বাংলা ১ম পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২৪

বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন

পলাশ শিমুলতলী গ্রামের শিক্ষিত যুবক। সে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম.এ. পাস করে তার গ্রামে একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করতে চায়। তখন ঐ গ্রামের কথিত পির তোরাব আলী তার অনুসারী সাগর মিয়া, আকাশ ও সবুজ আলীকে নিয়ে স্কুল প্রতিষ্ঠার কাজে বাঁধার সৃষ্টি করে। পলাশ অকুতোভয়, সে তার গ্রামের শিক্ষিত বন্ধু করিম, কবির ও বসিরের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় স্কুল প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়। এ ছাড়াও সে তার বন্ধুদের সহযোগিতায় ভণ্ড পির তোরাব আলীকে গ্রাম থেকে বিতারিত করে দেয়।

  1. ক)

    'মরা মানুষ জিন্দা হয় ক্যামনে'-উক্তিটি কার?

    (1)
  2. খ)

    “বিশ্বাসের পাথরে যেন খোদাই সে চোখ”-উক্তিটি ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের পলাশের সাথে 'লালসালু' উপন্যাসের সাদৃশ্যপূর্ণ চরিত্রের মিল-অমিল দেখাও।

    (3)
  4. ঘ)

    “ 'লালসালু' উপন্যাসে স্কুল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ ব্যর্থ হলেও উদ্দীপকে সফল হয়েছে।” -মন্তব্যটি বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'মরা মানুষ জিন্দা হয় ক্যামনে'—উক্তিটি দুদু মিয়ার।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    “বিশ্বাসের পাথরে যেন খোদাই সে চোখ”—উক্তিটির মাধ্যমে মজিদের চোখ দুটোতে অন্ধবিশ্বাসী মানুষের মনের ওপর আধিপত্য বিস্তারকারী অবিচল ও অনমনীয় দৃষ্টির তীব্রতাকে বোঝানো হয়েছে।

    'লালসালু' উপন্যাসে মজিদ ধর্মের ভণ্ডামিকে আশ্রয় করে গ্রামবাসীকে কুসংস্কার আর ভীতির মধ্যে আটকে রাখে। তার চোখ জোড়া কোনো চঞ্চলতা বা সংশয় প্রকাশ করে না; বরং তা এক অনড় ও গভীর বিশ্বাসের মুখোশে আবৃত। সেই চোখের দৃষ্টি এমন এক নিশ্চল ভঙ্গি ধারণ করে, যা দেখে সাধারণ ধর্মান্ধ ও সরল গ্রামবাসীরা মনে করে মজিদ কোনো সাধারণ মানুষ নয়, বরং গভীর আত্মিক শক্তিসম্পন্ন আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ব।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের পলাশের সাথে 'লালসালু' উপন্যাসের আক্কাস চরিত্রের চিন্তা ও উদ্দেশ্যের মিল থাকলেও পরিণতি ও সাহসিকতার দিক থেকে অমিল রয়েছে।

    মিল: 'লালসালু' উপন্যাসে আক্কাস ছিল গ্রামের একমাত্র আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত ও সচেতন যুবক। সে অজ্ঞতা ও কুসংস্কারের অন্ধকার দূর করে গ্রামের মানুষের চোখ খুলে দেওয়ার উদ্দেশ্যে গ্রামে একটি স্কুল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছিল। উদ্দীপকের পলাশও একজন শিক্ষিত যুবক, যে গ্রামে আধুনিক শিক্ষার আলো ছড়ানোর জন্য একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করতে চায়। সমাজসংস্কার ও শিক্ষার প্রসারে দুজনের উদ্দেশ্যই ছিল অভিন্ন।

    অমিল: আক্কাস স্কুল প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখলেও মজিদের ধর্মের মুখোশপরা চাতুর্য ও সামাজিক ষড়যন্ত্রের কাছে নতি স্বীকার করতে বাধ্য হয়। মজিদ যখন আক্কাসের দাড়ি না রাখা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাকে অপদস্থ করে, তখন আক্কাস প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেনি; বরং ব্যর্থ ও অপমানিত হয়ে গ্রাম ছেড়ে চলে যায়। কিন্তু উদ্দীপকের পলাশ অকুতোভয়। সে বন্ধুদের নিয়ে মজিদের সমগোত্রীয় ভণ্ড পির তোরাব আলীর বাধা প্রতিহত করে সফলভাবে স্কুল প্রতিষ্ঠা করে এবং ভণ্ড পিরকে গ্রামছাড়া করে। এখানেই পলাশ ও আক্কাসের মূল অমিল।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    “'লালসালু' উপন্যাসে স্কুল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ ব্যর্থ হলেও উদ্দীপকে সফল হয়েছে”—উদ্দীপক ও উপন্যাসের সমাজবাস্তবতা ও নেতৃত্বের পার্থক্যের কারণে মন্তব্যটি যথার্থ।

    'লালসালু' উপন্যাসে আক্কাস গ্রামে একটি স্কুল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে কুসংস্কারাচ্ছন্ন গ্রামীণ সমাজে শিক্ষার আলো ছড়াতে চেয়েছিল। কিন্তু সেকালের সমাজ ছিল ধর্মের ভয়ে ভীত, অজ্ঞ এবং মজিদের মতো ধর্মব্যবসায়ীর করতলগত। আক্কাস ছিল একা, তার সঙ্গে যুবসমাজের কোনো সংগঠিত শক্তি ছিল না। মজিদ যখন আক্কাসের ব্যক্তিগত ধর্মাচরণ বা দাড়ি না রাখার বিষয়টিকে সামনে এনে ধর্মীয় অনুভূতিকে উসকে দেয়, তখন গ্রামের মাতব্বরসহ সাধারণ মানুষ মজিদের পক্ষ নেয়। ফলে চরম একাকীত্ব ও সামাজিক চাপের মুখে আক্কাসের উদ্যোগ ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয় এবং তাকে গ্রাম ত্যাগ করতে হয়।

    অপরদিকে, উদ্দীপকে শিক্ষিত যুবক পলাশ স্কুল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিলে তোরাব আলীর মতো স্বার্থান্বেষী ভণ্ড পির বাধা দেয়। কিন্তু পলাশ একা ছিল না; তার সঙ্গে করিম, কবির ও বসিরের মতো একদল সচেতন ও শিক্ষিত যুবকের ঐক্যবদ্ধ শক্তি ছিল। সেই সম্মিলিত সাহসিকতা ও অকুতোভয় মনোভাবের ফলে তারা ভণ্ড পিরের ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে স্কুল প্রতিষ্ঠা করে এবং ভণ্ড পিরকে বিতাড়িত করে বিজয় অর্জন করে।

    সুতরাং, উপন্যাসে সামাজিক পশ্চাৎপদতা ও একাকীত্বের কারণে আক্কাসের প্রয়াস ব্যর্থ হলেও উদ্দীপকে যুবসমাজের ঐক্য ও অনমনীয় সাহসিকতার ফলে স্কুল প্রতিষ্ঠার মহৎ উদ্যোগটি সফল হয়েছে—তাই মন্তব্যটি সম্পূর্ণরূপে সত্য ও যুক্তিযুক্ত।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন