‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০১৯

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

পরাধীন ভারতবর্ষে 'ক' নামের এক মেধাবী শিশুর জন্ম হয়।ছাত্রজীবনেই শিশুটি অসাধারণ মেধার পরিচয় দেয়। ছেলেবেলা থেকেই শিশুটি তাঁর এলাকার জমিদারদের দ্বারা কৃষক সমাজের অত্যাচারের দৃশ্য দেখে খুব কষ্ট পেত। বড় হয়ে শিশুটি আইনপেশা ও প্রত্যক্ষ রাজনীতির সাথে যুক্ত হয়। একসময় তিনি আইনসভার সদস্য, শিক্ষামন্ত্রী ও পরে মুখ্যমন্ত্রীর পদ অলংকৃত করেন এবং কৃষকদের মুক্তির জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।

  1. ক)

    দেশবন্ধু উপাধি দেওয়া হয় কাকে?

    (1)
  2. খ)

    তিতুমীর কেন বাঁশের কেল্লা স্থাপন করেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত নেতার সাথে তোমার পাঠ্যপুস্তকের কোন নেতার সাদৃশ্য আছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উক্ত নেতা ছিলেন "কৃষককুলের মুক্তির অগ্রদূত।"- উক্তিটি বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    চিত্তরঞ্জন দাশকে 'দেশবন্ধু' উপাধি দেওয়া হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ইংরেজ নীলকর ও স্থানীয় জমিদারদের অত্যাচার ও শোষণের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার সামরিক ঘাঁটি হিসেবে তিতুমীর নারিকেলবাড়িয়ায় বাঁশের কেল্লা স্থাপন করেন।

    জমিদারদের অন্যায় খাজনা আদায় এবং সাধারণ কৃষক ও প্রজাদের ওপর জুলুমের বিরুদ্ধে তিতুমীর সাধারণ মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করেন। ব্রিটিশ শাসক ও অত্যাচারী জমিদারদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আত্মরক্ষা ও প্রশিক্ষণের সুবিধার্থে ১৮৩১ সালে তিনি এই ঐতিহ্যবাহী দুর্গটি নির্মাণ করেছিলেন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত নেতার সাথে অবিভক্ত বাংলার অবিসংবাদিত নেতা শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হকের সাদৃশ্য রয়েছে।

    শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক ছাত্রজীবনে অসাধারণ মেধার স্বাক্ষর রাখেন এবং গণিত, রসায়নসহ উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে আইন পেশা ও রাজনীতিতে যোগ দিয়ে তিনি আজীবন সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ে কাজ করেন। তিনি অবিভক্ত বাংলার প্রথম প্রধানমন্ত্রী/মুখ্যমন্ত্রী এবং শিক্ষামন্ত্রী ছিলেন এবং কৃষক সমাজের মুক্তির জন্য আমৃত্যু সংগ্রাম করেছেন।

    উদ্দীপকের 'ক' নামের শিশুটিও মেধাবী ছাত্র ছিলেন, যিনি আইনপেশা ও রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে শিক্ষামন্ত্রী ও পরে মুখ্যমন্ত্রীর পদ অলংকৃত করেন এবং কৃষকদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখেন। এই দিকগুলো শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হকের জীবনের সাথে সম্পূর্ণ সাদৃশ্যপূর্ণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে নির্দেশিত নেতা শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক ছিলেন বাংলার দরিদ্র ও নিপীড়িত কৃষককুলের মুক্তির প্রকৃত অগ্রদূত—উক্তিটি যথার্থ।

    ব্রিটিশ শাসনামলে বাংলার সাধারণ কৃষক সমাজ মহাজন ও জমিদারদের চরম শোষণ ও সুদের জালে জর্জরিত ছিল। এ অবস্থা থেকে কৃষকদের মুক্ত করার জন্য ফজলুল হক ১৯৩৬ সালে 'নিখিল বঙ্গ প্রজা পার্টি'কে 'কৃষক প্রজা পার্টি'তে রূপান্তর করেন। ১৯৩৭ সালে অবিভক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী হয়ে তিনি কৃষকদের স্বার্থরক্ষায় ঐতিহাসিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।

    তিনি 'বঙ্গীয় প্রজাস্বত্ব আইন (সংশোধিত) ১৯৩৮' পাস করে কৃষকদের ওপর জমিদারদের অন্যায় কর ও সেলামি প্রথা বন্ধ করেন। মহাজনদের চড়া সুদের কবল থেকে দরিদ্র কৃষকদের রক্ষা করতে তিনি 'ঋণ সালিশি বোর্ড' গঠন করেন এবং ১৯৪০ সালে 'মহাজনি আইন' পাস করেন। এসব ব্যবস্থার ফলে বাংলার হাজার হাজার কৃষক ঋণমুক্ত হন এবং জমি ও ফসলের ওপর তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়। সুতরাং, তাঁর আজীবন সংগ্রাম ও গৃহীত সংস্কারমূলক পদক্ষেপের কারণে তাঁকে "কৃষককুলের মুক্তির অগ্রদূত" বলা সম্পূর্ণ যুক্তিযুক্ত।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন