উৎপাদন ব্যাবস্থাপনা ও বিপণন ১ম পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২৩
উৎপাদন ব্যাবস্থাপনা ও বিপণন ১ম পত্র প্রশ্ন
X তার বন্ধু Y কে নিয়ে চুক্তির ভিত্তিতে একটি ব্যবসার প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলে। এখানে শ্রমিকের দক্ষতা, যোগ্যতা ও সামর্থ্যের ভিত্তিতে তাদের মধ্যে কাজ বন্টন করে দেওয়া হয়। ফলে শ্রমিকরা সন্তুষ্টিতে তাদের দক্ষতার প্রয়োগ ঘটাতে পারে। বর্তমানে উক্ত প্রতিষ্ঠানে পণ্য বাজারে ব্যাপক চাহিদা সম্পন্ন হওয়ায় দুই বন্ধু চিন্তা করছেন যে, প্রতিষ্ঠানটিতে কৃত্রিম ব্যক্তিসত্তার অধিকারী ও নির্দিষ্ট আইনের দ্বারা গঠন করবেন।যেখানে আরও ব্যক্তিবর্গ ব্যবসায় সম্পৃক্ত হতে পারবে এবং ব্যবসার পরিধি সম্প্রসারিত হবে।
- ক)(1)
উৎপাদনশীল শ্রম কি?
- খ)(2)
উৎপাদনের কোন উপকরণটি উৎপাদিত উপাদান? ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকে শ্রমিকের দক্ষতার প্রয়োগ ঘটাতে শ্রমের কোন বিষয়কে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
X ও Y এর সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে তাদের ব্যবসায় যে সংগঠনের রূপ নেবে তার ভূমিকা মূল্যায়ন কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে শ্রমের মাধ্যমে বস্তুগত বা দৃশ্যমান উৎপাদন বৃদ্ধি পায় এবং প্রত্যক্ষভাবে অর্থনৈতিক উপযোগ সৃষ্টি হয়, তাকে উৎপাদনশীল শ্রম বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উৎপাদনের উপকরণগুলোর মধ্যে 'মূলধন' হলো উৎপাদিত উপাদান।
মানুষের শ্রমের দ্বারা উৎপাদিত যে অংশ সরাসরি ভোগের জন্য ব্যবহৃত না হয়ে পুনরায় ভবিষ্যতের উৎপাদন কাজে ব্যবহৃত হয়, তাকে মূলধন বলে। প্রকৃতিপ্রদত্ত উপাদানের মতো মূলধন স্বতঃস্ফূর্তভাবে পাওয়া যায় না; বরং অতীত উৎপাদনের সঞ্চিত ফল হিসেবে এটি সৃষ্টি হয়। তাই মূলধনকে উৎপাদনের একটি উৎপাদিত উপাদান (produced means of production) বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে শ্রমিকের দক্ষতার প্রয়োগ ঘটাতে শ্রমের 'শ্রমবিভাগ' (Division of Labour) বিষয়টিকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।
একটি সামগ্রিক উৎপাদন প্রক্রিয়াকে একাধিক ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশে বিভক্ত করে শ্রমিকের দক্ষতা, যোগ্যতা ও সামর্থ্য অনুযায়ী পৃথক পৃথক ব্যক্তির ওপর দায়িত্ব বণ্টন করাকে শ্রমবিভাগ বলে। এর ফলে শ্রমিকরা একই কাজ বারবার করার সুযোগ পায়, যা তাদের অভিজ্ঞতা ও কর্মদক্ষতা বহুগুণে বৃদ্ধি করে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, X ও Y-এর প্রতিষ্ঠানে শ্রমিকদের দক্ষতা, যোগ্যতা ও সামর্থ্যের ভিত্তিতে কাজ বণ্টন করে দেওয়া হয়। এর ফলে শ্রমিকরা সন্তুষ্টির সাথে তাদের দক্ষতার সর্বোচ্চ প্রয়োগ ঘটাতে সক্ষম হয়। সুতরাং, এখানে শ্রমের শ্রমবিভাগ ধারণাকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
X ও Y-এর সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে তাদের ব্যবসায়টি 'যৌথ মূলধনী কোম্পানি' বা কোম্পানি সংগঠনের রূপ নেবে। বৃহদায়তন ব্যবসায় এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে এর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আইন দ্বারা সৃষ্ট, কৃত্রিম ব্যক্তিসত্তা ও চিরন্তন অস্তিত্বের অধিকারী এবং সীমিত দায়বিশিষ্ট ব্যবসায় সংগঠনকে যৌথ মূলধনী কোম্পানি বলে। এ ধরনের প্রতিষ্ঠানে শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ পুঁজি সংগ্রহ করা যায় এবং ব্যবসায়ের পরিধি সম্প্রসারণ সম্ভব হয়।
উদ্দীপকে X ও Y বর্তমানে অংশীদারি ভিত্তিতে ব্যবসা পরিচালনা করছেন। তবে পণ্যের ব্যাপক চাহিদার কারণে তারা প্রতিষ্ঠানটিকে কৃত্রিম ব্যক্তিসত্তার অধিকারী এবং নির্দিষ্ট আইনের অধীনে গঠনের পরিকল্পনা করছেন, যাতে আরও বেশি ব্যক্তি যুক্ত হতে পারেন। এটি যৌথ মূলধনী কোম্পানির বৈশিষ্ট্য নির্দেশ করে।
কোম্পানি সংগঠন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলে প্রতিষ্ঠানটির ভূমিকা মূল্যায়ন নিম্নরূপ:
১. বিপুল মূলধন সংগ্রহ: শেয়ার ও ঋণপত্র বিক্রির মাধ্যমে অধিক মূলধন সংগ্রহ করে কারবার সম্প্রসারণ করা সম্ভব হবে।
২. কর্মসংস্থান বৃদ্ধি: উৎপাদন ও বিপণন পরিধি বৃদ্ধির ফলে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
৩. ঝুঁকি বণ্টন: অধিক সংখ্যক শেয়ারহোল্ডারের মধ্যে ব্যবসায়িক ঝুঁকি বণ্টিত হবে।
৪. জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান: উৎপাদন বৃদ্ধি পেলে ক্রেতাদের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব আয় ও জাতীয় আয় বৃদ্ধি পাবে।অতএব, X ও Y-এর এ রূপান্তর প্রতিষ্ঠানের প্রবৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে অত্যন্ত ইতিবাচক ও সুদূরপ্রসারী ভূমিকা রাখবে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও