বাংলা ১ম পত্র • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৪
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
রুনু সুন্দরী ও উচ্চ শিক্ষিতা। পরিবারের চাপে সে নিম্নমধ্যবিত্ত, চাকরিরত মেহরাবের সঙ্গে রুনু দুই লাখ টাকা দেনমোহরে বিয়েতে সম্মত হয়। বিয়ের আকদ সম্পন্ন হওয়ার পর মেহরাবের চাচা দুলু আকস্মাৎ বললেন, "পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক না পেলে আমরা সহসা মেয়েকে ঘরে তুলে নেব না।" বিয়ের আসরে যৌতুকের বিষয়টি জানার পর রুনু তার হবু স্বামী মেহরাবকে জীবনসঙ্গী হিসেবে গ্রহণ করতে রাজি হয় না। রুনুর দৃঢ়তায় বিয়েটি ভেঙে যায়। সমাজের চোখে মেহরাব একাধারে ব্যক্তিত্বহীন ও যৌতুকপ্রথার সমর্থকহিসেবে বিবেচিত হয়।
- ক)(1)
ঠাট্টার সম্পর্ককে কে স্থায়ী করতে চাননি?
- খ)(2)
অনুপম তার মামাকে ভাগ্যদেবতার প্রধান এজেন্ট বলেছে কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকের মেহরাবের সঙ্গে 'অপরিচিতা' গল্পের যে চরিত্রের সাদৃশ্য আছে তা তুলে ধর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের রুনু 'অপরিচিতা' গল্পের কল্যাণীর চেয়েও সাহসী ও প্রতিবাদী” -বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ঠাট্টার সম্পর্ককে শম্ভুনাথ সেন স্থায়ী করতে চাননি।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
অনুপমের অভিভাবক হিসেবে তার মামা সমস্ত পারিবারিক ও বৈষায়িক সিদ্ধান্ত একচ্ছত্রভাবে নিয়ন্ত্রণ করতেন বলে অনুপম তাঁকে ভাগ্যদেবতার প্রধান এজেন্ট বলেছে।
অনুপমের জীবনের ভালো-মন্দ, বিয়ে এবং ভবিষ্যৎ গতিপ্রকৃতি সবই মামার ইচ্ছার ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল ছিল। মামার সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নিজের মতামত প্রকাশ বা বাস্তবায়ন করার ক্ষমতা অনুপমের ছিল না; তাই অনুপম তাঁকে নিজের ভাগ্য নিয়ন্ত্রক হিসেবে বিবেচনা করেছে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের মেহরাবের সঙ্গে 'অপরিচিতা' গল্পের নায়ক অনুপম চরিত্রের গভীর সাদৃশ্য রয়েছে।
'অপরিচিতা' গল্পের অনুপম এম.এ. পাস করা উচ্চশিক্ষিত যুবক হওয়া সত্ত্বেও সে ছিল ব্যক্তিত্বহীন ও পরনির্ভরশীল। বিয়ের আসরে যখন তার মামা বিয়ের পণ বা যৌতুকের লোভে শম্ভুনাথ সেনের দেওয়া গহনা পরখ করে কনেপক্ষকে চরম অপমান করেছিলেন, তখন অনুপম নীরবে তা সহ্য করেছিল; কোনো প্রতিবাদ বা প্রতিরোধ করেনি।
উদ্দীপকেও মেহরাব একজন চাকরিরত পাত্র হওয়া সত্ত্বেও বিয়ের আকদ সম্পন্ন হওয়ার পর তার চাচা যখন অন্যায্যভাবে পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন, মেহরাব তখন সম্পূর্ণ নির্বাক থাকে। অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা না বলে সে চাচার লোভী আচরণের নীরব সহযোগী হয়। ফলে সমাজের চোখে অনুপমের মতো মেহরাবও একাধারে ব্যক্তিত্বহীন ও যৌতুকপ্রথার নীরব সমর্থক হিসেবে প্রতিভাত হয়। তাই মেহরাব চরিত্রের সঙ্গে অনুপম চরিত্রের পূর্ণ সাদৃশ্য বিদ্যমান।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের রুনু 'অপরিচিতা' গল্পের কল্যাণীর চেয়েও সাহসী ও প্রতিবাদী— মন্তব্যটি গভীরভাবে বিশ্লেষণ করলে যথার্থ বলে প্রতীয়মান হয়।
'অপরিচিতা' গল্পে কল্যাণীর বিয়ে ভেঙে যাওয়ার সিদ্ধান্তটি মূলত তার বাবা শম্ভুনাথ সেন নিয়েছিলেন। বিয়ের আসরে বরপক্ষের নীচতা ও গহনা পরখ করার অপমানে ক্ষুব্ধ হয়ে শম্ভুনাথ সেন অনুপমদের ভোজ খাইয়ে সসম্মানে বিদায় করে দেন। কল্যাণী বাবার সেই আত্মমর্যাদাপূর্ণ সিদ্ধান্তকে নিঃসংকোচে মেনে নিয়েছিল এবং পরবর্তীতে পণপ্রথার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে আজীবন দেশসেবা ও নারীশিক্ষার ব্রত গ্রহণ করেছিল।
অন্যদিকে, উদ্দীপকে রুনু সম্পূর্ণ একক সিদ্ধান্তে নিজের বিয়ে প্রত্যাখ্যান করেছে। আকদ হয়ে যাওয়ার পর মেহরাবের চাচা যখন পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে, তখন রুনু পরিবারের কোনো অভিভাবকের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় না থেকে সরাসরি নিজেই হবু স্বামী মেহরাবকে প্রত্যাখ্যান করে। দেনমোহর বা বিয়ের ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পরও রুনু তাৎক্ষণিকভাবে নিজের আত্মমর্যাদা রক্ষায় রুখে দাঁড়িয়েছে এবং একাই প্রতিবাদ গড়ে তুলে বিয়ে ভেঙে দিয়েছে।
কল্যাণীর প্রতিবাদ ছিল পিতৃকর্তৃক গৃহীত সিদ্ধান্তের অনুগামী এবং নীরব আত্মমর্যাদাবোধের প্রকাশ। কিন্তু রুনুর ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও সরাসরি প্রত্যাখ্যান উভয়ই ঘটেছে তার নিজের একক দৃঢ়তায়। এই তাৎক্ষণিক ও প্রত্যয়ী ভূমিকার কারণে রুনুকে কল্যাণীর চেয়েও অধিক সাহসী ও প্রত্যক্ষ প্রতিবাদী বলা যায়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও