বাংলা ১ম পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০১৭
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
ফয়জুল্লাহপুর একটি গ্রামীণ শহর। ধান-সুপারির মওসুমে এখানকার সকলের হাতেই টাকা-পয়সা থাকে। হাট-বাজারে থাকে লোকের ভীড়। এসময়ে ভিক্ষুকের আগমনও বেড়ে যায়। একদল ভিখারী হামাগুড়ি দেয় আর সুর করে 'আল্লা দে, আল্লা দেয়' বলে বলে ভিক্ষা চায়। তাদের বিচিত্র সুরে ফয়জুল্লাহপুরের মানুষের মন গলে, কেউ টাকা বা আধুলী ফেলে যায় থালায়। ব্যাপারটা এখানকার স্থানীয় ভিক্ষুকদের সহ্য হয় না। তারা লাঠিসোঁটা নিয়ে এদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।
- ক)(1)
ধলা মিয়া কে?
- খ)(2)
’’দলিল-দস্তাবেজ জাল হয়, কিন্তু খোদাতালার কালাম জাল হয় না'- একথার তাৎপর্য কী?
- গ)(3)
'লালসালু' উপন্যাসের কোন কোন ঘটনার সাথে উদ্দীপকের সাদৃশ্য রয়েছে- ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
মজিদের সাথে ফকিরদের উদ্দেশ্যগত মিল থাকলেও আচরণগত অমিল রয়েছে- মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ধলা মিয়া হলো খালেক ব্যাপারীর প্রথম পক্ষের স্ত্রীর (আমেনা বিবির) ভাই।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রশ্নোক্ত উক্তিটির মাধ্যমে মজিদ মানুষের অন্ধ ধর্মীয় বিশ্বাস ও কোরআনের প্রতি অবিচল শ্রদ্ধাবোধকে কাজে লাগিয়ে নিজের স্বার্থসিদ্ধি করতে চেয়েছিল।
উপন্যাসে মতলুব খাঁ যখন মিলাদের আয়োজন করে আউয়ালপুরের পীরকে দাওয়াত দেয়, তখন তার প্রভাব মহব্বতনগর গ্রামেও পড়তে শুরু করে। মজিদের আধিপত্য হুমকির মুখে পড়ে। খালেক ব্যাপারী জমিজমার পুরোনো এক দলিলের প্রসঙ্গ তুললে মজিদ মন্তব্য করে যে, মানুষের লেখা দলিল-দস্তাবেজ জাল হতে পারে, কিন্তু আল্লাহর কালাম বা বিধান কখনো জাল হতে পারে না। এর মধ্য দিয়ে মজিদ বোঝাতে চায় যে আল্লাহর বাণীর একমাত্র ধারক হিসেবে তার সিদ্ধান্তই প্রশ্নাতীত।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের সাথে সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর 'লালসালু' উপন্যাসে ভিনদেশি বা বহিরাগত পীরের আগমন এবং তার প্রতি স্থানীয় ধর্মব্যবসায়ী মজিদের ক্ষোভ ও আধিপত্য রক্ষার মানসিকতার সাদৃশ্য রয়েছে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, ধান-সুপারির ভরা মৌসুমে ফয়জুল্লাহপুরে বাইরে থেকে আসা ভিক্ষুকরা সুরেলা কণ্ঠে ভিক্ষা চেয়ে মানুষের হৃদয় জয় করে অর্থ উপার্জন করে। এতে তাদের প্রতিযোগী ভেবে স্থানীয় ভিক্ষুকরা ক্ষুব্ধ হয় এবং লাঠিসোঁটা নিয়ে আক্রমণ করে নিজেদের রোজগারের ক্ষেত্র রক্ষা করতে চায়।
'লালসালু' উপন্যাসেও মজিদ মহব্বতনগর গ্রামে ধর্মকে পুঁজি করে নিজের প্রতিপত্তি গড়ে তুলেছিল। পাশের আউয়ালপুর গ্রামে যখন আরেকজন বড় পীর আসে এবং মহব্বতনগরের মানুষও তার ভক্ত হতে শুরু করে, তখন মজিদ তার প্রভাব খর্ব হওয়ার শঙ্কায় ভেতরে ভেতরে ক্ষুব্ধ ও শঙ্কিত হয়ে পড়ে। উদ্দীপকের স্থানীয় ভিক্ষুকদের স্বার্থরক্ষা ও বহিরাগতদের ওপর আক্রমণাত্মক প্রতিক্রিয়ার সাথে মজিদের আউয়ালপুরের পীরের প্রতি বিরোধ ও নিজের স্বার্থ টিকিয়ে রাখার মানসিকতার দিকটি সুস্পষ্টভাবে সাদৃশ্যপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের বহিরাগত ভিখারি ও 'লালসালু' উপন্যাসের মজিদ উভয়ের মূল উদ্দেশ্য অর্থনৈতিক স্বার্থসিদ্ধি হলেও তাদের আচরণ ও কৌশলে বড় রকমের অমিল রয়েছে—মন্তব্যটি যথার্থ।
উদ্দীপকের ভিখারিরা সুর করে সরাসরি মানুষের সহানুভূতি ও ধর্মীয় অনুভূতির সুযোগ নিয়ে ভিক্ষা চেয়ে জীবিকা নির্বাহ করে। অন্যদিকে তাদের আক্রমণের শিকার হওয়া স্থানীয় ভিক্ষুকরা সরাসরি লাঠিসোঁটা দিয়ে দৈহিক শক্তি প্রয়োগ করে তাদের প্রতিহত করতে চায়। অর্থাৎ তাদের উদ্দেশ্য ও আচরণ দুটোই স্পষ্ট, প্রত্যক্ষ ও দৈহিক প্রকাশযুক্ত।
বিপরীতে 'লালসালু' উপন্যাসের মজিদের উদ্দেশ্যও পেটের ভাত ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, যা সে ধর্মকে ব্যবহার করে অর্জন করেছে। তবে মজিদের আচরণ ছিল অত্যন্ত ধূর্ত, সূক্ষ্ম ও মনস্তাত্ত্বিক। সে আউয়ালপুরের পীর বা তার অনুসারীদের ওপর সরাসরি লাঠিসোঁটা নিয়ে আক্রমণ করেনি; বরং সে ধর্মীয় সংস্কার, পাপ-পুণ্যের ভয় ও অন্ধবিশ্বাসের জাল বিছিয়ে গ্রামের মানুষদের নিয়ন্ত্রণ করেছে। পীরের প্রভাবে খালেক ব্যাপারীর স্ত্রীর সন্তান কামনায় পানি পড়ার বিষয়টি মজিদ চাতুর্যের সাথে নস্যাৎ করে দেয় এবং মতলুব খাঁর সাথে মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্বে লিপ্ত হয়।
সুতরাং দেখা যায়, উদ্দীপকের ভিক্ষুকদের এবং মজিদের মূল লক্ষ্য বেঁচে থাকার জন্য অর্থনৈতিক সুবিধা হলেও ভিক্ষুকদের আচরণ প্রত্যক্ষ ও সরল, আর মজিদের আচরণ অত্যন্ত কপট, ধূর্ত ও গভীর চক্রান্তমূলক। তাই প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি সম্পূর্ণ যুক্তিযুক্ত।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও