ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২২

ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র প্রশ্ন

মুদ্রাস্ফীতি ও মুদ্রা সংকোচন যেকোনো দেশের অর্থনীতির জন্য খারাপ সংকেত বহন করে। তাই সরকার মুদ্রাস্ফীতি কমানোর জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ প্রদান করে। তাই ঋণ প্রবাহ কমানোর মাধ্যমে মুদ্রাস্ফীতি কমানোর উদ্দেশ্যে তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক হতে ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে সুদের হার ৪% থেকে বাড়িয়ে ৬% করে। এমতাবস্থায় ব্যাংকগুলোর পর্যাপ্ত তারল্য থাকায় এতে তেমন কোনো কার্যক্রমের সুফল পরিলক্ষিত হয়নি। পরবর্তীতে তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলো গ্রাহকদের ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে জামানত সম্পদের বিপরীতে ঋণ মার্জিনের হার কেন্দ্রীয় ব্যাংক বৃদ্ধি করার নির্দেশ দেন।

  1. ক)

    নিকাশ ঘর কী?

    (1)
  2. খ)

    কেন্দ্রীয় ব্যাংককে ঋণদানের শেষ আশ্রয়স্থল বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    বাংলাদেশ ব্যাংক প্রথম ঋণ নিয়ন্ত্রণে কোন পদ্ধতি ব্যবহার করেছে? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে বাংলাদেশ ব্যাংকের ঋণ নিয়ন্ত্রণে দ্বিতীয় পদ্ধতিটি অধিক কার্যকর। ভূমিকা পালনে সক্ষম— এ সম্পর্কে তোমার মতামত বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    নিকাশ ঘর (Clearing House) হলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এমন একটি আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থা বা স্থান, যেখানে সদস্য ব্যাংকসমূহ একত্রিত হয়ে তাদের পারস্পরিক আন্তঃব্যাংক দেনা-পাওনা নিষ্পত্তি করে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বাণিজ্যিক ব্যাংকসমূহ চরম আর্থিক বা তারল্য সংকটে পড়ে যখন অন্য কোনো উৎস হতে অর্থ সংগ্রহ করতে ব্যর্থ হয়, তখন সর্বশেষ ভরসাস্থল হিসেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের ঋণ প্রদান করে উদ্ধার করে বলেই একে ঋণদানের শেষ আশ্রয়স্থল বলা হয়।

    বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর স্বাভাবিক পরিচালন কার্যক্রমে হঠাৎ আমানতকারীদের ব্যাপক অর্থ উত্তোলনের চাপ দেখা দিলে ব্যাংক তারল্য ঝুঁকিতে পড়তে পারে। এ সময় আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজার বা অন্য কোথাও থেকে ঋণ না পেলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রথম শ্রেণির জামানত বা বিল বাট্টাকরণের মাধ্যমে তালিকাভুক্ত ব্যাংককে ঋণ দিয়ে দেউলিয়াত্বের হাত থেকে রক্ষা করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বাংলাদেশ ব্যাংক ঋণ নিয়ন্ত্রণে প্রথম ক্ষেত্রে পরিমাণগত পদ্ধতির অন্তর্গত 'ব্যাংক হার নীতি' (Bank Rate Policy) ব্যবহার করেছে।

    যে সুদের হারে কেন্দ্রীয় ব্যাংক তালিকাভুক্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে প্রথম শ্রেণির জামানতের বিপরীতে ঋণ প্রদান করে কিংবা বিনিময় বিল বাট্টা করে, তাকে ব্যাংক হার বলে। বাজারে ঋণের প্রবাহ তথা মুদ্রাস্ফীতি কমাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাংক হার বৃদ্ধি করে। ফলে বাণিজ্যিক ব্যাংকের তহবিল সংগ্রহের ব্যয় বেড়ে যায় এবং তারা সাধারণ গ্রাহকদের জন্য সুদের হার বাড়িয়ে দেয়, যার ফলে ঋণ গ্রহণ হ্রাস পায়।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, মুদ্রাস্ফীতি কমানোর জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলোর ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে সুদের হার ৪% থেকে বাড়িয়ে ৬% করেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃক সুদের এই হার পরিবর্তন বা বৃদ্ধি করা মূলত 'ব্যাংক হার নীতি'র প্রয়োগ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বাংলাদেশ ব্যাংকের ঋণ নিয়ন্ত্রণে দ্বিতীয় পদ্ধতিটি (জামানতি ঋণের প্রান্তিক হার পরিবর্তন) প্রথম পদ্ধতির তুলনায় অধিক কার্যকর ভূমিকা পালনে সক্ষম— এ সম্পর্কিত বক্তব্যটি যথার্থ।

    উদ্দীপকে উল্লিখিত দ্বিতীয় পদ্ধতিটি হলো গুণগত বা নির্বাচনমূলক ঋণ নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির অন্তর্ভুক্ত 'জামানতি ঋণের প্রান্তিক বা মার্জিনের হার পরিবর্তন নীতি' (Change in Margin Requirements)। ঋণের বিপরীতে জমাকৃত জামানতি সম্পদের বাজারমূল্য এবং মঞ্জুরীকৃত ঋণের পরিমাণের মধ্যকার ব্যবধানকে ঋণের মার্জিন বলে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই মার্জিনের হার বৃদ্ধি করলে গ্রাহকরা একই পরিমাণ জামানত রেখে পূর্বের চেয়ে কম ঋণ পায়।

    উক্ত নীতিটি কেন অধিক কার্যকর তা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
    ১. তারল্য আধিক্যের প্রভাবহীনতা: ব্যাংক হার নীতিতে সুদের হার বৃদ্ধি করা হলেও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর হাতে যদি পর্যাপ্ত নিজস্ব তারল্য বা উদ্বৃত্ত অর্থ থাকে (যেমন উদ্দীপকে উল্লেখ রয়েছে), তবে তারা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঋণের ওপর নির্ভরশীল থাকে না। ফলে ব্যাংক হার নীতি নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে।
    ২. সরাসরি ঋণ গ্রহণে বাধা সৃষ্টি: মার্জিনের হার বৃদ্ধি করলে বাণিজ্যিক ব্যাংকের তারল্য বেশি থাকলেও গ্রাহকদের জন্য ঋণের প্রাপ্যতা সরাসরি সংকুচিত হয়ে যায়। গ্রাহককে ঋণের জন্য আগের চেয়ে অনেক বেশি মূল্যের জামানত দিতে হয়, যার ফলে ফটকা কারবার বা অপ্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে ঋণের প্রবাহ তাৎক্ষণিকভাবে কমে যায়।
    ৩. প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণ: গুণগত পদ্ধতি হওয়ায় এটি নির্দিষ্ট খাতের অতিরিক্ত ঋণ বিস্তার সরাসরি রোধ করতে পারে, যা পরোক্ষ পরিমাণগত পদ্ধতির চেয়ে অনেক বেশি লক্ষ্যভিত্তিক ও ফলপ্রসূ।

    সুতরাং, বাণিজ্যিক ব্যাংকে পর্যাপ্ত তারল্য থাকার প্রেক্ষাপটে প্রথম পদ্ধতির ব্যর্থতায় দ্বিতীয় পদ্ধতিটি প্রয়োগ করে সরাসরি ঋণ সংকোচন ঘটানো সম্ভব হয়েছে বিধায় এটি অধিকতর কার্যকর।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন