বাংলা ২য় পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০১৬

বাংলা ২য় পত্র প্রশ্ন

4.

জলবায়ুর পরিবর্তন ও বৈশ্বিক উষ্ণায়ন

উত্তর ও ব্যাখ্যা

AI-তৈরি নমুনা উত্তর

জলবায়ুর পরিবর্তন ও বৈশ্বিক উষ্ণায়ন

ভূমিকা:
বর্তমান বিশ্বে মানবজাতির অস্তিত্বের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে জলবায়ুর পরিবর্তন ও বৈশ্বিক উষ্ণায়ন। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে মানুষের অপরিণামদর্শী কর্মকাণ্ডের ফলে পৃথিবীর প্রাকৃতিক ভারসাম্য বিনষ্ট হচ্ছে। ফলস্বরূপ পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে, যাকে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন বলা হয়। আর এই উষ্ণায়নের প্রভাবেই জলবায়ুর স্বাভাবিক রূপ আমূল পরিবর্তিত হচ্ছে।

বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণ:
বৈশ্বিক উষ্ণায়নের মূল কারণ গ্রিনহাউস গ্যাসের মাত্রাতিরিক্ত নিঃসরণ। শিল্পকারখানা ও যানবাহন থেকে নির্গত কার্বন ডাই-অক্সাইড, মিথেন, নাইট্রাস অক্সাইড, সিএফসি ইত্যাদি গ্যাস বায়ুমণ্ডলে একটি অদৃশ্য আচ্ছাদন তৈরি করে সূর্যের উত্তাপ ধরে রাখছে। এছাড়া নির্বিচারে বনভূমি ধ্বংস বা বৃক্ষনিধন প্রাকৃতিক কার্বন শোষণের পথ রুদ্ধ করে সংকটকে আরও ঘনীভূত করছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব:
১. মেরু অঞ্চলের বরফ গলন ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি: উষ্ণতার ফলে দুই মেরু ও পর্বতের হিমবাহ দ্রুত গলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে উপকূলীয় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ছে।
২. চরম আবহাওয়া ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ: অনাবৃষ্টি, খরা, অতিবৃষ্টি, আকস্মিক বন্যা, শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের পুনরাবৃত্তি আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
৩. বাস্তুতন্ত্র ও জীববৈচিত্র্য ধ্বংস: বহু প্রজাতি তাদের স্বাভাবিক আবাসস্থল হারিয়ে বিলুপ্তির মুখে পড়ছে। প্রবাল প্রাচীর ধ্বংস হচ্ছে।
৪. খাদ্য ও পানীয় জলের সংকট: কৃষিজমি লবণাক্ত হওয়া এবং অনিয়মিত বৃষ্টির কারণে খাদ্য উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং সুপেয় পানির সংকট তীব্র হচ্ছে।

বাংলাদেশের ওপর প্রভাব:
ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাবে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর অন্যতম বাংলাদেশ। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের এক বিশাল অংশ নিমজ্জিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। নদীভাঙন, সুপার সাইক্লোন এবং লবণাক্ততার আগ্রাসনে উপকূলীয় মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে জলবায়ু উদ্বাস্তুতে পরিণত হচ্ছে।

প্রতিকার ও ভবিষ্যৎ করণীয়:
১. জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমিয়ে নবায়নযোগ্য শক্তি (সৌর, বায়ু, জলবিদ্যুৎ) ব্যবহার বৃদ্ধি।
২. ব্যাপকভাবে বনায়ন কর্মসূচি গ্রহণ ও বন উজাড় রোধ করা।
৩. আন্তর্জাতিক জলবায়ু চুক্তি (যেমন প্যারিস চুক্তি) যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা।
৪. পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির প্রসার এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি।

উপসংহার:
পৃথিবী আমাদের একমাত্র আবাসস্থল। বৈশ্বিক উষ্ণায়ন রোধ ও জলবায়ুর স্বাভাবিক অবস্থা রক্ষা করতে না পারলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের বেঁচে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়বে। তাই এখনই সকল দেশকে সম্মিলিতভাবে দায়িত্বশীল পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন