জীববিজ্ঞান ১ম পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২২

জীববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

সহিদ স্যার উদ্ভিদবিজ্ঞানের ব্যবহারিক ক্লাসে একটি উদ্ভিদের দুটি অংশের অন্তর্গঠন অণুবীক্ষণ যন্ত্রে ছাত্রদের দেখালেন। একটি অংশের বহিঃত্বকে এককোষী লোম বিদ্যমান, অপরটিতে লোম নেই কিন্তু কিউটিকল আছে।

  1. ক)

    স্টিলি কী?

    (1)
  2. খ)

    হাইডাথোড বলতে কী বোঝায় ?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের প্রথম অঙ্গটির অন্তর্গঠনের চিহ্নিত চিত্র আঁক।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত অংশ দুটির অন্তর্গঠনের তুলনা কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্ভিদের মূল বা কাণ্ডের কেন্দ্রস্থলে পেরিসাইকল বা পরিচক্র দিয়ে পরিবেষ্টিত জাইলেম ও ফ্লোয়েম সংবহনতন্ত্র এবং মজ্জা সমন্বয়ে গঠিত কেন্দ্রীয় অংশকে স্টিলি (stele) বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    হাইডাথোড বা পানিপত্ররন্ধ্র হলো উদ্ভিদের পাতার কিনারায় অবস্থিত এক ধরনের বিশেষ পানি নির্মোচন অঙ্গ বা ছিদ্র, যার মাধ্যমে তরলাকারে পানি এবং এতে দ্রবীভূত খনিজ লবণ নির্গত হয়। এই বিশেষ তরল পানি নির্গমন প্রক্রিয়াকে গাটেশন (guttation) বলে। এটি সাধারণত ঘাস, কচু, টমেটো ইত্যাদি উদ্ভিদে দেখা যায়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের প্রথম অঙ্গটি হলো 'মূল' (যেহেতু বহিঃত্বকে এককোষী লোম বা মূলরোম বিদ্যমান)।

    একটি আদর্শ একবীজপত্রী/দ্বিবীজপত্রী মূলের অন্তর্গঠন নিম্নের প্রধান অংশগুলো প্রদর্শন করে চিত্রিত করতে হবে:
    ১. মূলত্বক বা এপিব্লেমা (এককোষী মূলরোম সহ)
    ২. কর্টেক্স (বহিঃস্থ সাধারণ কর্টেক্স ও অন্তঃত্বক/এন্ডোডার্মিস)
    ৩. পরিচক্র (পেরিসাইকল)
    ৪. ভাস্কুলার বান্ডল (অরীয় প্রকৃতির, জাইলেম ও ফ্লোয়েম পৃথকভাবে ভিন্ন ব্যাসার্ধে সাজানো এবং এক্সার্ক ধরনের জাইলেম যেখানে প্রোটোজাইলেম পরিধির দিকে)
    ৫. মজ্জা (Medulla)।

    (পরীক্ষায় চিহ্নিত চিত্রটিতে: মূলরোম, এপিব্লেমা, কর্টেক্স, অন্তঃত্বক, পরিচক্র, প্রোটোজাইলেম, মেটাজাইলেম, ফ্লোয়েম ও মজ্জা লেবেল করতে হবে।)

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত অংশ দুটি হলো উদ্ভিদের মূল (প্রথম অংশ, এককোষী রোমযুক্ত) এবং কাণ্ড (দ্বিতীয় অংশ, রোমহীন কিন্তু কিউটিকলযুক্ত)। নিম্নে এদের অন্তর্গঠনের তুলনা দেওয়া হলো:

    ১. ত্বক (বহিঃত্বক): মূলের ত্বককে এপিব্লেমা বলা হয় এবং এতে কিউটিকল থাকে না। কাণ্ডের ত্বককে এপিডার্মিস বলে এবং এতে স্পষ্ট কিউটিকল বা কিউটিন স্তর বিদ্যমান।

    ২. রোম বা ট্রাইকোম: মূলের বহিঃত্বকে সর্বদা এককোষী মূলরোম থাকে। কাণ্ডে রোম থাকলে তা সাধারণত বহুকোষী হয় (উদ্দীপকে কাণ্ডটিতে রোম অনুপস্থিত উল্লেখ রয়েছে)।

    ৩. অধস্ত্বক (হাইপোডার্মিস): মূলে কোনো অধস্ত্বক থাকে না, এপিব্লেমার ঠিক নিচেই কর্টেক্স শুরু হয়। কাণ্ডে সাধারণত এপিডার্মিসের নিচে কোলেনকাইমা বা স্ক্লেরেনকাইমা নির্মিত অধস্ত্বক থাকে।

    ৪. অন্তঃত্বক (এন্ডোডার্মিস): মূলে অন্তঃত্বক স্পষ্ট এবং এর কোষে ক্যাসপেরিয়ান স্ট্রিপ থাকে। কাণ্ডে অন্তঃত্বক অনেক সময় অনুপস্থিত অথবা অস্পষ্ট কিংবা স্টার্চ শিথ (শ্বেতসার আবরণী) হিসেবে থাকে।

    ৫. ভাস্কুলার বান্ডলের প্রকারভেদ: মূলের ভাস্কুলার বান্ডল অরীয় (radial) প্রকৃতির, অর্থাৎ জাইলেম ও ফ্লোয়েম ভিন্ন ভিন্ন ব্যাসার্ধে একান্তরভাবে সাজানো থাকে। পক্ষান্তরে, কাণ্ডের ভাস্কুলার বান্ডল সংযুক্ত (conjoint) এবং সমপার্শ্বীয় বা সমদ্বিপার্শ্বীয় প্রকৃতির।

    ৬. জাইলেমের বিন্যাস: মূলের জাইলেম এক্সার্ক (exarch) প্রকৃতির, অর্থাৎ প্রোটোজাইলেম পরিধির দিকে এবং মেটাজাইলেম কেন্দ্রের দিকে থাকে। অন্যদিকে কাণ্ডের জাইলেম এন্ডার্ক (endarch) প্রকৃতির, অর্থাৎ প্রোটোজাইলেম কেন্দ্রের দিকে এবং মেটাজাইলেম পরিধির দিকে থাকে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন