সাহিত্য পাঠ • সাম্যবাদী • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০১৯
সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন
সব লোকে কয় লালন কী জাত সংসারে?- লালন কয়, জাতের কী রূপ, দেখলাম না এ নজরে। কেউ মালা কেউ তসবি গলায়, তাইতো কী জাত ভিন্ন বলায়, যাওয়ার কিংবা আসার বেলায়, জাতের চিহ্ন রয় কার রে।
- ক)(1)
মুসলমান, খ্রিস্টান ও ইহুদি সকলের জন্য পুণ্যস্থান কী?
- খ)(2)
"এই হৃদয়ের চেয়ে বড়ো কোনো মন্দির-কাবা নাই।"- বুঝিয়ে লেখো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে বর্ণিত 'মালা' ও 'তসবি' 'সাম্যবাদী' কবিতার কোন বিষয়গুলোর কথা স্মরণ করিয়ে দেয়? আলোচনা করো।
- ঘ)(4)
"অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রেক্ষাপটে উদ্দীপক ও 'সাম্যবাদী' কবিতা অভিন্ন"- মন্তব্যটির সার্থকতা বিচার করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মুসলমান, খ্রিস্টান ও ইহুদি সকলের জন্য পুণ্যস্থান হলো জেরুজালেম।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"এই হৃদয়ের চেয়ে বড়ো কোনো মন্দির-কাবা নাই"— চরণটির মাধ্যমে মানুষের পবিত্র অন্তর বা হৃদয়ই যে সকল বাহ্যিক উপাসনালয়ের চেয়ে শ্রেষ্ঠ ও পবিত্রতম স্থান, সেই সত্যকে তুলে ধরা হয়েছে।
কাজী নজরুল ইসলামের 'সাম্যবাদী' কবিতায় মানবসত্তার মহিমাকে সর্বোচ্চ স্থান দেওয়া হয়েছে। কবি মনে করেন, স্রষ্টার প্রকৃত রূপ বা পরম সত্যকে উপলব্ধি করার জন্য কোনো কৃত্রিম মন্দির, মসজিদ, গির্জা বা কাবার আনুষ্ঠানিকতার প্রয়োজন নেই। মানুষের নির্মল হৃদয়ই হলো পরমেশ্বরের শ্রেষ্ঠ আবাসস্থল। মানুষ যখন অন্তরের অহংকার, ধর্মীয় ভেদাভেদ ও সংকীর্ণতা দূর করে হৃদয়ের সত্যকে উপলব্ধি করতে পারে, তখনই স্রষ্টার সান্নিধ্য মেলে। তাই কবি বাহ্যিক উপাসনালয়ের চেয়ে মানবহৃদয়কে মহত্তর বলে ঘোষণা করেছেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত 'মালা' ও 'তসবি' 'সাম্যবাদী' কবিতার বাহ্যিক ধর্মীয় প্রতীক, আচারসর্বস্বতা এবং ধর্মীয় ভেদাভেদের কৃত্রিম বিভাজনরেখাকে স্মরণ করিয়ে দেয়।
'সাম্যবাদী' কবিতায় কবি কাজী নজরুল ইসলাম মানুষের ধর্মীয় সংকীর্ণতা ও ধর্মাচারের অন্ধ অনুশাসনকে সমালোচনা করেছেন। মানুষ কুরআন, পুরাণ, বেদ, বেদান্ত, বাইবেল বা উপাসনালয়ের বাহ্যিক শাস্ত্রপাঠ ও বিধিনিষেধ নিয়ে বিভেদ সৃষ্টি করে পরম মানবতাকে ভুলে যায়। কিন্তু নজরুল দেখিয়েছেন, এই বাহ্যিক ধর্মীয় আচার ও উপাচার মানুষের আসল পরিচয় হতে পারে না; মানুষের প্রধান পরিচয় সে মানুষ।
উদ্দীপকের লালন সাঁইয়ের গানে 'মালা' (হিন্দু ধর্মের জপমালা) ও 'তসবি' (ইসলাম ধর্মের তসবিহ) হলো বিভিন্ন ধর্মের মানুষের পরিচিতিমূলক বাহ্যিক প্রতীক, যা মানুষকে জাত বা সম্প্রদায়ের ভিত্তিতে আলাদা হিসেবে চিহ্নিত করে। অথচ জন্ম বা মৃত্যুর সময় এই বাহ্যিক প্রতীকের কোনো অস্তিত্ব থাকে না। 'সাম্যবাদী' কবিতাতেও ধর্ম ও শাস্ত্রের এই কৃত্রিম ও বাহ্যিক বিভাজনকে প্রত্যাখ্যান করে মানুষের অন্তর্গত অভিন্ন মানবসত্তাকে সত্য বলে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। সুতরাং, 'মালা' ও 'তসবি' মানুষকে বিভক্তকারী সেই বাহ্যিক আনুষ্ঠানিকতার কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রেক্ষাপটে উদ্দীপক ও 'সাম্যবাদী' কবিতা অভিন্ন"— মন্তব্যটি সর্বাংশে সত্য ও যথার্থ।
উদ্দীপকের বাউল সাধক লালন শাহ মানুষের তৈরি জাত-পাত, ধর্ম ও সামাজিক ভেদাভেদকে তীব্রভাবে অস্বীকার করেছেন। তাঁর দৃষ্টিতে মানুষের কোনো দৃশ্যমান 'জাত' নেই। জন্ম কিংবা মৃত্যুর চূড়ান্ত সময়ে মানুষ কেবলই মানুষ; সেখানে তসবি, মালা বা কোনো ধর্মীয় জাতের চিহ্ন থাকে না। এভাবে উদ্দীপকে অসাম্প্রদায়িক ও সার্বজনীন মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ পেয়েছে।
একইভাবে, কাজী নজরুল ইসলামের 'সাম্যবাদী' কবিতার মূল সুর হলো সকল ধর্ম, বর্ণ, গোত্র ও সম্প্রদায়ের ঊর্ধ্বে উঠে মানবতার জয়গান গাওয়া। কবি মন্দির, মসজিদ, গির্জা কিংবা ধর্মগ্রন্থের বাহ্যিক আবরণ পেরিয়ে মানবহৃদয়কে সর্বোচ্চ তীর্থস্থান হিসেবে ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেছেন— "মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই, নহে কিছু মহীয়ান"। কবির মতে, হিন্দু, বৌদ্ধ, মুসলিম বা খ্রিস্টান পরিচয়ের চেয়েও বড় সত্য হলো আমরা সবাই মানুষ।
অতএব, উদ্দীপক ও 'সাম্যবাদী' কবিতা উভয়েই সাম্প্রদায়িক ভেদবুদ্ধি, জাত-পাতের মিথ্যা আভিজাত্য এবং ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার অসারতাকে বর্জন করে নিখাদ মানবপ্রেম ও অসাম্প্রদায়িক মানবতাবোধকে পরম সত্য হিসেবে তুলে ধরেছে। তাই ভাবগত ও চেতনার দিক থেকে উদ্দীপক ও 'সাম্যবাদী' কবিতা সম্পূর্ণ অভিন্ন।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও