জীববিজ্ঞান ১ম পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২৩

জীববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

ডায়াবেটিসের চিকিৎসায় জৈব প্রযুক্তি ব্যবহার করে উৎপাদিত এক ধরনের হরমোন ব্যবহার করা হয়। এ ধরনের প্রযুক্তির অবদান অপরিসীম।

  1. ক)

    প্লাসমিড কি?

    (1)
  2. খ)

    কেলাস বলতে কি বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে হরমোন তৈরির প্রক্রিয়াটি চিহ্নিত চিত্রের মাধ্যমে দেখাও।

    (3)
  4. ঘ)

    সর্বশেষ বাক্যটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ব্যাকটেরিয়ার কোষে ক্রোমোজোমবহির্ভূত স্ব-প্রজননশীল, দ্বিসূত্রক ও বৃত্তাকার ডিএনএ অণুকে প্লাসমিড (Plasmid) বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    টিস্যু কালচার প্রক্রিয়ায় উপযুক্ত পুষ্টি মাধ্যমে এক্সপ্লান্ট (উদ্ভিদের যেকোনো বিভাজনক্ষম অংশ) স্থাপন করার পর কোষের অনিয়ন্ত্রিত বিভাজনের ফলে সৃষ্ট অবয়বহীন, অবিকশিত ও অবিভেদিত কোষপুঞ্জকে কেলাস (Callus) বলে। এ কোষগুলো পরবর্তীতে উপযুক্ত হরমোনের প্রভাবে ভ্রূণ ও পূর্ণাঙ্গ উদ্ভিদে রূপান্তরিত হতে পারে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে ডায়াবেটিসের চিকিৎসায় জৈব প্রযুক্তি ব্যবহার করে উৎপাদিত হরমোনটি হলো 'ইনসুলিন'। রিকম্বিন্যান্ট ডিএনএ (rDNA) প্রযুক্তির মাধ্যমে মানব ইনসুলিন উৎপাদনের ধাপসমূহ চিহ্নিত চিত্রের সাহায্যে তুলে ধরা যায়:

    ১. মানুষের অগ্ন্যাশয়ের বিটা-কোষ থেকে কাঙ্ক্ষিত ইনসুলিন জিন পৃথকীকরণ।
    ২. পোষক ব্যাকটেরিয়া (E. coli) থেকে প্লাসমিড ডিএনএ পৃথকীকরণ এবং ভেক্টর হিসেবে নির্বাচন।
    ৩. রেস্ট্রিকশন এনজাইম দ্বারা প্লাসমিড ডিএনএ এবং ইনসুলিন জিনের নির্দিষ্ট অংশ কর্তন।
    ৪. ডিএনএ লাইগেজ (DNA Ligase) এনজাইম প্রয়োগ করে প্লাসমিডের সাথে ইনসুলিন জিন যুক্ত করে রিকম্বিন্যান্ট প্লাসমিড তৈরি।
    ৫. ট্রান্সফরমেশন প্রক্রিয়ায় রিকম্বিন্যান্ট প্লাসমিডটিকে পোষক E. coli ব্যাকটেরিয়ার ভেতরে প্রবেশ করানো।
    ৬. ফার্মেন্টারে ট্রান্সফরমড ব্যাকটেরিয়ার দ্রুত বংশবৃদ্ধি ঘটানো এবং জিন এক্সপ্রেশনের মাধ্যমে বাণিজ্যিকভাবে ইনসুলিন তৈরি ও নিষ্কাশন।

    [পরীক্ষার্থীদের খাতায় মানব কোষ থেকে ইনসুলিন জিন এবং ব্যাকটেরিয়া থেকে প্লাসমিড কর্তন, লাইগেশন দ্বারা রিকম্বিন্যান্ট ডিএনএ গঠন এবং পোষক কোষে প্রবেশ করিয়ে ক্লোনিং ও ইনসুলিন আহরণের একটি পরিচ্ছন্ন প্রবাহচিত্র বা চিহ্নিত চিত্র উপস্থাপন করতে হবে।]

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের সর্বশেষ বাক্যটি হলো: "এ ধরনের প্রযুক্তির অবদান অপরিসীম"—এখানে জৈবপ্রযুক্তি তথা রিকম্বিন্যান্ট ডিএনএ প্রযুক্তির (Genetic Engineering) গুরুত্ব ও অবদান নির্দেশ করা হয়েছে, যা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

    ১. চিকিৎসা ক্ষেত্রে অবদান:

    • ইনসুলিন উৎপাদন: পূর্বে গরু ও শূকরের অগ্ন্যাশয় থেকে ইনসুলিন সংগ্রহ করা হতো, যা মানুষের শরীরে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করত। বর্তমানে rDNA প্রযুক্তিতে স্বল্প খরচে ও বৃহৎ পরিসরে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন বিশুদ্ধ মানব ইনসুলিন প্রস্তুত করা হচ্ছে।
    • ইন্টারফেরন ও গ্রোথ হরমোন তৈরি: ভাইরাল সংক্রমণ প্রতিরোধে ইন্টারফেরন এবং বামনত্ব প্রতিরোধে মানব বৃদ্ধির হরমোন বাণিজ্যিকভাবে তৈরি হচ্ছে।
    • ভ্যাকসিন ও অ্যান্টিবায়োটিক: হেপাটাইটিস-বি সহ বিভিন্ন জটিল রোগের রিকম্বিন্যান্ট ভ্যাকসিন এবং কার্যকরী অ্যান্টিবায়োটিক তৈরিতে এ প্রযুক্তি ব্যবহৃত হচ্ছে।

    ২. জিন থেরাপি:
    বংশগত ও জটিল রোগ (যেমন- ক্যান্সার, থ্যালাসেমিয়া) নিরাময়ে ত্রুটিপূর্ণ জিন প্রতিস্থাপন করে সুস্থ জিন সংযোজনের কাজে জিন থেরাপি প্রয়োগ করা হচ্ছে।

    ৩. কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা:
    কীটপতঙ্গ প্রতিরোধী (যেমন: বিটি তুলা, বিটি বেগুন), প্রতিকূল পরিবেশসহনশীল (খরা, লবণাক্ততা) এবং পুষ্টিসমৃদ্ধ (যেমন: গোল্ডেন রাইস) ট্রান্সজেনিক উদ্ভিদ সৃষ্টি করে বিশ্বের খাদ্য সংকট নিরসনে বিপ্লব ঘটছে।

    ৪. পরিবেশ সংরক্ষণ:
    তেলদূষণমুক্তকরণ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় জেনেটিক্যালি মডিফাইড অণুজীবের প্রয়োগ পরিবেশ সুরক্ষায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।

    সুতরাং, চিকিৎসা, কৃষি, শিল্প ও পরিবেশের প্রতিটি ক্ষেত্রে সামগ্রিক মানবকল্যাণে জৈব প্রযুক্তির অবদান নিঃসন্দেহে অপরিসীম।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন