বাংলা ১ম পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০১৭
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
এবার ফিরাও মোরে' কবিতায় রবীন্দ্রনাথ তাঁর কবিসত্তাকে আহ্বান করেছিলেন দারিদ্রপীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের শক্তির উদ্বোধন ঘটাবার জন্য। তিনি এতে বলেছেন, যারা দরিদ্র, তারা বংশ পরম্পরায় দারিদ্র্যের যাঁতাকলে পিষ্ট হচ্ছে। তাদের মুখের অন্ন কেউ কেড়ে নিলেও তারা থাকে মুক ও ভীতসন্ত্রস্ত। প্রতিবাদ করা তো দূরের কথা, সবিনয়ে নালিশের ভাষাও যেনো এদের নেই। স্বয়ং বিধাতাও যেনো এদের প্রতি বিমুখ। কবি বলেছেন যে এদের মুখে দিতে হবে ভাষা।
- ক)(1)
ঐকতান' কবিতাটি কোন ছন্দে রচিত?
- খ)(2)
কবির মতে গানের পসরা ব্যর্থ হয় কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকে বর্ণিত কবির আহ্বান 'ঐকতান' কবিতায় কতটা প্রতিফলিত হয়েছে?
- ঘ)(4)
'ঐকতান' কবিতায় যে অপূর্ণতার কথা ব্যক্ত হয়েছে উদ্দীপকে তা নেই'- বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'ঐকতান' কবিতাটি অক্ষরবৃত্ত (পয়ার) ছন্দে রচিত।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জীবনের সাথে যোগাযোগহীন ও কৃত্রিম সাহিত্য সৃষ্টির কারণে কবির মতে গানের পসরা ব্যর্থ হয়।
কবির মতে, সাহিত্যের মূল সুর যদি সাধারণ শ্রমজীবী ও খেটে-খাওয়া মানুষের বাস্তব জীবনযাত্রার সাথে যুক্ত না হয়, তবে তা কখনো সর্বজনীন হতে পারে না। কেবল কল্পনা বা অভিজাত মহলের বিলাসী আয়োজন জীবনের সত্যকে ধারণ করতে পারে না বলেই তা একদেশদর্শী হয়ে ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত দরিদ্র মানুষের পক্ষে দাঁড়ানো ও তাদের মুখে ভাষা দেওয়ার কবির আহ্বানটি 'ঐকতান' কবিতায় শ্রমজীবী মানুষের সান্নিধ্য পাওয়ার গভীর আকাঙ্ক্ষার মাধ্যমে জোরালোভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
'ঐকতান' কবিতায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর উপলব্ধি করেছেন যে তাঁর কাব্যসাধনা সমাজ ও জীবনের সকল স্তর স্পর্শ করতে পারেনি। বিশেষ করে কৃষক, তাঁতি, জেলে ও দিনমজুরের মতো ব্রাত্য শ্রেণির মানুষের জীবনচিত্র তাঁর সৃষ্টিতে পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়নি। তাই তিনি এমন কোনো কবির আগমনের প্রত্যাশা করেছেন, যিনি এই অবহেলিত মানুষের অন্তরের বেদনায় একাত্ম হয়ে তাদের ভাষা দিতে পারবেন।
উদ্দীপকেও একইভাবে বংশপরম্পরায় পিষ্ট, মূক ও নীরব দরিদ্র মানুষের শক্তির জাগরণ এবং তাদের মুখে ভাষা দেওয়ার দৃঢ় আহ্বান ফুটে উঠেছে। সুতরাং, অবহেলিত শ্রেণির মানুষের মুক্তি ও স্বর প্রতিষ্ঠার দিক থেকে উদ্দীপকের ভাবনাটি 'ঐকতান' কবিতার আহ্বানের সাথে গভীর সাদৃশ্য বজায় রেখে চমৎকারভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'ঐকতান' কবিতায় কবি নিজের সাহিত্যসাধনার যে সীমাবদ্ধতা ও অপূর্ণতার স্বীকারোক্তি দিয়েছেন, উদ্দীপকে তা অনুপস্থিত—মন্তব্যটি যথার্থ।
'ঐকতান' কবিতায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর পরম সততা ও বিনয়ের সাথে স্বীকার করেছেন যে তিনি সর্বত্রগামী হতে পারেননি। অভিজাত শ্রেণির গণ্ডিতে আবদ্ধ থাকায় তিনি কৃষক, মজুরদের অতি নিকটে পৌঁছাতে পারেননি। সাহিত্যের এই অপূর্ণতা পূরণের জন্য তিনি ব্রাত্য জীবনের সমব্যথী এক ভাবী কবিকে আহ্বান জানিয়েছেন, যিনি মাটির কাছাকাছি মানুষের জীবনের রূপকার হবেন। নিজের সাধনার এই সীমাবদ্ধতার বোধই হলো 'ঐকতান' কবিতার অন্যতম মূল সুর।
অন্যদিকে, উদ্দীপকটিতে মূলত অবহেলিত, নির্যাতিত ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে কবিসত্তাকে জাগিয়ে তুলে তাদের মুখে ভাষা প্রদানের সরাসরি সংকল্প প্রকাশ পেয়েছে। সেখানে কবির নিজের সীমাবদ্ধতা বা সাহিত্যের সুরের অপূর্ণতার কোনো স্বীকারোক্তি নেই; বরং রয়েছে তাদের শক্তিবৃদ্ধি ও জাগরণের প্রত্যক্ষ ঘোষণা।
সুতরাং, দেখা যায় যে 'ঐকতান' কবিতার প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো কবির আত্মউপলব্ধি ও সৃষ্টির অপূর্ণতার অকপট স্বীকারোক্তি, যা উদ্দীপকের প্রতিবাদী ও জাগরণমূলক আহ্বানে স্থান পায়নি। তাই প্রশ্নোক্ত বক্তব্যটি সম্পূর্ণরূপে সত্য ও যুক্তিযুক্ত।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও