মনোবিজ্ঞান ১ম পত্র • Combined Board • রাজশাহী, চট্টগ্রাম, যশোর, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২২

মনোবিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

দৃশ্যকল্প-১: রেগে গেলে রফিকের হাত পা কাঁপে, কণ্ঠস্বর। বড় হয় এবং চোখ লাল হয়ে যায়।দৃশ্যকল্প-২: নিলা এবং আলো ৮ ঘণ্টা ভ্রমণ করে কক্সবাজার পৌঁছাল । নিলা ফ্রেশ হয়ে খাবার খেতে গেল কিন্তু আলো খাবার না খেয়েই ঘুমিয়ে পড়ল ।

  1. ক)

    প্রেষণা চক্রের দ্বিতীয় উপাদান কোনটি?

    (1)
  2. খ)

    প্রেষিত আচরণ ভারসাম্য সংস্থাপক কেন?

    (2)
  3. গ)

    দৃশ্যকল্প-১ এ বর্ণিত আবেগের সময় রফিকের অন্যান্য দৈহিক পরিবর্তনগুলো বর্ণনা করো ।

    (3)
  4. ঘ)

    দৃশ্যকল্প-২ এ বর্ণিত নিলা এবং আলোর প্রেষণা কি একই না ভিন্ন? বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    প্রেষণা চক্রের দ্বিতীয় উপাদান হলো তাড়না (Drive)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    প্রেষিত আচরণ ভারসাম্য সংস্থাপক কারণ শরীরে কোনো কিছুর অভাব বা প্রয়োজনের সৃষ্টি হলে যে অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা ও ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়, প্রেষিত আচরণের মাধ্যমে সেই প্রয়োজন মিটিয়ে পুনরায় স্বাভাবিক ভারসাম্য (Homeostasis) ফিরিয়ে আনা হয়। উদাহরণস্বরূপ, শরীরে পানির ঘাটতি হলে পিপাসার উদ্রেক হয় এবং মানুষ পানি পান করে প্রেষিত আচরণের মাধ্যমে দেহের অভ্যন্তরীণ ভারসাম্য রক্ষা করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দৃশ্যকল্প-১ এ রফিকের রাগের কারণে হাত-পা কাঁপা, কণ্ঠস্বর বৃদ্ধি এবং চোখ লাল হওয়ার মতো বাহ্যিক পরিবর্তন দেখা গেছে। আবেগের সময় মানবদেহে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক পরিবর্তন ঘটে থাকে। রফিকের ক্ষেত্রে পরিলক্ষিত হতে পারে এমন অন্যান্য দৈহিক পরিবর্তনগুলো নিচে দেওয়া হলো:

    ১. হৃৎস্পন্দন ও রক্তচাপ বৃদ্ধি: তীব্র রাগের মুহূর্তে রক্তসংবহনতন্ত্রের গতি বেড়ে যায়, হৃৎপিণ্ডের স্পন্দন দ্রুততর হয় এবং রক্তচাপ স্বাভাবিকের চেয়ে বৃদ্ধি পায়।
    ২. শ্বাস-প্রশ্বাসের গতি বৃদ্ধি: ফুসফুসের কার্যকারিতা বাড়ে, ফলে শ্বাস-প্রশ্বাস দ্রুত ও ঘন ঘন হতে থাকে।
    ৩. ঘর্মগ্রন্থির সক্রিয়তা: উত্তেজনার ফলে রফিকের অতিরিক্ত ঘাম হতে পারে, বিশেষ করে কপাল ও হাতের তালু ঘেমে যেতে পারে।
    ৪. পরিপাক প্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত: আবেগের মুহূর্তে গ্যাস্ট্রিক রসের নিঃসরণ ও পাকস্থলীর সঞ্চালন বাধাগ্রস্ত হয়, ফলে পরিপাকক্রিয়া সাময়িকভাবে ধীর বা বন্ধ হয়ে যায়।
    ৫. মুখে লালা নিঃসরণ হ্রাস: মুখগহ্বর ও গলা শুকিয়ে যেতে পারে।
    ৬. অ্যাড্রিনালিন হরমোন ক্ষরণ: রক্তে অ্যাড্রিনাল গ্রন্থি থেকে অ্যাড্রিনালিন হরমোন বেশি মাত্রায় নিঃসৃত হয়ে শরীরকে জরুরি পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দৃশ্যকল্প-২ এ বর্ণিত নিলা এবং আলোর প্রেষণা ধরন বা প্রকৃতির দিক থেকে মৌলিকভাবে একই (উভয়ই জৈবিক প্রেষণা), তবে প্রেষণার তীব্রতা ও অগ্রাধিকারের দিক থেকে ভিন্ন।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, নিলা ও আলো উভয়েই দীর্ঘ ৮ ঘণ্টা ভ্রমণ শেষে ক্লান্ত হয়ে কক্সবাজার পৌঁছায়। এর ফলে দুজনের শরীরেই জৈবিক চাহিদার সৃষ্টি হয়। নিলার ক্ষেত্রে ক্ষুধার তীব্রতা বেশি থাকায় সে ফ্রেশ হয়ে খাবার খাওয়ার প্রেষণা চরিতার্থ করতে যায়। পক্ষান্তরে, আলোর ক্ষেত্রে দৈহিক ক্লান্তি বেশি থাকায় ঘুমের (বিশ্রামের) প্রেষণা তীব্রতর হয়ে ওঠে এবং সে খাবার গ্রহণ না করেই ঘুমিয়ে পড়ে।

    মনোবিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে ক্ষুধা এবং ঘুম—উভয়ই মানুষের বেঁচে থাকার অপরিহার্য শারীরবৃত্তীয় বা জৈবিক প্রেষণা (Physiological Drives)। এই দৃষ্টিকোণ থেকে তাদের প্রেষণার মূল প্রকৃতি 'একই'। কিন্তু দীর্ঘ ভ্রমণের ফলে কোন প্রেষণাটি ব্যক্তির কাছে বেশি জরুরি ও তীব্র আকার ধারণ করেছে, সেই ভিত্তিতে তাদের আচরণ আলাদা রূপ নিয়েছে। নিলার ক্ষেত্রে খাদ্য গ্রহণের তাড়না অগ্রগণ্য হয়েছিল এবং আলোর ক্ষেত্রে নিদ্রার তাড়না অগ্রগণ্য হয়েছিল।

    সুতরাং সামগ্রিক বিশ্লেষণে বলা যায়, নিলা ও আলো উভয়ের প্রেষণাই জৈবিক প্রেষণার অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় মৌলিক শ্রেণিবিন্যাসে একই হলেও অগ্রাধিকার ও প্রকাশের মাত্রার দিক থেকে তা ভিন্ন ছিল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন