয়ায় প্রোটিন ভেঙে চূড়ান্তভাবে সরল অ্যামিনো অ্যাসিডে পরিণত হয়।
২. ভিলাইয়ের মাধ্যমে পুষ্টি উপাদানের শোষণ:
ক্ষুদ্রান্ত্রের প্রাচীরে অসংখ্য আঙুলের মতো প্রক্ষেপণ থাকে, যাদের ভিলাই (Villi) বলে। এটি পরিপাককৃত পুষ্টি উপাদান শোষণের জন্য শোষণতল বিপুল পরিমাণে বৃদ্ধি করে।- ক্ষুদ্রান্ত্রের শোষণীয় এপিথেলিয়াল কোষের মাধ্যমে শর্করা পরিপাকজাত গ্লুকোজ সক্রিয় পরিবহণ ও সুগম ব্যাপন প্রক্রিয়ায় রক্তজালকে শোষিত হয়।
- আমিষ পরিপাকজাত অ্যামিনো অ্যাসিডও সক্রিয় পরিবহণের মাধ্যমে সরাসরি রক্তজালকে প্রবেশ করে।
পরবর্তীতে এই শোষিত গ্লুকোজ ও অ্যামিনো অ্যাসিড হেপাটিক পোর্টাল শিরার মাধ্যমে যকৃতে গিয়ে সারা দেহে ছড়িয়ে পড়ে। সুতরাং, ক্ষুদ্রান্ত্র ভাত, মাছ ও মাংসের মতো মুখ্য খাদ্য উপাদানগুলোর চূড়ান্ত রাসায়নিক পরিপাক ও শোষণ সম্পন্ন করে শরীরের শক্তির জোগান নিশ্চিত করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও