বাংলা ২য় পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০১৭

বাংলা ২য় পত্র প্রশ্ন

2.

বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প: সমস্যা ও সম্ভাবনা।

উত্তর ও ব্যাখ্যা

AI-তৈরি নমুনা উত্তর

বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প: সমস্যা ও সম্ভাবনা

ভূমিকা:
বর্তমান বিশ্বে পর্যটন একটি দ্রুত বিকাশমান ও লাভজনক শিল্প। কোনো দেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ঐতিহাসিক নিদর্শন এবং সমৃদ্ধ সংস্কৃতিকে কেন্দ্র করে এই শিল্পের বিকাশ ঘটে। রূপসী বাংলা প্রাকৃতিক রূপবৈচিত্র্য, সবুজ অরণ্য, নদনদী ও ঐতিহ্যে অনন্য। সঠিক পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পর্যটন খাতকে এগিয়ে নিয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করার অপার সুযোগ রয়েছে।

বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের পটভূমি ও আকর্ষণসমূহ:
বাংলাদেশের রয়েছে পৃথিবীর সবচেয়ে দীর্ঘতম অখণ্ড প্রাকৃতিক সমুদ্রসৈকত কক্সবাজার এবং বিশ্ব ঐতিহ্য ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন। এছাড়া রয়েছে:
১. প্রাকৃতিক আকর্ষণ: কুয়াকাটার সৈকত (যেখান থেকে একই সাথে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখা যায়), সিলেটের চা-বাগান, জাফলং, রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্ট, বিছনাকান্দি এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ির মনোমুগ্ধকর পাহাড় ও জলপ্রপাত।
২. ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন: পাহাড়পুরের সোমপুর মহাবিহার, মহাস্থানগড়, ময়নামতী, লালবাগ কেল্লা, আহসান মঞ্জিল, বাগেরহাটের ষাটগম্বুজ মসজিদ এবং পানাম নগর।
৩. সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য: লোকজ সংস্কৃতি, বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বৈচিত্র্যময় জীবনধারা এবং বাংলার ঐতিহ্যবাহী মেলা ও উৎসবসমূহ বিদেশি পর্যটকদের দারুণভাবে আকর্ষণ করে।

পর্যটন শিল্পের সমস্যাসমূহ:
প্রচুর সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশের পর্যটন খাত কিছু মৌলিক সমস্যার কারণে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারছে না:
১. অবকাঠামোগত দুর্বলতা: পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে উন্নত যাতায়াত ব্যবস্থা, মানসম্মত সড়ক, নিরাপদ পরিবহন এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও পানির অভাব রয়েছে।
২. মানসম্মত আবাসন ও সেবা: প্রধান কেন্দ্রগুলো বাদে প্রত্যন্ত এলাকার পর্যটন স্পটগুলোতে মানসম্মত হোটেল, মোটেল ও স্যানিটেশন সুবিধার তীব্র অভাব রয়েছে।
৩. নিরাপত্তার অভাব: নারী ও বিদেশি পর্যটকদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা, ছিনতাই ও হয়রানি রোধে পর্যাপ্ত ট্যুরিস্ট পুলিশের উপস্থিতি সব স্পটে নিশ্চিত করা যায়নি।
৪. আন্তর্জাতিক প্রচার ও বিপণনের ঘাটতি: আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের পর্যটন স্থানগুলোর তথ্যবহুল ও আকর্ষণীয় ডিজিটাল প্রচারণা অপ্রতুল।
৫. অতিরিক্ত বাণিজ্যিকীকরণ ও পরিবেশ দূষণ: মাত্রাতিরিক্ত ভিড় এবং দায়িত্বজ্ঞানহীন পর্যটনের কারণে পরিবেশ নোংরা হচ্ছে ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে।
৬. দক্ষ মানবসম্পদের অভাব: পর্যটন ও হসপিটালিটি সেক্টরে পেশাদার ও প্রশিক্ষিত গাইডের অভাব পরিলক্ষিত হয়।

সম্ভাবনা ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব:
১. বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন: পর্যটন খাতের সুষ্ঠু বিকাশের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা সম্ভব, যা জাতীয় প্রবৃদ্ধিতে (জিডিপি) বড় ভূমিকা রাখবে।
২. কর্মসংস্থান সৃষ্টি: হোটেল, রেস্তোরাঁ, পরিবহন এবং হস্তশিল্পের সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত হয়ে লাখ লাখ বেকার তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থান হতে পারে।
৩. ইকো-ট্যুরিজম ও কমিউনিটি ট্যুরিজম: প্রকৃতিকে অক্ষুণ্ণ রেখে সুন্দরবন ও পার্বত্য অঞ্চলে ইকো-ট্যুরিজমের দারুণ সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া গ্রামীণ সংস্কৃতিকে তুলে ধরে কমিউনিটি ট্যুরিজম গড়ে তোলা যায়।

সমস্যা সমাধানে করণীয়:

  • যোগাযোগ ও অবকাঠামোর আধুনিকায়ন এবং বিমান ও রেল সংযোগ বাড়ানো।
  • পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ট্যুরিস্ট পুলিশের পরিধি বৃদ্ধি করা।
  • আন্তর্জাতিক পর্যটন মেলা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমন্বিত ব্রান্ডিং করা।
  • বেসরকারি বিনিয়োগ উৎসাহিত করা এবং ভিসা প্রক্রিয়া সহজতর (অন-অ্যারাইভাল ভিসা) করা।
  • পরিবেশবান্ধব ও টেকসই পর্যটন নীতি বাস্তবায়ন করা।

উপসংহার:
প্রকৃতির অকৃপণ দানে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ পর্যটনের এক অপার সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র। সমন্বিত সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ এবং দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত পরিকল্পনা গ্রহণ করলে এই খাতটি বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তিতে পরিণত হতে পারে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন