যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০১৭
যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র প্রশ্ন
আসমা ও ফারজানা দুই বান্ধবী মিলে গল্প করছে। আসমা গল্পের ফাঁকে বলল, আমি এ যাবৎ যত মানুষ দেখেছি তারা সবাই নৈতিক বিচার করতে পারে। মনে হয় সব মানুষই নৈতিক বিচার করার ক্ষমতা রাখে। ফারজানা বললো, আমিও তো তোমার মতো করে বলতে পারি, আমি একবার দশটি আম পেয়েছিলাম এবং প্রত্যেকটির স্বাদ নিয়ে দেখি, সবগুলো আমই হয় মিষ্টি।
- ক)(1)
সাদৃশ্য অনুমান কত প্রকার?
- খ)(2)
ঘটনা সংযোজন বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
আসমার বক্তব্যে কোন ধরনের যুক্তিপদ্ধতি প্রতিফলিত হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
আসমা ও ফারজানার বক্তব্যে যে পদ্ধতি প্রতিফলিত হয়েছে উদ্দীপকের আলোকে তার পার্থক্য নির্ণয় করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যুক্তিবিদ্যায় সাদৃশ্য অনুমানকে প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করা হয়: ১. সাধু সাদৃশ্য অনুমান এবং ২. অসাধু সাদৃশ্য অনুমান।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কতিপয় প্রত্যক্ষ বা পরিচিত বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে একটি সাধারণ ধারণার অধীনে মনের সাহায্যে বা যুক্তির মাধ্যমে একত্রিত করে জানার প্রক্রিয়াকে যুক্তিবিদ্যায় 'ঘটনা সংযোজন' (Colligation of Facts) বলা হয়। উদাহরণস্বরূপ, একজন নাবিক একটি অজানা জলবেষ্টিত ভূখণ্ডের বিভিন্ন দিক প্রদক্ষিণ করে বিচ্ছিন্ন পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে সিদ্ধান্তে পৌঁছালেন যে ভূখণ্ডটি একটি 'দ্বীপ'। এখানে বিচ্ছিন্ন পর্যবেক্ষণসমূহকে 'দ্বীপ' নামক একটি সাধারণ সূত্রের মাধ্যমে একত্রিত বা সংযোজিত করা হয়েছে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আসমার বক্তব্যে অপ্রকৃত আরোহের অন্তর্ভুক্ত 'পূর্ণাঙ্গ আরোহ' বা প্রকৃত আরোহের 'বৈজ্ঞানিক আরোহ/অবৈজ্ঞানিক আরোহ' (মূলত প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা ও সীমিত অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে একটি সার্বিক সংশ্লেষক যুক্তিবাক্য গঠন করায় অবৈজ্ঞানিক আরোহ)-এর বৈশিষ্ট্য প্রতিফলিত হয়েছে। তবে উদ্দীপকে আসমা বলেছে— "আমি এ যাবৎ যত মানুষ দেখেছি তারা সবাই নৈতিক বিচার করতে পারে। মনে হয় সব মানুষই নৈতিক বিচার করার ক্ষমতা রাখে।" অর্থাৎ সে তার সীমিত অভিজ্ঞতা ও প্রকৃতির একরূপতার ওপর বিশ্বাস রেখে একটি সার্বিক সংশ্লেষক বাক্য গঠন করেছে, যাতে 'আরোহমূলক লম্ফ' বিদ্যমান। এটি অবৈজ্ঞানিক আরোহ (বা বৈজ্ঞানিক আরোহের প্রাথমিক রূপ)। এখানে কোনো কার্যকারণ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা ব্যতিরেকে কেবল অবাধ অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে একটি সার্বিক সংশ্লেষক সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠা করার প্রচেষ্টা পরিলক্ষিত হয়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে আসমার বক্তব্যে 'অবৈজ্ঞানিক আরোহ' (প্রকৃত আরোহ) এবং ফারজানার বক্তব্যে 'পূর্ণাঙ্গ আরোহ' (অপ্রকৃত আরোহ) প্রতিফলিত হয়েছে। এদের মধ্যকার প্রধান পার্থক্যগুলো নিম্নে আলোচনা করা হলো:
১. আরোহমূলক লম্ফ: আসমার বক্তব্যে জানা থেকে অজানায় গমনের 'আরোহমূলক লম্ফ' উপস্থিত রয়েছে, কারণ সে কিছু মানুষকে দেখে সব মানুষের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অন্যদিকে ফারজানা নির্দিষ্ট দশটি আমের সবকটি পরীক্ষা করে সিদ্ধান্ত নিয়েছে; ফলে ফারজানার বক্তব্যে কোনো আরোহমূলক লম্ফ নেই।
২. প্রকৃত বনাম অপ্রকৃত আরোহ: আসমার যুক্তিপদ্ধতি হলো প্রকৃত আরোহ, কারণ এতে আরোহের মূল লক্ষণ বা প্রাণকেন্দ্র লম্ফ বিদ্যমান। ফারজানার পদ্ধতিটি হলো অপ্রকৃত আরোহ (পূর্ণাঙ্গ আরোহ), যাতে আরোহের বাহ্যিক রূপ থাকলেও তার প্রকৃত সত্তা নেই।
৩. নতুন সত্যের সন্ধান: আসমার অনুমানে নতুন সত্যের আবিষ্কার বা সম্ভাব্যতা প্রকাশ পায়, কিন্তু ফারজানার অনুমানে পূর্বজ্ঞাত বিচ্ছিন্ন সত্যগুলোর সংক্ষিপ্ত সংকলন ছাড়া নতুন কোনো সত্য উন্মোচিত হয় না।
৪. সিদ্ধান্তের নিশ্চয়তা: আসমার সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে কেবল সম্ভাব্যতার মাত্রা থাকে (কারণ সার্বিক যাচাই সম্ভব হয়নি), অথচ ফারজানার সিদ্ধান্তটি সকল আম পরীক্ষিত হওয়ায় শতভাগ নিশ্চিত ও সুনির্দিষ্ট।
অতএব, উদ্দীপকে আসমা ও ফারজানার যুক্তিপদ্ধতির মূল পার্থক্য তাদের সিদ্ধান্তের ভিত্তি ও আরোহমূলক লম্ফের উপস্থিতির মধ্যে নিহিত।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও