যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২৩

যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    আরোহ কত প্রকার?

    (1)
  2. খ)

    আরোহাত্মক লম্ফ ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে দৃষ্টান্ত-(ক) কোন প্রকারের অনুমানকে প্রকাশ করেছে? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    পাঠ্যপুস্তকের আলোকে দৃষ্টান্ত-(ক) ও দৃষ্টান্ত-(খ)-এর পার্থক্য বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যুক্তিবিদ মিলের মতে আরোহ প্রধানত ২ প্রকার: যথার্থ আরোহ ও অপ্রকৃত আরোহ। (সাধারণভাবে আরোহ দুই প্রকার: অবরোহ ও আরোহের বিপরীতে আরোহ অনুমানকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়— যথার্থ আরোহ ও আপাতদৃষ্টিতে আরোহ/অপ্রকৃত আরোহ)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    জানা থেকে অজানায়, নিরীক্ষিত থেকে অনিরীক্ষিত বা বিশেষ থেকে সার্বিকে পদার্পণ করার মানসিক প্রক্রিয়াকে 'আরোহাত্মক লম্ফ' (Inductive Leap) বলা হয়। যুক্তিবিদ বেইন আরোহের এই উত্তরণ প্রক্রিয়াকে 'অন্ধকারে লম্ফপ্রদান' বলেছেন। বিশেষ কিছু দৃষ্টান্ত পর্যবেক্ষণ করে যখন আমরা একটি সমগ্র বা সার্বিক সিদ্ধান্তের দিকে অগ্রসর হই, তখন জানা বিষয়ের ভিত্তিতে অজানা বিষয়ে যে উত্তরণ ঘটে, তা-ই হলো আরোহাত্মক লম্ফ। এটি আরোহ অনুমানের মূল ভিত্তি বা প্রাণকেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে দৃষ্টান্ত-(ক) আরোহ অনুমানকে (বিশেষভাবে এটি আরোহ বা অবৈজ্ঞানিক আরোহের দৃষ্টান্ত) প্রকাশ করেছে।

    যে অনুমানে কয়েকটি বিশেষ বিশেষ দৃষ্টান্ত বা অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে একটি সার্বিক সংশ্লেষক যুক্তিবাক্য প্রতিষ্ঠা করা হয়, তাকে আরোহ অনুমান বলে।

    উদ্দীপকের দৃষ্টান্ত-(ক)-তে দেখা যায়:
    গোলাপ ফুল হয় লাল,
    জবা ফুল হয় লাল,
    শাপলা ফুল হয় লাল,
    ∴ অতএব, সব ফুল হয় লাল।

    এখানে কয়েকটি বিশেষ ফুলের (গোলাপ, জবা, শাপলা) বর্ণ পর্যবেক্ষণ করে সকল ফুল সম্পর্কে একটি সার্বিক সিদ্ধান্ত 'সব ফুল হয় লাল' গ্রহণ করা হয়েছে। অর্থাৎ এখানে বিশেষ থেকে সার্বিকে গমন করা হয়েছে। তাই এটি যুক্তিবিদ্যার দৃষ্টিকোণ থেকে একটি আরোহ অনুমান।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    পাঠ্যপুস্তকের আলোকে উদ্দীপকের দৃষ্টান্ত-(ক) হলো 'আরোহ অনুমান' এবং দৃষ্টান্ত-(খ) হলো 'অবরোহ অনুমান'। নিম্নে এদের পার্থক্য বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. গতিপ্রকৃতিগত পার্থক্য: আরোহ অনুমানে [দৃষ্টান্ত-(ক)] কয়েকটি বিশেষ ঘটনা বা দৃষ্টান্ত থেকে সার্বিক সিদ্ধান্তে যাওয়া হয় (বিশেষ থেকে সার্বিক)। পক্ষান্তরে, অবরোহ অনুমানে [দৃষ্টান্ত-(খ)] সার্বিক ধারণা বা নিয়ম থেকে বিশেষ সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয় (সার্বিক থেকে বিশেষ)।

    ২. সিদ্ধান্তের ব্যাপকতা: আরোহ অনুমানের সিদ্ধান্তটি আশ্রয়বাক্যগুলোর তুলনায় অধিক ব্যাপক হয়। দৃষ্টান্ত-(ক)-তে গোলাপ, জবা ও শাপলার রঙের সীমা ছাড়িয়ে 'সব ফুল'-এর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত টানা হয়েছে। কিন্তু অবরোহ অনুমানে সিদ্ধান্ত কোনো অবস্থাতেই আশ্রয়বাক্যের চেয়ে বেশি ব্যাপক হতে পারে না। দৃষ্টান্ত-(খ)-তে 'সব ফুল'-এর সার্বিক নিয়ম থেকে একটি বিশেষ ফুল 'জবা'-এর ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    ৩. সত্যতার প্রকৃতি: আরোহ অনুমানের মূল লক্ষ্য হলো আকারগত ও বস্তুগত—উভয় প্রকার সত্যতা অর্জন করা। কিন্তু অবরোহ অনুমানে কেবল আকারগত সত্যতার দিকে লক্ষ্য রাখা হয়, এর সিদ্ধান্ত আশ্রয়বাক্য থেকে অনিবার্যভাবে নিঃসৃত হচ্ছে কি না তা বিচার করা হয়।

    ৪. আরোহাত্মক লম্ফ: আরোহ অনুমানে জ্ঞাত সত্য থেকে অজ্ঞাত সত্যে যাওয়ার একটি 'আরোহাত্মক লম্ফ' উপস্থিত থাকে। কিন্তু অবরোহ অনুমানে কোনো আরোহাত্মক লম্ফ থাকে না; কারণ সিদ্ধান্তটি পূর্বেই আশ্রয়বাক্যের মধ্যে প্রচ্ছন্নভাবে নিহিত থাকে।

    সুতরাং, গঠনগত বৈশিষ্ট্য ও সিদ্ধান্তের প্রকৃতিগত দিক থেকে দৃষ্টান্ত-(ক) ও দৃষ্টান্ত-(খ)-এর মধ্যে মৌলিক পার্থক্য বিদ্যমান।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন